দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

আদালত প্রাঙ্গণে নারী সাংবাদিকের ওপর হামলা: নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন, এনজেইউসি’র তীব্র প্রতিবাদ

রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এক নারী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে থাকা আদালত ভবনের বারান্দায় দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত কাজে অবস্থানরত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলাই নয়, বরং আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।ঘটনার পর জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (এনজেইউসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।কী ঘটেছিল আদালতের বারান্দায়?অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় ৬ নম্বর আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই। তার স্বামী সৈয়দ শাহ নেওয়াজ হোসেনের দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।রক্তাক্ত জখম, হাসপাতালে চিকিৎসাহামলার ফলে সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষির আঘাতে তার নাক ও উপরের ঠোঁট রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং একটি দাঁত নড়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।পরে তার স্বামী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।থানায় অভিযোগ, তদন্তের দাবিঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, একজন নারী সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।সংগঠনটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম.এম. আজিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম রণি এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সিসিটিভি ফুটেজে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যএনজেইউসি নেতৃবৃন্দ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের মতে, আদালত এলাকায় সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত।একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।কেন উদ্বেগ বাড়ছে?সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে আদালত চত্বরের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার কাজ করেন। এ কারণে অনেক সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংঘাত বা সহিংস আচরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক সহনশীলতার সংকট, আইনের প্রতি উদাসীনতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, জনপরিসরে নিরাপদ ও সম্মানজনক আচরণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিযোগিতার নতুন লড়াইয়ে বাংলাদেশ: ২০২৬–২৭ বাজেট কি বদলে দিতে পারবে অর্থনীতির গতি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এবার শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলেই চলবে না; বরং এমন একটি বাজেট প্রয়োজন, যা দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে, বিনিয়োগ টানবে এবং ডিজিটাল ও লজিস্টিক্স ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের সমন্বয়ই আগামী দিনের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।ব্যয় কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জবাংলাদেশে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দেশে লজিস্টিক্স ব্যয় মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। উন্নত অর্থনীতিতে যেখানে এই হার প্রায় অর্ধেক, সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখনও পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন।বিশেষজ্ঞদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, রেলপথে কন্টেইনার পরিবহনের সীমিত সুযোগ এবং আধুনিক গুদাম ব্যবস্থার অভাব দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে ধীর করে দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন বাজেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোর, পায়রা ও মাতারবাড়ী বন্দরের সংযোগ অবকাঠামো, ড্রাই পোর্ট এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এতে শুধু রপ্তানি নয়, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হতে পারে।সড়কের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর তাগিদবর্তমানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সড়কপথে। এতে সময় ও খরচ—দুইই বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কে যানজট, জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবহন বিলম্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।এই বাস্তবতায় রেলভিত্তিক কন্টেইনার পরিবহন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহারে প্রণোদনার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দীর্ঘমেয়াদে লজিস্টিক্স খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলগুলোতে আলাদা লজিস্টিক্স জোন তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলের কাছে গুদাম, কাস্টমস সেবা ও দ্রুত পরিবহন সুবিধা থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই গতি বাড়বে।ডিজিটাল গভর্নেন্সে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশাব্যবসা নিবন্ধন, কর, ভ্যাট কিংবা কাস্টমস সেবার অনেক কিছুই এখন অনলাইনে হলেও পুরো ব্যবস্থায় এখনও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তথ্যভান্ডার একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় ব্যবসায়ীদের বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এবার বাজেটে সমন্বিত ডিজিটাল গভর্নেন্সকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারি সেবাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পাশাপাশি ডাটা শেয়ারিং ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডিজিটাল প্রশাসন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশাসনিক ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে কর আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব ফাঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।রাজস্ব বাড়ানোর নতুন পথ খুঁজছে সরকারবাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু করের হার বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন সম্ভব নয়। বরং কর প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করা বেশি জরুরি।এক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক কর নিরীক্ষা, ই-ইনভয়েসিং এবং স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট ব্যবস্থার মতো উদ্যোগের কথা সামনে আসছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা চালু হলে কর ফাঁকি কমবে এবং রাজস্ব আদায় আরও বাড়তে পারে।তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি অংশ সতর্ক করে বলছে, নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত না হলে ছোট উদ্যোক্তারা চাপে পড়তে পারেন।প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবার ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ৫জি অবকাঠামো, জাতীয় ডাটা সেন্টার, ক্লাউড সেবা ও সাইবার নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।স্টার্টআপ ও ফিনটেক উদ্যোক্তাদের দাবি, নতুন বাজেটে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী খাতের জন্য কর সুবিধা এবং ভেঞ্চার ফান্ড গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন খাত তৈরি হতে পারে।তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজবাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে কোনো ধাক্কা এলে পুরো অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়ে।এই ঝুঁকি কমাতে ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ সহায়তার প্রস্তাব উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং ডিজিটাল ট্রেড সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অপ্রচলিত রপ্তানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।বাস্তবায়ন নিয়ে থেকেই যাচ্ছে প্রশ্নবাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে ব্যয় বাড়ে, আবার কাঙ্ক্ষিত সুফলও পাওয়া যায় না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না; বাস্তবায়নের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।তারা বলছেন, প্রকল্প মনিটরিং, ই-গভর্নেন্সভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং সরকারি ক্রয়ে ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অপচয় ও দুর্নীতি কমতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের কার্যকারিতাও বাড়বে।দক্ষ জনশক্তি ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় শক্তি হলেও দক্ষতার ঘাটতি এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি শিক্ষা, AI, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এবং সাইবার নিরাপত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণে বাজেটে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সামাজিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাবিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা শুধু বড় ব্যবসা বা রপ্তানি বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। পরিবহন ব্যয় কমলে পণ্যের দাম কমতে পারে, ডিজিটাল সেবা বাড়লে দুর্নীতি ও হয়রানি কমতে পারে, আর প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়লে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।উপসংহার২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি শুধু স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর রূপরেখা হয়ে উঠবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, লজিস্টিক্স উন্নয়ন, ডিজিটাল গভর্নেন্স, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেওয়া গেলে বাংলাদেশ আগামী দশকের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

সাংবাদিকতার সংকটের ‘নাই’ তালিকা: নিরাপত্তা, আয় ও মর্যাদাহীনতায় উদ্বেগ, ১৪ দফা দাবিতে ঐক্যের আহ্বান

দেশের সাংবাদিকতা পেশায় আবারও উঠে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা। পেশাগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আর্থিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতির অভিযোগ তুলে এবার সামনে এসেছে ‘নাই’-এর দীর্ঘ তালিকা। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ঘিরে এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।গণমাধ্যম সপ্তাহে উত্থাপিত বাস্তব চিত্রজাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৪ দফা কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন Bangladesh Mofussil Journalists Forum-এর পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর দেশের সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থাকে “সংকটপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।পেশাগত সুবিধায় বড় ঘাটতিবিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সাংবাদিকদের জন্য এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস বা তালিকা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি রয়েছে— নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর অভাব নিয়মিত ভাতা ও বোনাসের অনিশ্চয়তা অবসরকালীন পেনশন সুবিধার ঘাটতি বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার সীমাবদ্ধতা এছাড়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সহায়তার ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগসাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে পেশাগত নিরাপত্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সাংবাদিক হুমকি, মামলা বা হামলার শিকার হন।একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিক বলেন, “সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করলে শুধু নিজের নয়, পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে যায়।”এছাড়া সাংবাদিকরা নিজে বাদী হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগও রয়েছে।সামাজিক ও পারিবারিক সংকটশুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক বিষয়েও অনেককে সংগ্রাম করতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।‘নাই’-এর তালিকা ও পেশাগত বাস্তবতাবিবৃতিতে যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সাংবাদিকতা পেশার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা এসব সমস্যায় বেশি ভোগেন বলে দাবি করা হয়।এ বিষয়ে আয়োজকরা বলেন, “এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব চিত্র।”১৪ দফা দাবি ও আসন্ন সমাবেশএই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ১৪ দফা দাবিতে আগামী ৭ মে ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।আয়োজকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু দাবি জানানোর প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।গণমাধ্যম খাতে প্রভাবের শঙ্কাবিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি অনিরাপদ হয়, তাহলে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে যায়।”তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধি পেতে পারে।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসাংবাদিক সংগঠনগুলো মনে করছে, একটি সুসংহত নীতিমালা প্রণয়ন এবং সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।ব্যালান্সড অবস্থানএই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহার জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহে প্রকাশিত সাংবাদিকদের ‘নাই’-এর তালিকা শুধু অভিযোগ নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকটের সমাধান দিতে।

গণমাধ্যমে সংস্কারের ডাক: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের জোরালো দাবি সমাবেশের প্রস্তুতি

দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পরিবর্তনের নতুন বার্তা নিয়ে রাজধানীতে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পুরোনো ধাঁচের সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় এসব কথা বলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।গণমাধ্যমে নতুন যুগের আহ্বানশোভাযাত্রায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। “ব্যাঙের ছাতার মতো” অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠা হলে সাংবাদিকতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন মন্তব্যও উঠে আসে তাদের বক্তব্যে।তারা দাবি করেন, গণমাধ্যমকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে সাংবাদিক নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করতে হবে প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করে পুনর্গঠন করতে হবে নেতৃবৃন্দের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।ফ্যাক্ট-চেক ছাড়া সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে সতর্কতাঅনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া খবর প্রকাশ করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।একজন বক্তা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি। দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ পরিবেশন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।”আইন সংস্কার ও তথ্য কমিশনের দাবিতথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নতুন করে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিডিয়া নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।তাদের ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের।”১৪ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজঅনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো: সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া আগামী ৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব দাবিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বউদ্বোধনী শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন— ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, অশোক ধর, বীথি মোস্তফা, ফাতেমা আক্তার, শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা, যারা এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।হামলার শিকার সাংবাদিকের আবেগঘন বর্ণনাশোভাযাত্রায় অংশ নেন ফরিদপুরে হামলার শিকার এক সাংবাদিকও। তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল থেকে সরাসরি এসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।তিনি জানান, কিভাবে দুর্বৃত্তদের হামলায় তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তার এই বর্ণনা উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলবে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ। এর মধ্যে রয়েছে— উদ্বোধনী শোভাযাত্রা কেক কাটা অনুষ্ঠান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সাংবাদিক প্রশিক্ষণ “মিট দ্য প্রেস” প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং ৭ মে দাবি সমাবেশ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।বিশ্লেষণ: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলন?বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া খবর ও অপেশাদার সাংবাদিকতার ঝুঁকিও।এই পরিস্থিতিতে— পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি আইনি সুরক্ষা —এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নযদিও এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহারগণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে চায় দেশের সাংবাদিক সমাজ। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে কেন্দ্র করে যে দাবি ও আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এই খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এসব দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সোচ্চার সংবাদকর্মীরা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংবাদকর্মীরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন এবং হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির অবসানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকরা।সম্প্রতি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকরা এভাবে অনিরাপদ থাকতে পারেন না। তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে গিয়ে তারা নানাভাবে বাধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ও ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ অসহায় হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, অতীতেও অনেক সাংবাদিককে তাদের দায়িত্ব পালনের সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, কিন্তু তার অনেক ঘটনারই সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা আইন এবং নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বহু পুরনো। এর আগেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের ওপর হওয়া হামলার বিচার এবং কাজের পরিবেশ নিরাপদ করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগলে বা কোনো অনিয়মের সত্য তুলে ধরলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়। এটি কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং এটি মানুষের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।সাংবাদিকরা মনে করেন, একটি স্বাধীন দেশের শক্তিশালী স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। আর এই গণমাধ্যমকে যদি ভয়ভীতিহীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়, তবে সমাজের সব স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসবে। তাই কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রকে এখন কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।উপসংহারে বলা যায়, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত একটি সুস্থ ও স্বচ্ছ সমাজ গড়া সম্ভব নয়। আশা করা যাচ্ছে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর এই সম্মিলিত কণ্ঠস্বর ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এবং সাংবাদিকদের কাজের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

নির্যাতন বন্ধে নতুন কমিটি: সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে আসছে কেন্দ্রীয় পরিষদ

ঢাকায় নতুন করে গঠিত হতে যাচ্ছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। এরই অংশ হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী আজগর ইমন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এক ভার্চুয়াল সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠিত এই অনলাইন সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের সাংবাদিকরা যুক্ত হন। সভা শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যেই এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আরও শক্তভাবে কাজ করবে।সভাপতি হিসেবে মনোনীত আহমেদ আবু জাফর একজন অনলাইন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকায় তারা দুজনই এই সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই ১৫১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এই কমিটিতে শুধু সাংবাদিক নয়, সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে যুক্ত করা হবে। আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং মানবাধিকারকর্মীরাও এতে থাকবেন। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি মূলত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি বা হামলার ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা দেওয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি শাখা কমিটি গঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি ও মামলার শিকার হন। সেই প্রেক্ষাপটে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা একত্রিত হন।বাংলাদেশে অতীতেও সাংবাদিক নির্যাতনের নানা ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই এমন একটি সংগঠন গড়ে ওঠা অনেকের কাছে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হয়।সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে থাকতে চান না, বরং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে চান। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা তৈরি, প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা। সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি একটি বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয় এবং দেশের সাংবাদিকরা কতটা উপকৃত হন। তবে শুরুটা আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষা: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কী বদলেছে, কী এখনো বাকি

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সকাল সাড়ে ৮টার কিছু পর। ঢাকার পাশে সাভারের একটি ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ করেই ধসে পড়ে একটি বহুতল ভবন। মুহূর্তেই বদলে যায় হাজারো মানুষের জীবন। Rana Plaza collapse আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটি ছিল মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহারযোগ্য একটি স্থাপনা। সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা, একটি শপিং মল এবং একটি ব্যাংকের শাখা চালু ছিল। ধসের সময় ভবনের ভেতরে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভবনটি ভেঙে পড়ার পর কয়েকদিন ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১,১৩৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ২,৪৩৮ জনকে। এদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষ গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এলেও সাম্প্রতিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১,১৩৫ থেকে ১,১৩৮ জনের মধ্যে। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব অনিয়মের চিত্র। ভবনটির অনুমোদন ছিল পাঁচ থেকে ছয় তলা পর্যন্ত, কিন্তু মালিক সোহেল রানা বেআইনিভাবে আরও কয়েকটি তলা নির্মাণ করেন। নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল একটি ভরাট করা জলাভূমির ওপর, যা বহুতল ভবনের জন্য মোটেই উপযুক্ত ছিল না।ধসের আগের দিন, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। একজন প্রকৌশলী ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। তবুও কারখানার মালিক ও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে। পরদিন সকালে জেনারেটর চালু করার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। অনেকের মতে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা আর লোভের ফল।ঘটনার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। সবচেয়ে গুরুতর মামলা ছিল হত্যার অভিযোগে, যেখানে ভবন মালিকসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়। তবে এক যুগ পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতিতে চলছে। শত শত সাক্ষীর মধ্যে অল্প কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। অনেক আসামি এখনো জামিনে বা পলাতক রয়েছেন।ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ছিল জটিল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করা। প্রায় ২৯টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এতে অংশ নেয়। প্রায় ৩,০০০ ভুক্তভোগীকে এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অনেকের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট ছিল না এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল।এই ট্র্যাজেডির পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। ‘অ্যাকর্ড’ এবং ‘অ্যালায়েন্স’ নামে দুটি সংস্থা তৈরি হয়, যারা কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। তারা প্রায় ২,০০০ কারখানা পরিদর্শন করে ঝুঁকি চিহ্নিত করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮১ শতাংশ ঝুঁকি কমানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং লাখ লাখ শ্রমিককে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশই নারী। রানা প্লাজার আগে তাজরীন ফ্যাশনসের আগুনসহ আরও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দেয়।তবে অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো অনেক কারখানায় নিরাপত্তা ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বড় শিক্ষা। এটি দেখিয়েছে, অবহেলা ও অনিয়মের মূল্য কত ভয়াবহ হতে পারে। এক যুগ পরও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায়। এই ঘটনার স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা।

নোয়াব বৈঠকের সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ ঘিরে আলোচনা: ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা?

প্রধানমন্ত্রী ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের বৈঠকের একটি সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খাবারের তালিকা থেকে শুরু করে সরকারের ব্যয়নীতির দিক—সবকিছু নিয়েই বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈঠক ঘিরে নতুন আলোচনার জন্মসম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে Newspaper Owners Association of Bangladesh–এর সদস্যরা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সাধারণত এই ধরনের বৈঠককে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়।বৈঠক শেষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।মধ্যাহ্নভোজে কী ছিল?প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকের খাবারের তালিকা ছিল বেশ সাধারণ। সেখানে পরিবেশন করা হয়—সাদা ভাত, সবজি, লাউ-চিংড়ি, ডিমের তরকারি এবং শেষে দই।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সাধারণত যেসব আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন প্রত্যাশা করা হয়, তার তুলনায় এই আয়োজন ছিল ব্যতিক্রমীভাবে সাদামাটা।ব্যয় সংকোচনের নতুন নীতিসরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আগের তুলনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে জনপ্রতি খাবারের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা ছিল, তা এখন কমিয়ে প্রায় ১৫০ টাকার মধ্যে আনা হয়েছে।এই পরিবর্তনকে শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং একটি নীতিগত বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে—যেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্তব্যবৈঠকে এক পর্যায়ে কিছু সম্পাদক মন্ত্রীদের অসন্তোষের প্রসঙ্গ তুললে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, তিনি নিজেও কিছু সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।এই বক্তব্যকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তিগত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সিদ্ধান্তগুলো সবার ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য।সরকারি নীতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তনসাম্প্রতিক সময়ে সরকার বেশ কয়েকটি ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি প্লট বরাদ্দে কঠোরতা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা সীমিতকরণ ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এই পদক্ষেপগুলোকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণবিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে তারা বলছেন, শুধুমাত্র ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যয় সংকোচন যদি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সাদাসিধে জীবনযাপন বহুবার আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের সংযমী জীবনধারা জনগণের কাছে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান ব্যয় সংকোচনের নীতিকে কেউ কেউ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যয় সংকোচনের নীতি টেকসই করতে হলে এটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব দুর্বল হয়ে যেতে পারে।একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, “সংযমী নীতি ভালো, কিন্তু সেটি যদি নিয়ম ও কাঠামোর মাধ্যমে নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”গণমাধ্যমে আলোচনানোয়াব বৈঠকের সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের নতুন দর্শনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি নিছক একটি সাধারণ আয়োজন হলেও এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা অতিরঞ্জিত হচ্ছে।উপসংহারসব মিলিয়ে, নোয়াব বৈঠকের একটি সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন শুধু খাবারের বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ব্যয়নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক বার্তার প্রতীকী আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংযমী ব্যয়নীতি কতটা বাস্তবে টিকে থাকে এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন আনে।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম
পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

প্রেস রিলিজ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে NUB Film and Photography Club-এর উদ্যোগে ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

বনানীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কঠোর অবস্থানে ওয়ার্ড আহ্বায়ক কবির হোসেন

ঈদের নাটক ‘ওয়ারিশ’ নিয়ে চমক, পরিবার ও সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্পে তারিক আনাম-তৌসিফ

খালি পেটে মিষ্টি নয়—রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা

ময়মনসিংহে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, নারীসহ একাধিক আহত, লুটপাটের দাবি

বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ লিটনের খপ্পরে নিঃস্ব বিধবা নারী রেশমি :থানায় অভিযোগ

আশকোনায় হাজি স্কুলের পাশে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, বড় নাশকতা থেকে রক্ষা পেলো বিমানবন্দর এলাকা

১০

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জনপ্রিয় সব খবর

বলিউডকে ‘ভেড়ার পাল’ বলে কটাক্ষ কারিনার, ‘অ্যানিম্যাল’ হিটের পর অন্ধ অনুকরণের অভিযোগ

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু

কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ বাজারে, জানা গেল মডেলগুলোর দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমল ২ হাজার ১৫৮ টাকা

গাজায় খাদ্য সংকট তীব্র, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু

১০

শৈলকুপায় বাস-স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় রেললাইনের ওপর থাকা এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী রাহাত গুরুতর আহত হয়েছে।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কান্তি দে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নিহত হন। শিশুটিও আহত হয়েছে।দেলোয়ার হোসেন মিন্টু পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং নিহত ব্যক্তি ও আহত শিশুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।অন্যদিকে আহত রাহাতকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার আব্দুল মালেকের বাসার মো. ফারুকের ছেলে।রাহাতের বাবা মো. ফারুক জানান, জুমার নামাজের পর তার ছেলে ২০ টাকা নিয়ে চটপটি খেতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ট্রেনের ধাক্কায় তার গুরুতর আহত হওয়ার খবর পান তারা।ছেলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফারুক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় তার ছেলে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কীভাবে শিশুটি রেললাইনে উঠেছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ট্রেনের সামনে পড়েন, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।রেললাইনের আশপাশে শিশুদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।গুরুত্বপূর্ণ দিকট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন।আহত শিশুটির বয়স ১০ বছর।শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মিন্টু নিহত হন বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য।আহত শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত মিন্টু পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।রেললাইন কোনোভাবেই চলাচল বা খেলার নিরাপদ জায়গা নয়। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার রেললাইনের পাশে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে আহত শিশুটির দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, রেললাইনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে। যেসব এলাকায় মানুষের নিয়মিত চলাচল রয়েছে, সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক

কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোবারক সরদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে ওই কিশোরীকে কৌশলে নিজের বসতঘরে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে মোবারকের বিরুদ্ধে। সে সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করা হয়। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।কয়েক দিন আগে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় কিশোরীর বাড়িতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত না থাকলেও তার পক্ষের কয়েকজন ছিলেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোবারক কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, ঘটনার কারণে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন। তিনি থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।গুরুত্বপূর্ণ দিকভুক্তভোগী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী।ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।স্থানীয়দের মারধরের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া তার ওপর দ্বিতীয়বার মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বা পরিচয় ছড়িয়ে না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়া জরুরি।অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় সালিসের বদলে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শিশু হলে তার পরিচয় গোপন রাখা এবং ভিডিওটি আর ছড়িয়ে না দেওয়া—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শৈলকুপায় বাস-স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫

শৈলকুপায় বাস-স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাত্রীবাহী বাস ও স্যালো ইঞ্জিনচালিত খড়িবোঝাই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়দাহ ব্রিজ এলাকায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। এতে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পদ্মা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল।রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসটি বড়দাহ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা স্যালো ইঞ্জিনচালিত খড়িবোঝাই একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের পর বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরাপপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।দুর্ঘটনার কারণে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।আরাপপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাহানুর আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ধীরগতির ও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের সংঘর্ষ নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে রাতে এসব যানবাহন চলাচলের সময় দৃশ্যমানতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে অনুপযুক্ত যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সতর্কতা এবং যানবাহনের দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।গুরুত্বপূর্ণ দিকদুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে।স্থান: শৈলকুপার বড়দাহ ব্রিজ এলাকা, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক।বাস ও খড়িবোঝাই স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। একটি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে অনেক যাত্রী আহত হওয়ায় দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।রাতের সড়কে বড় যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির স্থানীয় যান চলাচল করলে চালকদের জন্য সামনে থাকা যান শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ওই সড়কের যান চলাচল ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা দরকার।

মহাখালীতে এসকে শপিং মলের পেছনে পুরোনো ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৩ ইউনিট

মহাখালীতে এসকে শপিং মলের পেছনে পুরোনো ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৩ ইউনিট

রাজধানীর মহাখালীর রেলগেট এলাকায় একটি পুরোনো ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।এখন পর্যন্ত আগুনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, মহাখালীর রেলগেট এলাকায় ব্রিটিশ টোবাকো এসকে শপিং মলের পেছনে একটি পুরোনো ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে।খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এছাড়া আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছিল।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবনটি পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি এবং আগুনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।গুরুত্বপূর্ণ দিকমহাখালীর রেলগেট এলাকায় পুরোনো ভবনে আগুনফায়ার সার্ভিস খবর পায় বেলা ১১টা ১২ মিনিটেআগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৩টি ইউনিটএখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নিআগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নিঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় আগুন লাগলে আশপাশের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হয় এবং উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি না করাই গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চলাচলের পথ খালি রাখলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ দ্রুত করা সম্ভব হয়।বিশেষ পর্যবেক্ষণ: পুরোনো ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ, দাহ্য বস্তু এবং কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক

গাজায় খাদ্য সংকট তীব্র, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

গাজায় খাদ্য সংকট তীব্র, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

গাজায় যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু ধ্বংসস্তূপে নয়, মানুষের প্রতিদিনের খাবারের থালাতেও স্পষ্ট। ফিলিস্তিনি সরকারের তথ্য দফতর অভিযোগ করেছে, প্রয়োজনীয় খাদ্যের বড় একটি অংশ গাজায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।তাদের দাবি, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছে তারা।তবে এসব সংখ্যা ও অভিযোগ ফিলিস্তিনি তথ্য দফতরের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ প্রবেশে নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে থাকে। সাম্প্রতিক রয়টার্স প্রতিবেদনে গাজায় জ্বালানি ও ইঞ্জিন অয়েলের তীব্র সংকট এবং হাসপাতালগুলোর ওপর তার প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে।গাজায় খাদ্য সংকটকে আলাদা কোনো সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। খাবারের পাশাপাশি পানি, জ্বালানি, চিকিৎসা ও বিদ্যুতের ঘাটতি মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও ইঞ্জিন অয়েলের ঘাটতির কারণে হাসপাতালগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রোগীর চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।ফলে খাদ্য সরবরাহ কমে গেলে শুধু ক্ষুধার সমস্যা তৈরি হয় না; একটি পরিবারের আয়, চিকিৎসা, শিশুদের পুষ্টি এবং নিরাপদ পানির সুযোগ—সবকিছু একসঙ্গে চাপে পড়ে।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক জনগণকে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহারে রাখা নিষিদ্ধ। ১৯৭৭ সালের জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রোটোকল-১-এর ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বেসামরিক জনগণের অনাহারকে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খাদ্য, কৃষিজমি, ফসল ও পানির মতো বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ধ্বংস বা অকার্যকর করাও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ।আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ICRC) আরও বলছে, বেসামরিক জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে সংঘাতের পক্ষগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে কি না, সেটি নির্ধারণ করতে প্রমাণ, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তাই রাজনৈতিক অভিযোগকে সরাসরি চূড়ান্ত আইনি রায় হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।ফিলিস্তিনি তথ্য দফতরের বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তৈরি করে গাজার মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলা হচ্ছে। তাদের দাবি, এর একটি উদ্দেশ্য হতে পারে মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা।এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যপ্রাপ্তি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা—তিনটি বিষয় একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ কোনো পরিবার যদি খাবার, পানি বা চিকিৎসার নিরাপদ সুযোগ না পায়, তখন তারা বাধ্য হয়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।অন্যদিকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে গাজায় সরবরাহ প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও হামাসের কাছে সামরিকভাবে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী পৌঁছানো ঠেকানোর যুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্ভরযোগ্য রিপোর্টেও এই অবস্থানের উল্লেখ রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ দিকফিলিস্তিনি তথ্য দফতর গাজায় প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রবেশে বাধার অভিযোগ করেছে।তাদের দাবি, ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে।খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও সংকটের খবর রয়েছে।আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক জনগণকে অনাহারে রাখা যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে নিষিদ্ধ।যুদ্ধের রাজনৈতিক হিসাবের বাইরে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো বেসামরিক মানুষের জীবন ও মৌলিক প্রয়োজন। শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও বাস্তুচ্যুত মানুষ যাতে খাবার, পানি ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়—এটি নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় দায়িত্ব।মানবিক সহায়তা নিয়ে বিরোধ থাকলে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব, অন্যদিকে সহায়তার অপব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও যাচাই করা যায়।গাজার সংকটকে শুধু ‘খাবার ঢুকছে কি না’—এই একটি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। খাবার প্রবেশের পর সেটি কার হাতে যাচ্ছে, বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটা, জ্বালানি ও পানি পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং শিশুদের পুষ্টির অবস্থা কী—এসব সূচক একসঙ্গে দেখা দরকার।এই কারণেই গাজার মানবিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে নিয়মিত, স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ যেমন তদন্তের আওতায় থাকা দরকার, তেমনি বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থাও দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

১১ ঘন্টা আগে

আইন-বিচার

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতে, মামলার তদবির করতে এবং শুনানির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ আসছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগের সর্বস্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে প্রধান বিচারপতির কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।বার সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদবির, লিস্টে মামলা ওঠানো, শুনানি এবং কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আইনজীবীদের কাছ থেকে এসেছে।মাহবুবউদ্দিন খোকনের অভিযোগ, হাইকোর্ট বিভাগে মামলার শুনানির তালিকায় মামলা আনতে যেমন অনিয়মের কথা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একই ধরনের অভিযোগ এসেছে আপিল বিভাগ নিয়েও।তিনি প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের সব আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।তার বক্তব্য, অন্য কোথাও দুর্নীতি থাকতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির বিচার হয় সুপ্রিম কোর্টে। তাই বিচারপ্রার্থীদের মামলা পরিচালনার জন্য যদি বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করতে হয় বা অর্থ দিতে হয়—তা অত্যন্ত দুঃখজনক।বার সভাপতি বলেন, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতে যেসব অনিয়ম হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যেসব জুডিশিয়াল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।এ সময় তিনি অতীতে রাজনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠা কয়েকজন বিচারপতির বিষয়েও কথা বলেন। তার দাবি, তাদের আচরণ ও কনডাক্ট বিবেচনা করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তবে এসব বক্তব্য মূলত বার সভাপতির অভিযোগ ও দাবি। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি বা কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে আসন্ন অবকাশকালীন ছুটির পর আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছেন মাহবুবউদ্দিন খোকন।প্রয়োজনে নতুন বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, মামলার চাপ কমাতে দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।সম্প্রতি মামলায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক নবীন আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা কস্ট আরোপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতি মাহবুবউদ্দিন খোকনের বাদানুবাদ হয়।মঙ্গলবার প্রকাশ্য আদালতে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিচারাঙ্গন ও আইনজীবী মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।এর পরদিন জাতীয় সংসদেও বিষয়টি ওঠে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন।জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের বিষয়। তবে আদালতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে বিচারাঙ্গনের অনিয়মের পাশাপাশি আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেন বার সভাপতি।সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী টিনশেড স্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি সেটি উচ্ছেদের দাবি করেন। তার অভিযোগ, আইনজীবীদের বসার ও চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা নেই।এক মাসের মধ্যে ওই স্থাপনা সরানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।আদালতে বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মাহবুবউদ্দিন খোকন।তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে তিনি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে কথা বলবেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন।অ্যাটর্নি জেনারেল আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ছিলেন উল্লেখ করে তার প্রশ্ন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।গুরুত্বপূর্ণ দিকসুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বার সভাপতি।মামলা তদবির, শুনানি ও কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তাকে ঘিরেও অভিযোগের কথা বলেছেন তিনি।হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অনিয়ম বন্ধে প্রধান বিচারপতির পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে আপিল বিভাগে অন্তত তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।সম্প্রতি বার সভাপতি ও প্রধান বিচারপতির বাদানুবাদের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।বিচারপ্রার্থীদের কাছে আদালত হলো ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়। তাই মামলা শুনানির তালিকায় ওঠা বা শুনানি দ্রুত করানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি। কারণ বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু অভিযোগ নয়, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা আছে কি না। মামলা তালিকাভুক্তি ও শুনানির প্রক্রিয়া যত বেশি নিয়মভিত্তিক, ডিজিটাল ও পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে, ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগ তত কমতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত না করাও বিচারিক ন্যায্যতার অংশ।

১০ ঘন্টা আগে

রাজনীতি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সতর্কতারিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে অনিয়ম বা অপকর্মে জড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি গঠনমূলক কাজে যুক্ত হয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগবর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী দাবি করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করছে। তাঁর দাবি, জনগণের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মোকাবিলা করেই দল এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বক্তব্যস্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী জানান, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ওপর থাকবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ দিক দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি। নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান। দলীয় শৃঙ্খলাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন রিজভী। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকার কথা জানিয়েছেন তিনি।  কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ?রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অনিয়মে জড়ালে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; দলের ভাবমূর্তিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে দলীয় বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: রিজভীর বক্তব্যে শুধু শাস্তির বার্তা নয়, নেতাকর্মীদের ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বানও রয়েছে। অর্থাৎ দলীয় পরিচয়কে ব্যক্তিগত সুবিধার বদলে জনসম্পৃক্ত কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের ভাবনা রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম করলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য দেখা জরুরি।

নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ আর নেই, রেখে গেলেন অনুপ্রেরণার এক ইতিহাস

নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ আর নেই, রেখে গেলেন অনুপ্রেরণার এক ইতিহাস

দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ আর নেই। থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।ব্যবসা, নারী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশে যে কয়েকজন মানুষের নাম আলাদা করে উচ্চারিত হয়, সেলিমা আহমাদ ছিলেন তাদের একজন। বিশেষ করে হাজার হাজার নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় করানোর যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচয় এনে দেয়।পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহল, নারী উদ্যোক্তা সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ব্যবসায়িক নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পরিচিতি১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী সেলিমা আহমাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপান, ডেনমার্ক, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ লাভ করেন।তিনি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অটোমোবাইল, সিমেন্ট, কাগজ, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন তিনি।নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেনসেলিমা আহমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা। ২০০১ সালে তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠন দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়।তার নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, বাজারসংযোগ ও ব্যবসায়িক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নারীদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী প্রথমবারের মতো ব্যবসা শুরু করার সাহস পেয়েছিলেন সেলিমা আহমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরামর্শ থেকে।ব্যাংকিং খাত ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকাশুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও সক্রিয় ছিলেন সেলিমা আহমাদ। তিনি জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।অর্থনীতিবিদদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ব্যবসা ও অর্থনীতির বিভিন্ন ফোরামে তিনি নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছেন।রাজনীতিতেও ছিল সক্রিয় উপস্থিতিব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও যুক্ত হন সেলিমা আহমাদ। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।সংসদে তিনি নারী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখসেলিমা আহমাদের কর্মজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি আসে ২০১৪ সালে। সে বছর তিনি অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বেস্ট বিজনেস উইমেন, প্রিয়দর্শিনী এবং বিজনেস এক্সপ্রেস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।কেন তার মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা আন্দোলন আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে কয়েকজন পথপ্রদর্শকের অবদান রয়েছে। সেলিমা আহমাদ ছিলেন সেই অগ্রগামীদের অন্যতম।তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রচেষ্টা। অনেক ক্ষেত্রে তিনি শুধু প্রশিক্ষণ দেননি, বরং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দরজাও খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে নারীদের ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনো অর্থায়ন, বাজারসংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেলিমা আহমাদের মতো নেতৃত্বের অভাব ভবিষ্যতে আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণবাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসে খুব কম মানুষই আছেন, যারা একই সঙ্গে করপোরেট নেতৃত্ব, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সেলিমা আহমাদ সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি চারটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন।গুরুত্বপূর্ণ দিক• বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নারী বাণিজ্য সংগঠন বিডব্লিউসিসিআই প্রতিষ্ঠা করেন• হাজার হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তার সুযোগ করে দেন• নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শিল্প খাতে নেতৃত্ব দেন• আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেনসাধারণ মানুষের ভাবনাবাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা যখন বলা হয়, তখন শুধু নীতিমালা নয়, প্রয়োজন হয় বাস্তব নেতৃত্বের। সেলিমা আহমাদের জীবন দেখিয়েছে—একজন মানুষের উদ্যোগ হাজারো মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। তার মৃত্যুতে অনেকেই মনে করছেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শুরু করা কাজগুলো আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সেটিই হবে তার প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা।

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সলঙ্গা থানাধীন চরিয়া এলাকায় RAB-12-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা রাজশাহীগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।পুলিশের বক্তব্যঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন Md. Aslam Ali।তিনি জানান, “সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।”তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ Hatikumrul Highway Police Station-এ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কদুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাস চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বাসটি খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ করেই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।”আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না।”সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নসাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে।বিশেষ করে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থাপুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উপসংহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। মুহূর্তের অসতর্কতা বা বেপরোয়া গতি কত দ্রুত কয়েকটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার আরেকটি নির্মম উদাহরণ।

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগে উত্তেজনা, ঢাকায় বিক্ষোভে নামে এনসিপিঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।বিকেলে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে এনসিপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। মিছিলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি ছিলেন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।এদিকে ঝিনাইদহের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কে বা কারা হামলায় জড়িত ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়ী করেনি প্রশাসন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।জুমার নামাজ শেষে হঠাৎ উত্তেজনাপ্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঠিক সেই সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।এর মধ্যেই পেছন দিক থেকে কয়েকজন যুবক ডিম নিক্ষেপ করে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে দলটি।তবে হামলার পেছনে কারা ছিল বা এটি পরিকল্পিত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঢাকায় প্রতিবাদ মিছিল, ক্ষোভ নেতাকর্মীদেরঝিনাইদহের ঘটনার পর বিকেলেই রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় এনসিপি। দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখাতেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ভাষা আবারও সামনে চলে আসছে। মত প্রকাশ বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দিতে হামলা, হুমকি কিংবা অপমানের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের দাবি।যদিও অভিযুক্ত পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।রাজনীতিতে উত্তেজনার নতুন বার্তা?বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মুখোমুখি অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক সহনশীলতার বর্তমান অবস্থাকেও সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান থেকে বের হওয়ার পর এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক মতভেদ যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রকাশ্য অপমানের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সেটি শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়, সামাজিক অসহিষ্ণুতারও ইঙ্গিত দেয়। তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ও বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে বলেও মত তাদের।‘ডিম নিক্ষেপ’ কেন বড় বার্তা হয়ে উঠছেবাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ডিম নিক্ষেপ বা জুতা নিক্ষেপকে অনেক সময় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ঘটনায় উত্তেজনা ও সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হেয় করার প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা বাস্তব ঘটনাতেও রূপ নেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।এই ঘটনার ভিডিও বা ছবি যদি সামনে আসে, তাহলে সেটি আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেসবুকে এ নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলছেন, আবার কেউ এটিকে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখছেন।তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঘটনার পরপরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও এখনো প্রকাশ করেনি এনসিপি।রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠলে সাধারণত দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি ওঠে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত দীর্ঘ হয় এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে প্রকৃত তথ্য আড়ালেই থেকে যায়—এমন অভিযোগ নতুন নয়।এ কারণে ঝিনাইদহের ঘটনাটিও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। না হলে এটি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সামনে কী হতে পারে?ঘটনার পর এনসিপি আরও কর্মসূচি দিতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে মাঠের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, ততই স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষ চাইছে ভিন্ন কিছু—সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ। কারণ রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরই।

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে : খোরশেদ আলমসাভারে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক বড় রাজনৈতিক মিলনমেলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেছেন, “ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও দলীয় সংহতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে।নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় জমে ওঠে আয়োজনস্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে এটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের মিলনমেলায় রূপ নেয়। আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম।অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।‘ভোট ও ভাতের অধিকারের রাজনীতি করে বিএনপি’প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে এসেছে। তার দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দলটি অতীতেও আন্দোলনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।তিনি বলেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল। মাঠের কর্মীরা সক্রিয় থাকলে যে কোনো আন্দোলন সফল করা সম্ভব। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি নয়, ঐক্য প্রয়োজন।”একই সঙ্গে তিনি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শ্রেণির মানুষ দীর্ঘদিন নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।খোরশেদ আলম বলেন, “মৎস্যজীবীরা শুধু শ্রমজীবী মানুষ নন, তারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার অংশ। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”তৃণমূল সংগঠন নিয়ে নতুন বার্তাসভায় বক্তারা বারবার তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলগুলো জনসম্পৃক্ততা হারাতে শুরু করে।সভাপতির বক্তব্যে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মৎস্যজীবী দল কেবল একটি অঙ্গসংগঠন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হবে।”তিনি আরও জানান, সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তরুণদের সম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুত্বশুভেচ্ছা বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।তিনি বলেন, “তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে গণতান্ত্রিক চর্চাও বাড়বে।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তৃণমূলকে সক্রিয় করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।কেন বাড়ছে তৃণমূল ঐক্যের আলোচনারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে অনেক সময় সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে এখন ‘ঐক্য’ শব্দটি বারবার সামনে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছে।সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় থাকলে তা সামাজিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সহিংসতা কমে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকে।সম্মাননা স্মারক দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানদীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে সাভার পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

দেশে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে রাতের ঢাকায় এনসিপির মশাল মিছিলরাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে, তখন সেই ক্ষোভের আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার রাজপথেও। মশাল হাতে শতাধিক নেতা–কর্মী রাতের অন্ধকারে স্লোগান তুললেন—“তনু-রামিসা-আছিয়া, বিচার থাকে ঝুলিয়া।” ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের এই কর্মসূচি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। পরে সেটি বাংলামোটর, কাওরান বাজার ও শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় শাহবাগ মোড়ে। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা–কর্মীরা বিভিন্ন সময় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।‘শুধু প্রতিবাদ নয়, নিরাপত্তার দাবিও’মিছিল শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো মানুষের মনে ভয় তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য, পল্লবীর শিশুটি থেকে শুরু করে ক্যান্টনমেন্টের তনু, বসুন্ধরার মুনিয়া কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের নানা ঘটনায় সাধারণ মানুষ এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক অপরাধ চাপা পড়ে যায় বলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলে আলাদা “যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল” গঠনের আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বানসমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সাদিয়া ফারজানা দিনা। তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, সমাজে নারীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন দরকার।তাঁর মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশ—সব জায়গাতেই নারীদের সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারীকে দুর্বল বা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা বন্ধ না হলে অপরাধ কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, যুবশক্তির পশ্চিম অঞ্চলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তুহিনসহ আরও কয়েকজন নেতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর।কেন বাড়ছে এমন প্রতিবাদ?সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়মিতভাবেই বাড়ছে। যদিও অনেক ঘটনায় মামলা হয়, তবে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। এই বিচার বিলম্বই মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজনৈতিক দলগুলোও এখন বিষয়টিকে বড় সামাজিক সংকট হিসেবে সামনে আনছে। এনসিপির এই মশাল মিছিলকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মিছিলের ভিডিওমশাল মিছিলের ভিডিও ও ছবি রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে অনেকেই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ লেখেন, “শুধু মিছিল নয়, বাস্তব বিচার দেখতে চাই।” আবার অনেকে রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের অবস্থানকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন।তবে সামাজিক মাধ্যমে একাংশের ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলো কতটা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিবাদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ কি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে?সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো অপরাধের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার না হলে সমাজে এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা যায়। এতে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ পর্যবেক্ষণও জরুরি। কারণ, অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে এবং অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সহিংস মানসিকতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে নারী অধিকারকর্মীদের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা, মামলা পরিচালনায় জটিলতা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতা অনেক সময় বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। ফলে অনেক পরিবার শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশা হারিয়ে ফেলে।শাহবাগে শেষ হয় মিছিল, থেকে যায় প্রশ্নরাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশাল মিছিল শেষ হয় শাহবাগে। ধীরে ধীরে সড়ক ফাঁকা হয়ে যায়, কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—দেশে আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার কবে দৃশ্যমান হবে? রাজপথের প্রতিবাদ হয়তো একদিন শেষ হয়, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অপেক্ষা শেষ হয় না—এমন মন্তব্যও শোনা গেছে অংশ নেওয়া কয়েকজনের মুখে। তাদের দাবি, বিচার শুধু আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সমাজেও এমন বার্তা পৌঁছাতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

বিনোদন

সকল জেলার খবর

খেলাধুলা

আর্কাইভ

প্রবাস

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নয়, টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচের মাধ্যমে তারা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছেন।এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) সিইও নোভি তাজউদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত।আর বিদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।রোববার তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমারশন’ কর্মসূচিতে এসব তথ্য জানান নোভি তাজউদ্দিন।ইএমজিএসের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন।এই ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সেবার খরচ রয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সুফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় ব্যবসা ও সেবাখাতও এর মাধ্যমে লাভবান হয়।বাংলাদেশ তৃতীয়, শীর্ষে চীনমালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো— চীন ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান অর্থাৎ মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন ইএমজিএসের সিইও।নোভি তাজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষ দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাম বেশি আসত। এখন সেই তালিকায় মালয়েশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা) এবং ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানুর (ইউএমটি) মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান তিনি।গুরুত্বপূর্ণ দিক মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। তাঁদের ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত। বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয়। গত তিন বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে মালয়েশিয়া।বিদেশি শিক্ষার্থী আরও বাড়াতে মালয়েশিয়া বড় লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নোভি তাজউদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।এর মানে হলো, ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচার আরও বাড়তে পারে।বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকেন, সেখানে বাসা, খাবারের দোকান, পরিবহণ, পোশাক, মোবাইল সেবা এবং নানা ধরনের দৈনন্দিন ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের খরচ জড়িয়ে যায়।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর খরচকে শুধু ‘শিক্ষার খরচ’ হিসেবে দেখলে পুরো অর্থনৈতিক চিত্রটি ধরা পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর খরচের টাকা অনেকগুলো স্থানীয় ব্যবসার হাত ঘুরে আবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। তাই বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা অনেকটা শিক্ষা খাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার জন্যও নতুন ক্রেতা তৈরি করার মতো।মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশের তৃতীয় অবস্থান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির উচ্চশিক্ষাবাজারে একটি শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, কোর্সের মান, মোট খরচ, ভিসার নিয়ম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করা জরুরি। শুধু কোনো দেশের জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত।বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, আবার মালয়েশিয়াও বড় একটি শিক্ষার্থী বাজার থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। আগামী দিনে মালয়েশিয়া যদি ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।