এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আবারও শুরু হয়েছে মুষলধারে ভারী বর্ষণ। বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক নিমেষেই তলিয়ে গেছে পানির নিচে, যার ফলে চরম চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং নিয়মিত ক্লাস স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে নগরের ইস্পাহানি সি-গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক চেনা ভোগান্তির চিত্র। সেখানকার সড়কগুলোতে প্রায় হাঁটুপানি জমে গেছে। সেই নোংরা ও জমে থাকা পানি মাড়িয়েই ধীরগতিতে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় সকাল সকাল যারা অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, তাদের ভোগান্তি ছিল আকাশচুম্বী। নিরুপায় হয়ে ছাতা আর রেনকোট গায়ে জড়িয়েই গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে কর্মস্থলগামী মানুষদের।এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। আর এই সুযোগে পকেট কাটছেন চালকেরা। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দু-একটি রিকশা বা অটোরিকশা পাওয়া গেলেও চালকেরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই অতি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।চট্টগ্রাম আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে শুধু রোববার সকাল ৯টার আগের ১২ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার। তিনি আরও জানান, এই বৃষ্টি এখনই থামছে না, বরং আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এভাবে বৃষ্টিপাত চলতে পারে।পটভূমি ও আগের চিত্র: চট্টগ্রামের মানুষের জন্য জলাবদ্ধতা নতুন কিছু না হলেও এবারের পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। মাত্র কয়েকদিন আগেই, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এক দিনে জুলাই মাসের হিসেবে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছিল। সেই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টির কারণে নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ভেসে যায়। রাস্তাঘাট তো বটেই, মানুষের বাসাবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেও পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় পানি নেমে গিয়েছিল এবং মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে নতুন করে শুরু হওয়া এই ভারী বৃষ্টিতে আবারও ডুবতে শুরু করেছে শহরটি, যা বাসিন্দাদের মনে নতুন করে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আতঙ্ক তৈরি করেছে।সবমিলিয়ে, প্রকৃতির এই বৈরী রূপ আর অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার খেসারত দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের সাধারণ নাগরিকদের। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টি আরও বাড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়েই এখন ভাবছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা।
অনলাইন জরিপ
দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ আর নেই। থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।ব্যবসা, নারী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশে যে কয়েকজন মানুষের নাম আলাদা করে উচ্চারিত হয়, সেলিমা আহমাদ ছিলেন তাদের একজন। বিশেষ করে হাজার হাজার নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় করানোর যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচয় এনে দেয়।পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহল, নারী উদ্যোক্তা সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ব্যবসায়িক নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পরিচিতি১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী সেলিমা আহমাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপান, ডেনমার্ক, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ লাভ করেন।তিনি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অটোমোবাইল, সিমেন্ট, কাগজ, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন তিনি।নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেনসেলিমা আহমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা। ২০০১ সালে তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠন দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়।তার নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, বাজারসংযোগ ও ব্যবসায়িক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নারীদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী প্রথমবারের মতো ব্যবসা শুরু করার সাহস পেয়েছিলেন সেলিমা আহমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরামর্শ থেকে।ব্যাংকিং খাত ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকাশুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও সক্রিয় ছিলেন সেলিমা আহমাদ। তিনি জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।অর্থনীতিবিদদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ব্যবসা ও অর্থনীতির বিভিন্ন ফোরামে তিনি নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছেন।রাজনীতিতেও ছিল সক্রিয় উপস্থিতিব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও যুক্ত হন সেলিমা আহমাদ। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।সংসদে তিনি নারী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখসেলিমা আহমাদের কর্মজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি আসে ২০১৪ সালে। সে বছর তিনি অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বেস্ট বিজনেস উইমেন, প্রিয়দর্শিনী এবং বিজনেস এক্সপ্রেস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।কেন তার মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা আন্দোলন আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে কয়েকজন পথপ্রদর্শকের অবদান রয়েছে। সেলিমা আহমাদ ছিলেন সেই অগ্রগামীদের অন্যতম।তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রচেষ্টা। অনেক ক্ষেত্রে তিনি শুধু প্রশিক্ষণ দেননি, বরং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দরজাও খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে নারীদের ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনো অর্থায়ন, বাজারসংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেলিমা আহমাদের মতো নেতৃত্বের অভাব ভবিষ্যতে আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণবাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসে খুব কম মানুষই আছেন, যারা একই সঙ্গে করপোরেট নেতৃত্ব, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সেলিমা আহমাদ সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি চারটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন।গুরুত্বপূর্ণ দিক• বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নারী বাণিজ্য সংগঠন বিডব্লিউসিসিআই প্রতিষ্ঠা করেন• হাজার হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তার সুযোগ করে দেন• নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শিল্প খাতে নেতৃত্ব দেন• আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেনসাধারণ মানুষের ভাবনাবাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা যখন বলা হয়, তখন শুধু নীতিমালা নয়, প্রয়োজন হয় বাস্তব নেতৃত্বের। সেলিমা আহমাদের জীবন দেখিয়েছে—একজন মানুষের উদ্যোগ হাজারো মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। তার মৃত্যুতে অনেকেই মনে করছেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শুরু করা কাজগুলো আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সেটিই হবে তার প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সলঙ্গা থানাধীন চরিয়া এলাকায় RAB-12-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা রাজশাহীগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।পুলিশের বক্তব্যঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন Md. Aslam Ali।তিনি জানান, “সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।”তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ Hatikumrul Highway Police Station-এ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কদুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাস চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বাসটি খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ করেই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।”আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না।”সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নসাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে।বিশেষ করে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থাপুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উপসংহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। মুহূর্তের অসতর্কতা বা বেপরোয়া গতি কত দ্রুত কয়েকটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার আরেকটি নির্মম উদাহরণ।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগে উত্তেজনা, ঢাকায় বিক্ষোভে নামে এনসিপিঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।বিকেলে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে এনসিপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। মিছিলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি ছিলেন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।এদিকে ঝিনাইদহের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কে বা কারা হামলায় জড়িত ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়ী করেনি প্রশাসন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।জুমার নামাজ শেষে হঠাৎ উত্তেজনাপ্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঠিক সেই সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।এর মধ্যেই পেছন দিক থেকে কয়েকজন যুবক ডিম নিক্ষেপ করে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে দলটি।তবে হামলার পেছনে কারা ছিল বা এটি পরিকল্পিত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঢাকায় প্রতিবাদ মিছিল, ক্ষোভ নেতাকর্মীদেরঝিনাইদহের ঘটনার পর বিকেলেই রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় এনসিপি। দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখাতেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ভাষা আবারও সামনে চলে আসছে। মত প্রকাশ বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দিতে হামলা, হুমকি কিংবা অপমানের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের দাবি।যদিও অভিযুক্ত পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।রাজনীতিতে উত্তেজনার নতুন বার্তা?বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মুখোমুখি অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক সহনশীলতার বর্তমান অবস্থাকেও সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান থেকে বের হওয়ার পর এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক মতভেদ যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রকাশ্য অপমানের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সেটি শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়, সামাজিক অসহিষ্ণুতারও ইঙ্গিত দেয়। তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ও বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে বলেও মত তাদের।‘ডিম নিক্ষেপ’ কেন বড় বার্তা হয়ে উঠছেবাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ডিম নিক্ষেপ বা জুতা নিক্ষেপকে অনেক সময় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ঘটনায় উত্তেজনা ও সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হেয় করার প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা বাস্তব ঘটনাতেও রূপ নেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।এই ঘটনার ভিডিও বা ছবি যদি সামনে আসে, তাহলে সেটি আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেসবুকে এ নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলছেন, আবার কেউ এটিকে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখছেন।তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঘটনার পরপরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও এখনো প্রকাশ করেনি এনসিপি।রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠলে সাধারণত দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি ওঠে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত দীর্ঘ হয় এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে প্রকৃত তথ্য আড়ালেই থেকে যায়—এমন অভিযোগ নতুন নয়।এ কারণে ঝিনাইদহের ঘটনাটিও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। না হলে এটি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সামনে কী হতে পারে?ঘটনার পর এনসিপি আরও কর্মসূচি দিতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে মাঠের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, ততই স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষ চাইছে ভিন্ন কিছু—সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ। কারণ রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরই।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে : খোরশেদ আলমসাভারে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক বড় রাজনৈতিক মিলনমেলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেছেন, “ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও দলীয় সংহতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে।নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় জমে ওঠে আয়োজনস্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে এটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের মিলনমেলায় রূপ নেয়। আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম।অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।‘ভোট ও ভাতের অধিকারের রাজনীতি করে বিএনপি’প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে এসেছে। তার দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দলটি অতীতেও আন্দোলনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।তিনি বলেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল। মাঠের কর্মীরা সক্রিয় থাকলে যে কোনো আন্দোলন সফল করা সম্ভব। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি নয়, ঐক্য প্রয়োজন।”একই সঙ্গে তিনি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শ্রেণির মানুষ দীর্ঘদিন নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।খোরশেদ আলম বলেন, “মৎস্যজীবীরা শুধু শ্রমজীবী মানুষ নন, তারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার অংশ। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”তৃণমূল সংগঠন নিয়ে নতুন বার্তাসভায় বক্তারা বারবার তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলগুলো জনসম্পৃক্ততা হারাতে শুরু করে।সভাপতির বক্তব্যে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মৎস্যজীবী দল কেবল একটি অঙ্গসংগঠন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হবে।”তিনি আরও জানান, সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তরুণদের সম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুত্বশুভেচ্ছা বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।তিনি বলেন, “তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে গণতান্ত্রিক চর্চাও বাড়বে।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তৃণমূলকে সক্রিয় করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।কেন বাড়ছে তৃণমূল ঐক্যের আলোচনারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে অনেক সময় সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে এখন ‘ঐক্য’ শব্দটি বারবার সামনে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছে।সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় থাকলে তা সামাজিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সহিংসতা কমে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকে।সম্মাননা স্মারক দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানদীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে সাভার পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
দেশে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে রাতের ঢাকায় এনসিপির মশাল মিছিলরাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে, তখন সেই ক্ষোভের আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার রাজপথেও। মশাল হাতে শতাধিক নেতা–কর্মী রাতের অন্ধকারে স্লোগান তুললেন—“তনু-রামিসা-আছিয়া, বিচার থাকে ঝুলিয়া।” ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের এই কর্মসূচি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। পরে সেটি বাংলামোটর, কাওরান বাজার ও শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় শাহবাগ মোড়ে। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা–কর্মীরা বিভিন্ন সময় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।‘শুধু প্রতিবাদ নয়, নিরাপত্তার দাবিও’মিছিল শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো মানুষের মনে ভয় তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য, পল্লবীর শিশুটি থেকে শুরু করে ক্যান্টনমেন্টের তনু, বসুন্ধরার মুনিয়া কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের নানা ঘটনায় সাধারণ মানুষ এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক অপরাধ চাপা পড়ে যায় বলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলে আলাদা “যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল” গঠনের আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বানসমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সাদিয়া ফারজানা দিনা। তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, সমাজে নারীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন দরকার।তাঁর মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশ—সব জায়গাতেই নারীদের সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারীকে দুর্বল বা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা বন্ধ না হলে অপরাধ কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, যুবশক্তির পশ্চিম অঞ্চলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তুহিনসহ আরও কয়েকজন নেতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর।কেন বাড়ছে এমন প্রতিবাদ?সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়মিতভাবেই বাড়ছে। যদিও অনেক ঘটনায় মামলা হয়, তবে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। এই বিচার বিলম্বই মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজনৈতিক দলগুলোও এখন বিষয়টিকে বড় সামাজিক সংকট হিসেবে সামনে আনছে। এনসিপির এই মশাল মিছিলকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মিছিলের ভিডিওমশাল মিছিলের ভিডিও ও ছবি রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে অনেকেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ লেখেন, “শুধু মিছিল নয়, বাস্তব বিচার দেখতে চাই।” আবার অনেকে রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের অবস্থানকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন।তবে সামাজিক মাধ্যমে একাংশের ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলো কতটা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিবাদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ কি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে?সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো অপরাধের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার না হলে সমাজে এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা যায়। এতে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ পর্যবেক্ষণও জরুরি। কারণ, অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে এবং অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সহিংস মানসিকতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে নারী অধিকারকর্মীদের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা, মামলা পরিচালনায় জটিলতা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতা অনেক সময় বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। ফলে অনেক পরিবার শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশা হারিয়ে ফেলে।শাহবাগে শেষ হয় মিছিল, থেকে যায় প্রশ্নরাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশাল মিছিল শেষ হয় শাহবাগে। ধীরে ধীরে সড়ক ফাঁকা হয়ে যায়, কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—দেশে আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার কবে দৃশ্যমান হবে? রাজপথের প্রতিবাদ হয়তো একদিন শেষ হয়, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অপেক্ষা শেষ হয় না—এমন মন্তব্যও শোনা গেছে অংশ নেওয়া কয়েকজনের মুখে। তাদের দাবি, বিচার শুধু আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সমাজেও এমন বার্তা পৌঁছাতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করা হয়েছে: শফিকুর রহমানদেশের বিচার বিভাগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার সরব হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল, তবে সাম্প্রতিক এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।‘স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু’ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছেন, “স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু! আর তা ঘটানো হয়েছে কেবল গতকালই। বার্তা স্পষ্ট, বিচারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠা করা।”তিনি আরও দাবি করেন, সরকার একসময় বিচার বিভাগকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উল্টো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “এই সরকারই বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল।”রাজনৈতিক মহলে তার এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা ছাড়া চূড়ান্ত মন্তব্যে যাওয়া ঠিক হবে না।কী এই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিতর্ক?বিচার বিভাগীয় সচিবালয় মূলত বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা রাখার একটি কাঠামো হিসেবে পরিচিত। আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য জরুরি।সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই কাঠামো বিলুপ্ত বা পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাদেশে আগেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এসব বিষয় প্রায়ই আলোচনায় এসেছে। নতুন এই ঘটনাও সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনাশফিকুর রহমানের পোস্ট প্রকাশের পর ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন।বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ বিচার বিভাগ নিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ দূর করা জরুরি।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক বক্তব্য যাচাই ছাড়াই প্রচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিভ্রান্তি এড়াতে দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।কেন বারবার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে আসে?বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা একটি সংবেদনশীল ইস্যু। সরকার পরিবর্তনের সময় বা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পর প্রায়ই বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়।বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষ আদালতকে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে। তাই বিচার বিভাগ নিয়ে সামান্য বিতর্কও দ্রুত জনমনে প্রভাব ফেলে। যদি কোনো পক্ষ মনে করে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে, তখন আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন মনে করে বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্বাস কমে যায়। এতে সামাজিক হতাশা বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হতে পারে।সরকারের বক্তব্য এখনো মেলেনিএ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় সচিবালয় নিয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিষয়টি সামনে আরও আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত।এদিকে শফিকুর রহমান তার পোস্টের শেষ অংশে লিখেছেন, “এই অপসংস্কৃতিকে ঘৃণা করি। এর পরিবর্তন একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।” তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং সামনের দিনগুলোতে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।