রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এক নারী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে থাকা আদালত ভবনের বারান্দায় দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত কাজে অবস্থানরত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলাই নয়, বরং আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার পর জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (এনজেইউসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় ৬ নম্বর আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই। তার স্বামী সৈয়দ শাহ নেওয়াজ হোসেনের দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।
হামলার ফলে সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষির আঘাতে তার নাক ও উপরের ঠোঁট রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং একটি দাঁত নড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরে তার স্বামী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, একজন নারী সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংগঠনটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম.এম. আজিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম রণি এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, আদালত এলাকায় সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে আদালত চত্বরের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার কাজ করেন। এ কারণে অনেক সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংঘাত বা সহিংস আচরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক সহনশীলতার সংকট, আইনের প্রতি উদাসীনতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, জনপরিসরে নিরাপদ ও সম্মানজনক আচরণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এক নারী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে থাকা আদালত ভবনের বারান্দায় দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত কাজে অবস্থানরত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলাই নয়, বরং আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার পর জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (এনজেইউসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় ৬ নম্বর আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই। তার স্বামী সৈয়দ শাহ নেওয়াজ হোসেনের দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।
হামলার ফলে সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষির আঘাতে তার নাক ও উপরের ঠোঁট রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং একটি দাঁত নড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরে তার স্বামী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, একজন নারী সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংগঠনটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম.এম. আজিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম রণি এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, আদালত এলাকায় সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে আদালত চত্বরের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার কাজ করেন। এ কারণে অনেক সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংঘাত বা সহিংস আচরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক সহনশীলতার সংকট, আইনের প্রতি উদাসীনতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, জনপরিসরে নিরাপদ ও সম্মানজনক আচরণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন