দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যঘেরা ঘটনায় উদ্বেগ

প্রবাসী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ—হাইকোর্টের রুলে নতুন আলোচনা

সৌদিতে পৌঁছেছেন প্রায় ৪৫ হাজার হজযাত্রী, ফ্লাইট কার্যক্রমে গতি—হজ প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমনের মরদেহ দেশে পথে, বৃষ্টির মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর

মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যু বাড়ছে, পৌঁছেছেন ৩৮ হাজারের বেশি

সৌদিতে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু, সংখ্যা বেড়ে ৬

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়
পাংকর দ্বীপের কাছে নৌকাডুবির পর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। -ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলে পাংকর দ্বীপের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকাটিতে মোট ৩৭ জন ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সবাই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে স্থানীয় এক জেলে সমুদ্রে কয়েকজন মানুষকে ভাসতে দেখে উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেন। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।

ভোরের সাগরে ভেসে থাকা মানুষ দেখে খবর দেন জেলে

মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এমএমইএ) জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পেরাক অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায়। সংস্থাটির পেরাক অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ শুকরি খোতব এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নৌকাটিতে ৩৭ জন অভিবাসী ছিলেন।


তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা ইতোমধ্যে ২৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি যাত্রীদের খুঁজে বের করতে সমুদ্রে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, সমুদ্রের আবহাওয়া ও স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধার কাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও সম্ভাব্য সব এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে যাত্রা, গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহর

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিবাসীরা গত ৯ মে ইন্দোনেশিয়ার কিসারান এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানো। সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় ছিল পেনাং, তেরেঙ্গানু, সেলাঙ্গর ও রাজধানী কুয়ালালামপুর।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তবে নৌকাটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধার অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকটি উদ্ধারকারী নৌযান, একটি হেলিকপ্টার এবং নজরদারি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসনের জন্য সমুদ্রপথ ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে অনেক মানুষ কাজের আশায় মালয়েশিয়ার দিকে পাড়ি জমান।

তবে এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো বিপুল অর্থের বিনিময়ে এসব যাত্রার আয়োজন করে থাকে।


বিশ্লেষকদের মতে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই মানুষকে এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রায়ই নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

আগেও ঘটেছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড উপকূলীয় অঞ্চলে এর আগেও একাধিক নৌদুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের নভেম্বরে থাই-মালয়েশিয়া সীমান্ত উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৩৬ জন মারা যান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, মানবপাচার রোধে আঞ্চলিকভাবে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ শ্রমবাজার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবুও চোরাকারবারি চক্র নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে মানুষ পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।

উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে

নৌকাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসীরা পরিবারকে না জানিয়েই সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। ফলে দুর্ঘটনার পর পরিচয় শনাক্ত করতেও সময় লাগে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান চললেও এখনো অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সময় যত বাড়ছে, উদ্বেগও তত বাড়ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শ্রম অভিবাসনের চাহিদা থাকলেও নিরাপদ ও বৈধ পথ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা থামানো কঠিন হবে।

বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে জীবিত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিষয় : মালয়েশিয়া নৌকাডুবি মানবপাচার, পাংকর দ্বীপ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলে পাংকর দ্বীপের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকাটিতে মোট ৩৭ জন ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সবাই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে স্থানীয় এক জেলে সমুদ্রে কয়েকজন মানুষকে ভাসতে দেখে উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেন। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।

ভোরের সাগরে ভেসে থাকা মানুষ দেখে খবর দেন জেলে

মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এমএমইএ) জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পেরাক অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায়। সংস্থাটির পেরাক অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ শুকরি খোতব এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নৌকাটিতে ৩৭ জন অভিবাসী ছিলেন।


তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা ইতোমধ্যে ২৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি যাত্রীদের খুঁজে বের করতে সমুদ্রে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, সমুদ্রের আবহাওয়া ও স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধার কাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও সম্ভাব্য সব এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে যাত্রা, গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহর

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিবাসীরা গত ৯ মে ইন্দোনেশিয়ার কিসারান এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানো। সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় ছিল পেনাং, তেরেঙ্গানু, সেলাঙ্গর ও রাজধানী কুয়ালালামপুর।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তবে নৌকাটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধার অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকটি উদ্ধারকারী নৌযান, একটি হেলিকপ্টার এবং নজরদারি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসনের জন্য সমুদ্রপথ ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে অনেক মানুষ কাজের আশায় মালয়েশিয়ার দিকে পাড়ি জমান।

তবে এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো বিপুল অর্থের বিনিময়ে এসব যাত্রার আয়োজন করে থাকে।


বিশ্লেষকদের মতে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই মানুষকে এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রায়ই নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

আগেও ঘটেছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড উপকূলীয় অঞ্চলে এর আগেও একাধিক নৌদুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের নভেম্বরে থাই-মালয়েশিয়া সীমান্ত উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৩৬ জন মারা যান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, মানবপাচার রোধে আঞ্চলিকভাবে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ শ্রমবাজার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবুও চোরাকারবারি চক্র নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে মানুষ পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।

উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে

নৌকাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসীরা পরিবারকে না জানিয়েই সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। ফলে দুর্ঘটনার পর পরিচয় শনাক্ত করতেও সময় লাগে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান চললেও এখনো অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সময় যত বাড়ছে, উদ্বেগও তত বাড়ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শ্রম অভিবাসনের চাহিদা থাকলেও নিরাপদ ও বৈধ পথ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা থামানো কঠিন হবে।

বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে জীবিত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর