সংগীতপ্রেমীদের জন্য আজকের সন্ধ্যাটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। বাংলা পপ ও ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছে চ্যানেল আই। ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠান শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের শেকড়, ইতিহাস এবং একটি প্রজন্মের আবেগকে নতুন করে ছুঁয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আজম খান কেবল একজন শিল্পীর নাম নয়; তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর গান, জীবনদর্শন এবং ব্যতিক্রমী সংগীতচর্চা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে আয়োজনটি ঘিরে ইতোমধ্যে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আজম খানের প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’-এর বর্তমান সদস্যরা।
এ আয়োজনে পরিবেশিত হবে আজম খানের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। শুধু গানই নয়, দর্শকরা শুনতে পাবেন ব্যান্ডটির দীর্ঘ পথচলার নানা অজানা গল্প, গানের পেছনের স্মৃতি এবং গুরুর সঙ্গে কাটানো সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি মূলত সংগীত ও স্মৃতিচারণের সমন্বয়ে সাজানো একটি বিশেষ পর্ব, যেখানে আজম খানের শিল্পীসত্তা এবং তাঁর সাংস্কৃতিক অবদানকে তুলে ধরা হবে।
বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কি-বোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।
অনুষ্ঠানে তারা শুধু গান পরিবেশন করবেন না, বরং আজম খানকে ঘিরে নিজেদের স্মৃতিও তুলে ধরবেন। বিশেষ করে ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের সংগ্রাম, সাফল্য এবং গুরুর নেতৃত্বে সংগীতচর্চার অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে উঠে আসবে।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন অপু মাহফুজ এবং পরিচালনা করেছেন ইফতেখার মুনিম।
আজকের আয়োজনের পর আগামীকাল দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এর বিশেষ পর্ব। পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে আজম খানকে কেন্দ্র করে।
এই পর্বে উপস্থিত থাকবেন আজম খানের ছোট মেয়ে অরণী খান, উচ্চারণ ব্যান্ডের সাবেক সদস্য ও ফিডব্যাক ব্যান্ডের ফোয়াদ নাসের বাবু এবং সংগীত পরিচালক ও গিটারিস্ট পার্থ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে আজম খানের পারিবারিক জীবন, সংগীতচর্চা, ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর রেখে যাওয়া সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা হবে। দর্শকরা জানতে পারবেন এমন কিছু গল্প, যা সাধারণত আলোচনায় আসে না।
বিশেষ এই পর্বটির প্রযোজনা করেছেন ইফতেখার মুনিম এবং উপস্থাপনা করবেন ইফফাত আরা ইরা।
বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন বাংলা গানের ধারা নতুন মোড় নিচ্ছিল, তখন তিনি একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ভিন্নধর্মী সংগীতচর্চার সূচনা করেন।
তাঁর গান শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সমাজ, প্রেম, সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পও উঠে এসেছে তাঁর সৃষ্টিতে। ফলে সময় বদলালেও তাঁর গান হারিয়ে যায়নি।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, আজম খানের জনপ্রিয়তার বড় কারণ হলো তাঁর গানের ভাষা ছিল মানুষের খুব কাছের। তিনি তারকাখ্যাতির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখেননি, বরং সাধারণ মানুষের শিল্পী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
ডিজিটাল যুগে নতুন শিল্পী ও নতুন ধারার গান নিয়মিত আসছে। কিন্তু তারপরও আজম খানের গান নতুন করে শোনা হচ্ছে, কভার হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রমাণ করে যে তাঁর সৃষ্টি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে একটি সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।
সংগীত সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন শুধু একজন শিল্পীকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে দেশের সংগীত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আইয়ের এই দুই আয়োজন তাই শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক স্বর্ণালি অধ্যায়কে নতুন করে সামনে নিয়ে আসার প্রয়াস।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
সংগীতপ্রেমীদের জন্য আজকের সন্ধ্যাটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। বাংলা পপ ও ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছে চ্যানেল আই। ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠান শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের শেকড়, ইতিহাস এবং একটি প্রজন্মের আবেগকে নতুন করে ছুঁয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আজম খান কেবল একজন শিল্পীর নাম নয়; তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর গান, জীবনদর্শন এবং ব্যতিক্রমী সংগীতচর্চা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে আয়োজনটি ঘিরে ইতোমধ্যে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আজম খানের প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’-এর বর্তমান সদস্যরা।
এ আয়োজনে পরিবেশিত হবে আজম খানের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। শুধু গানই নয়, দর্শকরা শুনতে পাবেন ব্যান্ডটির দীর্ঘ পথচলার নানা অজানা গল্প, গানের পেছনের স্মৃতি এবং গুরুর সঙ্গে কাটানো সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি মূলত সংগীত ও স্মৃতিচারণের সমন্বয়ে সাজানো একটি বিশেষ পর্ব, যেখানে আজম খানের শিল্পীসত্তা এবং তাঁর সাংস্কৃতিক অবদানকে তুলে ধরা হবে।
বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কি-বোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।
অনুষ্ঠানে তারা শুধু গান পরিবেশন করবেন না, বরং আজম খানকে ঘিরে নিজেদের স্মৃতিও তুলে ধরবেন। বিশেষ করে ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের সংগ্রাম, সাফল্য এবং গুরুর নেতৃত্বে সংগীতচর্চার অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে উঠে আসবে।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন অপু মাহফুজ এবং পরিচালনা করেছেন ইফতেখার মুনিম।
আজকের আয়োজনের পর আগামীকাল দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এর বিশেষ পর্ব। পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে আজম খানকে কেন্দ্র করে।
এই পর্বে উপস্থিত থাকবেন আজম খানের ছোট মেয়ে অরণী খান, উচ্চারণ ব্যান্ডের সাবেক সদস্য ও ফিডব্যাক ব্যান্ডের ফোয়াদ নাসের বাবু এবং সংগীত পরিচালক ও গিটারিস্ট পার্থ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে আজম খানের পারিবারিক জীবন, সংগীতচর্চা, ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর রেখে যাওয়া সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা হবে। দর্শকরা জানতে পারবেন এমন কিছু গল্প, যা সাধারণত আলোচনায় আসে না।
বিশেষ এই পর্বটির প্রযোজনা করেছেন ইফতেখার মুনিম এবং উপস্থাপনা করবেন ইফফাত আরা ইরা।
বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন বাংলা গানের ধারা নতুন মোড় নিচ্ছিল, তখন তিনি একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ভিন্নধর্মী সংগীতচর্চার সূচনা করেন।
তাঁর গান শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সমাজ, প্রেম, সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পও উঠে এসেছে তাঁর সৃষ্টিতে। ফলে সময় বদলালেও তাঁর গান হারিয়ে যায়নি।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, আজম খানের জনপ্রিয়তার বড় কারণ হলো তাঁর গানের ভাষা ছিল মানুষের খুব কাছের। তিনি তারকাখ্যাতির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখেননি, বরং সাধারণ মানুষের শিল্পী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
ডিজিটাল যুগে নতুন শিল্পী ও নতুন ধারার গান নিয়মিত আসছে। কিন্তু তারপরও আজম খানের গান নতুন করে শোনা হচ্ছে, কভার হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রমাণ করে যে তাঁর সৃষ্টি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে একটি সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।
সংগীত সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন শুধু একজন শিল্পীকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে দেশের সংগীত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আইয়ের এই দুই আয়োজন তাই শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক স্বর্ণালি অধ্যায়কে নতুন করে সামনে নিয়ে আসার প্রয়াস।

আপনার মতামত লিখুন