তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে এক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদূরে পাহাড়ের পাশে একটি গাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত সাধন রঞ্জন চাকমা (৪৮) দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ভারত মোহন চাকমার ছেলে।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুল্যাতলী ইউনিয়নের মেম্বারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধন রঞ্জন চাকমা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার সকালে তার নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানান দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা।এরপর পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির অদূরে পাহাড়ের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।লক্ষ্মীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গলায় একটি দাগ ছাড়া শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শুধু বাহ্যিক পরীক্ষা দিয়ে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।ওসি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার রাতে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।এ ঘটনায় নিহত সাধন রঞ্জন চাকমার ছেলে হেমন্ত চাকমা বাদী হয়ে লক্ষ্মীছড়ি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি কেন নিখোঁজ হয়েছিলেন, মৃত্যুর আগে কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাস্থল হওয়ায় তদন্তে স্থানীয়দের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একজন জনপ্রতিনিধির তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, দ্রুত নিখোঁজের খবর প্রচার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা—এসব বিষয় এমন ঘটনায় বড় ভূমিকা রাখে।বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকনিহত সাধন রঞ্জন চাকমা দুল্যাতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন।তিনি তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদূরে পাহাড়ের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত থানায় জানানো, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা নেওয়া এবং আশপাশে খোঁজ শুরু করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য না করাই ভালো। এতে গুজব ছড়ানো কমে এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়।এই ঘটনায় একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—নিখোঁজের খবর জানানোর পর অনুসন্ধান শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্ধারব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবারকে নিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান দল গঠন করা গেলে ভবিষ্যতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সময় কমানো সম্ভব হতে পারে।