দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মতামত

নির্যাতন বন্ধে নতুন কমিটি: সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে আসছে কেন্দ্রীয় পরিষদ

ঢাকায় নতুন করে গঠিত হতে যাচ্ছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। এরই অংশ হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী আজগর ইমন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এক ভার্চুয়াল সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠিত এই অনলাইন সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের সাংবাদিকরা যুক্ত হন। সভা শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যেই এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আরও শক্তভাবে কাজ করবে।সভাপতি হিসেবে মনোনীত আহমেদ আবু জাফর একজন অনলাইন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকায় তারা দুজনই এই সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই ১৫১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এই কমিটিতে শুধু সাংবাদিক নয়, সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে যুক্ত করা হবে। আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং মানবাধিকারকর্মীরাও এতে থাকবেন। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি মূলত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি বা হামলার ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা দেওয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি শাখা কমিটি গঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি ও মামলার শিকার হন। সেই প্রেক্ষাপটে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা একত্রিত হন।বাংলাদেশে অতীতেও সাংবাদিক নির্যাতনের নানা ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই এমন একটি সংগঠন গড়ে ওঠা অনেকের কাছে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হয়।সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে থাকতে চান না, বরং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে চান। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা তৈরি, প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা। সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি একটি বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয় এবং দেশের সাংবাদিকরা কতটা উপকৃত হন। তবে শুরুটা আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্যাতন বন্ধে নতুন কমিটি: সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে আসছে কেন্দ্রীয় পরিষদ