দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইনান্সিং স্কিমে যুক্ত হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

এনআরবিসি ব্যাংকের এমটিওদের ৩ সপ্তাহের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

দেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা ও চিত্র প্রদর্শনী

পিআরআই সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় বাড়ালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে

বাংলাদেশের চা শিল্পে সংকট ও সম্ভাবনা: সমন্বিত উদ্যোগে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন রক সল্ট আটকে দেওয়া হলো

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ
দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন চালুর পরিকল্পনার কথা জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক। -ছবি: সংগৃহীত

আবাসন ঋণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব বাসার স্বপ্ন দেখা লাখো মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন আরও সহজ ও টেকসই করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের সংকট অনেকটাই কমবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ পাওয়া আরও সহজ হতে পারে।


রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আবাসন খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

বাংলাদেশে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ ব্যাংকের আমানত স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের গৃহঋণ দিতে অনেক সময় তারা ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে ঋণের সুদের হার বেড়ে যায় কিংবা ঋণ পাওয়ার শর্ত কঠোর হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন চালু হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সংগ্রহের নতুন সুযোগ পাবে। সেই অর্থ ব্যবহার করে তারা তুলনামূলক কম চাপ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দিতে পারবে। এতে একদিকে যেমন আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের সঙ্গে আবাসন খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতের দৃষ্টিতে আবাসন ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় এ খাতে সুদের হারও অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য ঋণের চেয়ে কম থাকে। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিহ্যাবের দাবি কী?

বৈঠকে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে। তারা আবাসন খাতের জন্য একটি বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বানও জানান।


ড. আলী আফজাল বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা বাসা কিনতে আগ্রহী মানুষের জন্য যদি সহজ শর্তে ও কম সুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিজের বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ সংশ্লিষ্ট বহু শিল্পখাতও নতুন গতি পাবে।

জেলা-উপজেলায় আবাসন সম্প্রসারণের প্রস্তাব

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকার ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, রাজধানীর বাইরে মানসম্মত আবাসন গড়ে তুলতে হলে স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ঋণ সুবিধা আরও বিস্তৃত করতে হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ স্থানীয় পর্যায়েই তৈরি হবে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী বদল আসতে পারে?

আবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে গৃহঋণের মেয়াদ বাড়ানো, কিস্তির চাপ কমানো এবং ঋণের শর্ত কিছুটা সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী নীতিমালা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং কার্যকর বাজার কাঠামো। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করলেই হবে না, একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের সক্ষমতা, বাজার পরিস্থিতি এবং আবাসন খাতের বাস্তব চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হবে।


অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাতকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক শিল্প ও সেবা খাত জড়িত। ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নগরায়ণ দ্রুত বাড়লেও আবাসন ব্যয়ের কারণে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে এই ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড.

সভা শেষে আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।

বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক, আবাসন ঋণ, গৃহঋণ, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন, রিহ্যাব হাউজিং লোন বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

আবাসন ঋণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব বাসার স্বপ্ন দেখা লাখো মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন আরও সহজ ও টেকসই করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের সংকট অনেকটাই কমবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ পাওয়া আরও সহজ হতে পারে।


রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। আবাসন খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

বাংলাদেশে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ ব্যাংকের আমানত স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের গৃহঋণ দিতে অনেক সময় তারা ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে ঋণের সুদের হার বেড়ে যায় কিংবা ঋণ পাওয়ার শর্ত কঠোর হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন চালু হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সংগ্রহের নতুন সুযোগ পাবে। সেই অর্থ ব্যবহার করে তারা তুলনামূলক কম চাপ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দিতে পারবে। এতে একদিকে যেমন আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের সঙ্গে আবাসন খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতের দৃষ্টিতে আবাসন ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় এ খাতে সুদের হারও অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য ঋণের চেয়ে কম থাকে। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিহ্যাবের দাবি কী?

বৈঠকে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে। তারা আবাসন খাতের জন্য একটি বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বানও জানান।


ড. আলী আফজাল বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা বাসা কিনতে আগ্রহী মানুষের জন্য যদি সহজ শর্তে ও কম সুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিজের বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ সংশ্লিষ্ট বহু শিল্পখাতও নতুন গতি পাবে।

জেলা-উপজেলায় আবাসন সম্প্রসারণের প্রস্তাব

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকার ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, রাজধানীর বাইরে মানসম্মত আবাসন গড়ে তুলতে হলে স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ঋণ সুবিধা আরও বিস্তৃত করতে হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ স্থানীয় পর্যায়েই তৈরি হবে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী বদল আসতে পারে?

আবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে গৃহঋণের মেয়াদ বাড়ানো, কিস্তির চাপ কমানো এবং ঋণের শর্ত কিছুটা সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী নীতিমালা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং কার্যকর বাজার কাঠামো। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করলেই হবে না, একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের সক্ষমতা, বাজার পরিস্থিতি এবং আবাসন খাতের বাস্তব চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হবে।


অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাতকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক শিল্প ও সেবা খাত জড়িত। ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নগরায়ণ দ্রুত বাড়লেও আবাসন ব্যয়ের কারণে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে এই ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড.

সভা শেষে আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর