বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার করলেও এখনও প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের তরুণদের উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক নতুন কাজ ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা দিচ্ছে।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন সংগঠন Junior Chamber International (জেসিআই) আয়োজিত এক কার্নিভালে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণদের ভূমিকা, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেন তিনি।বক্তব্যে তিনি বলেন, Bangladesh Liberation War–এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।তিনি আরও বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। একই সঙ্গে অনেক মানুষ এখনও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত—যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।তবে শুধু সমস্যার কথা নয়, ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় যে দেশ খাদ্য ঘাটতিতে ভুগত, সেই বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। কৃষি খাতের এই পরিবর্তন দেশের জন্য বড় অর্জন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে, দেশের অনেক তরুণ এখন চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করছে। কেউ কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলছে, কেউ নতুন ধরনের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে এবং নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জেসিআই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই ধরনের সংগঠন তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে এবং তাদের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে যুক্ত হতে উৎসাহ দেয়—যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক একটি দিক।পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে কাজ করে। বাংলাদেশেও সংগঠনটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো অনেক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান এবং মানসম্মত শিক্ষার মতো বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সমস্যা যেমন আছে, তেমনি সম্ভাবনাও কম নয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে সামনে এগিয়ে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি এখন নিজেই যেন চিকিৎসার প্রয়োজন এমন অবস্থায় রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য সরাইল উপজেলায় মাত্র একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। অথচ এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এই হাসপাতালের অবকাঠামো, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো দিক থেকেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, “হাসপাতালটা নিজেই এখন একটা রোগীর মতো।”তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মচারীর তীব্র সংকট চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে আছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের মোট ৬৪টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।সংসদ সদস্য বলেন, শুধু জনবল নয়, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধেরও ঘাটতি রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাবও স্পষ্ট। এতে করে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে জেলা শহর বা ঢাকার হাসপাতালের দিকে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরাইল উপজেলা হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেই নির্মাণকাজ এখন বন্ধ হয়ে আছে। ফলে নতুন ভবনের সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত এলাকাবাসী। বর্তমানে হাসপাতালের পুরোনো দোতলা ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে।স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সরাইল উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি বড় ও জনবহুল উপজেলা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন এবং তাদের প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালটি প্রত্যাশিত মানের সেবা দিতে পারছে না।বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব হাসপাতালের মাধ্যমে মাতৃসেবা, শিশুচিকিৎসা, টিকাদান কর্মসূচি এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাব থাকলে এই সেবাগুলো ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক।সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মাধ্যমে সরাইল উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল চিত্রটি নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণ করবে এবং বন্ধ হয়ে থাকা ভবন নির্মাণের কাজ আবার শুরু হবে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন এবং কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাকে ঘিরে নতুন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের দেওয়া বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক—এমন দাবি করেছেন একজন ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট খাতের সাবেক সংগঠনপ্রধান মো. ইমদাদুল হক মোল্লা।রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন। মামলাটি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে।জবানবন্দিতে ইমদাদুল হক জানান, তিনি অপ্টিমেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের পরিচালক এবং ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে ওই সময়ের ঘটনাগুলো সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগে। ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে দেশের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে। পরে রাত ৯টার দিকে সারা দেশে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।ইমদাদুল হক জানান, ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ ধাপে কাজ করে। এর আগে থাকে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টোরিয়াল কোম্পানি (আইটিসি)। তারা আইআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তখনই তারা বুঝতে পারেন এটি কোনো কারিগরি সমস্যা নয়, বরং সরকারের সিদ্ধান্তে সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আসেন। সেখানে উপস্থিত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীরা দ্রুত সেবা চালুর অনুরোধ জানান। তখন পলক জানান, রাতের মধ্যেই ইন্টারনেট চালু হবে।কিন্তু একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন যে ডাটা সেন্টারে আগুন লাগার কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলে মনে হয়েছে বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন ইমদাদুল হক। তার ভাষায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগলেও কোনো ডাটা সেন্টারে আগুন লাগেনি। কিছু জায়গায় অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল পুড়ে গেলেও সারা দেশের ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়।প্রসঙ্গত, দেশে ইন্টারনেট অবকাঠামো সাধারণত একাধিক স্তরে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ, গেটওয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে পুরো নেটওয়ার্ক সচল থাকে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়া সাধারণত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভব হয় না বলে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।এছাড়া অতীতেও বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশে আংশিক বা পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নজির রয়েছে। তবে প্রতিবারই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এই সাক্ষ্য এখন মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে আগ্রহও বাড়ছে।
রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর মধ্যে একটি “অলিখিত সমঝোতা” তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের আহতদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে—এমন কথাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন। এমনকি দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।সারজিস আলম বলেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন জামিনে বেরিয়ে আসছে। তার দাবি, এসব ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আহতরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে হুমকিও পাচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো সংস্কার করার বদলে নিজেদের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এই কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।বিএনপির প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তাও দেন সারজিস। তিনি বলেন, যদি বিএনপি মনে করে তারা বিরোধী দলের কবর খুঁড়বে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবে, তাহলে সেই কবরে সবার আগে তাদেরই জায়গা হবে। তার এই বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে বেশ আলোড়ন দেখা যায়।মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবার ও আহতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রলোভনে বিভক্ত হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শহীদ পরিবার বা আহতদের কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দেখা গেলে আন্দোলনের মূল চেতনা দুর্বল হয়ে যাবে। তাদের সবসময় জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেও যদি কখনো জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত গণআন্দোলনগুলোর একটি, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। এই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আন্দোলনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের বিষয়টি তখন থেকেই আলোচনায় রয়েছে।এদিকে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সারজিস আলমের এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত দেখা দিলেও বিষয়টি যে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘চায়না নর্দান এয়ারলাইন্স’-এর একটি ফ্লাইটে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি চীনের পথে যাত্রা করে।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই সফরটি চীন সরকারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক সফর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ। তার নেতৃত্বে এই সফরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা অংশ নিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরকালে পারস্পরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।এই প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন আলতাব হোসেন চৌধুরী, নাজমুল হক নান্নু, মো. শামসুজ্জামান, এস এম আসাদুজ্জামান রিপন, বেবী নাজনীন, খাইরুল কবির খোকন, হাবিবুর নবী খান সোহেল, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কামরুজ্জামান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সাঈদ আল নোমান, মনোয়ার হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, সানজিদা ইসলাম, কামাল আনোয়ার আহমেদ, মো. ইউনুস আলী, মো. আমানুল্লাহ এবং মীর সোলায়মান।দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের সময় চীনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ এবং বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি ধারা আগে থেকেই রয়েছে। এই ধরনের সফর সাধারণত ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করে।অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা চীন সফর করেছেন এবং সেখানে দলীয় সংগঠন পরিচালনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবারের সফরটিকে দেখা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।দলের পক্ষ থেকে এখনো সফরের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিনের এই সফরে প্রতিনিধি দলটি বেইজিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সফর করবে এবং একাধিক বৈঠকে অংশ নেবে। সামগ্রিকভাবে এই সফরকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফর শেষে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ নিয়ে করা আপিলের শুনানি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ষষ্ঠ দিনের মতো আজও নির্বাচন কমিশনে ১০০টি আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে, যা নিয়ে প্রার্থী ও রাজনৈতিক মহলে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়। আজকের তালিকায় রয়েছে ৩৮১ থেকে ৪৮০ নম্বর পর্যন্ত মোট ১০০টি আপিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চালিয়ে যাবেন।এর আগে বুধবার পঞ্চম দিনের শুনানিতে আরও ১০০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। ওই দিন ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়, ১৭টি নামঞ্জুর করা হয় এবং ১০টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এতে করে এখন পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে।ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে, ৮১টি আপিল বাতিল হয়েছে এবং ২৩টি আপিল বিভিন্ন কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, অনেক প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন।নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর আপিল এবং অপেক্ষমাণ কিছু আপিলের শুনানি হবে। এরপর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর আপিল এবং রোববার (১৮ জানুয়ারি) শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।এবারের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩০০ আসনে জমা দেওয়া ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধেই এসব আপিল করা হয়েছে।বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার পুরো দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশনের ওপর। মনোনয়ন যাচাই–বাছাই এবং আপিল শুনানি নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকায় অনেক প্রার্থী শেষ মুহূর্তে আবার নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসতে পারেন। অতীত নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, আপিল শুনানির মাধ্যমে বেশ কিছু প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ফলে এই প্রক্রিয়াকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়। সব মিলিয়ে আপিল শুনানির শেষ পর্যায়ে এসে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আপিল নিষ্পত্তি হলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পথ আরও পরিষ্কার হবে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি আনবে বলে ম
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ কারণে তাকে এই মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু দেশের মানুষ নয়, বিশ্বের মানুষের কাছেও আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হোক বা সাধারণ মানুষ—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।এর আগে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি তুলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারীনীতির কিছু বিষয় পরিবর্তনের আহ্বান। ওই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লাখো কওমি আলেম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশকে ঘিরে ওই দিন মতিঝিল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।পরে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালিয়ে সমাবেশকারীদের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই অভিযানে কতজন নিহত বা আহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে তখন থেকেই নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলাদা মতামত দেয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত একটি বিশেষ আদালত। সাধারণত বড় ধরনের সহিংসতা, গণহত্যা বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে এই ট্রাইব্যুনাল বিচার প্রক্রিয়া চালায়। তাই শাপলা চত্বরের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হওয়ায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষ হলে এই মামলায় আরও কারা অভিযুক্ত হতে পারেন, সেটিই এখন সবার নজরে রয়েছে।