টানা বৃষ্টিতে ফের ডুবছে চট্টগ্রাম: দুর্ভোগে কর্মজীবী মানুষ, বাড়ল রিকশা ভাড়া
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আবারও শুরু হয়েছে মুষলধারে ভারী বর্ষণ। বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক নিমেষেই তলিয়ে গেছে পানির নিচে, যার ফলে চরম চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং নিয়মিত ক্লাস স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে নগরের ইস্পাহানি সি-গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক চেনা ভোগান্তির চিত্র। সেখানকার সড়কগুলোতে প্রায় হাঁটুপানি জমে গেছে। সেই নোংরা ও জমে থাকা পানি মাড়িয়েই ধীরগতিতে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় সকাল সকাল যারা অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, তাদের ভোগান্তি ছিল আকাশচুম্বী। নিরুপায় হয়ে ছাতা আর রেনকোট গায়ে জড়িয়েই গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে কর্মস্থলগামী মানুষদের।[TECHTARANGA-POST:1645]এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। আর এই সুযোগে পকেট কাটছেন চালকেরা। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দু-একটি রিকশা বা অটোরিকশা পাওয়া গেলেও চালকেরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই অতি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।চট্টগ্রাম আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে শুধু রোববার সকাল ৯টার আগের ১২ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার। তিনি আরও জানান, এই বৃষ্টি এখনই থামছে না, বরং আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এভাবে বৃষ্টিপাত চলতে পারে।পটভূমি ও আগের চিত্র:
চট্টগ্রামের মানুষের জন্য জলাবদ্ধতা নতুন কিছু না হলেও এবারের পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। মাত্র কয়েকদিন আগেই, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এক দিনে জুলাই মাসের হিসেবে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছিল। সেই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টির কারণে নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ভেসে যায়। রাস্তাঘাট তো বটেই, মানুষের বাসাবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেও পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় পানি নেমে গিয়েছিল এবং মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে নতুন করে শুরু হওয়া এই ভারী বৃষ্টিতে আবারও ডুবতে শুরু করেছে শহরটি, যা বাসিন্দাদের মনে নতুন করে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আতঙ্ক তৈরি করেছে।সবমিলিয়ে, প্রকৃতির এই বৈরী রূপ আর অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার খেসারত দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের সাধারণ নাগরিকদের। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টি আরও বাড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়েই এখন ভাবছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা।