খুলনা: ওজনে কারচুপি, অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের মোড়কবিধি লঙ্ঘনের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একদিনেই ৯টি পৃথক টিম মাঠে নেমে এ অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার (৮ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের আওতাধীন জেলা কার্যালয়গুলো যৌথভাবে এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, পেঁয়াজ, সবজি, ডিম ও মুরগির বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত দাম আদায় না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় এস এস ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনার পাবলা বাজার এলাকায় মেসার্স খালিদ ফুড প্রোডাক্টসকে অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ১০ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে মেসার্স ইমা এগ্রো ফুডকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর বাজারে অরিয়েন্ট ড্রিংকিং ওয়াটারকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য প্রস্তুতের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর বাজারে আবির সুইটস অ্যান্ড বিরিয়ানিকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাগুরার জগদ্দল এলাকায় মেসার্স জলিল মেডিকেল হলকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাটের দৈবহাটি বাজারে হাওলাদার এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার এবং দুলু ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই ধরনের অপরাধে।
নড়াইলের তুলারামপুর বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে মেসার্স বর্ষা মেডিসিন কর্নারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সদর বাজারে মেসার্স বিশ্বাস ফুড প্রোডাক্টসকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কুষ্টিয়ার ছাতারপুর বাজারে শীরিন ফার্মেসিকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সময়ে ওজনে কম দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি কিংবা অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়ম সাধারণ ভোক্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এসব অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে নিয়ম মেনে চললেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই জরিমানার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এবারের অভিযানে দেখা গেছে, জরিমানার বড় একটি অংশ এসেছে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে। এটি ইঙ্গিত করে যে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে এখনও তদারকির প্রয়োজন অনেক বেশি।
• খুলনা বিভাগের ৯টি টিম একযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে।
• ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
• মোট ৮২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
• খাদ্য, ওষুধ, পানীয় জল ও নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছে।
• ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তাদের অনেকেই মনে করেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি থাকলে অতিরিক্ত দাম আদায়, ভেজাল পণ্য বিক্রি এবং ওজনে কারচুপির মতো অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। তবে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার সময় মেয়াদ, মূল্য তালিকা ও রশিদ যাচাই করলে অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
খুলনা: ওজনে কারচুপি, অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের মোড়কবিধি লঙ্ঘনের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একদিনেই ৯টি পৃথক টিম মাঠে নেমে এ অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার (৮ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের আওতাধীন জেলা কার্যালয়গুলো যৌথভাবে এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, পেঁয়াজ, সবজি, ডিম ও মুরগির বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত দাম আদায় না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় এস এস ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনার পাবলা বাজার এলাকায় মেসার্স খালিদ ফুড প্রোডাক্টসকে অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ১০ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে মেসার্স ইমা এগ্রো ফুডকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর বাজারে অরিয়েন্ট ড্রিংকিং ওয়াটারকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য প্রস্তুতের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর বাজারে আবির সুইটস অ্যান্ড বিরিয়ানিকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাগুরার জগদ্দল এলাকায় মেসার্স জলিল মেডিকেল হলকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাটের দৈবহাটি বাজারে হাওলাদার এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার এবং দুলু ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই ধরনের অপরাধে।
নড়াইলের তুলারামপুর বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে মেসার্স বর্ষা মেডিসিন কর্নারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সদর বাজারে মেসার্স বিশ্বাস ফুড প্রোডাক্টসকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কুষ্টিয়ার ছাতারপুর বাজারে শীরিন ফার্মেসিকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সময়ে ওজনে কম দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি কিংবা অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়ম সাধারণ ভোক্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এসব অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে নিয়ম মেনে চললেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই জরিমানার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এবারের অভিযানে দেখা গেছে, জরিমানার বড় একটি অংশ এসেছে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে। এটি ইঙ্গিত করে যে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে এখনও তদারকির প্রয়োজন অনেক বেশি।
• খুলনা বিভাগের ৯টি টিম একযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে।
• ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
• মোট ৮২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
• খাদ্য, ওষুধ, পানীয় জল ও নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছে।
• ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তাদের অনেকেই মনে করেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি থাকলে অতিরিক্ত দাম আদায়, ভেজাল পণ্য বিক্রি এবং ওজনে কারচুপির মতো অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। তবে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার সময় মেয়াদ, মূল্য তালিকা ও রশিদ যাচাই করলে অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন