দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

আইসিপি বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স আটক

ট্রান্সফরমার চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো মাদকের গুদাম, নওগাঁয় উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা

বাংলাদেশ-রাশিয়া বৈঠক: জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়

রাজন-রাকিবের মতো রামিসার বিচারও কি হারিয়ে যাবে উচ্চ আদালতে!

কক্সবাজারে পুলিশের জোড়া অভিযান: অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আলোচিত আসামি গ্রেফতার

ঢাকায় আজ কোথায় কী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠান, স্টিল খাতের সংবাদ সম্মেলন ও জলবায়ু বিষয়ক গোলটেবিল

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা
খুলনা বিভাগজুড়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ও সতর্কবার্তা প্রদান।

খুলনা বিভাগজুড়ে একযোগে পরিচালিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বুধবার (১০ জুন) এই অভিযান পরিচালিত হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি টিম একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির বাজারের মূল্যতালিকা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যাচাই করা হয়।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ভাউচার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।


হাসপাতাল ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের জরিমানা

খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে নগরীর খানজাহান আলী রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে যথাযথ সেবা প্রদান না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একইদিন সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত আরেক অভিযানে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়ল নানা অনিয়ম

খুলনার ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বাগেরহাট, নড়াইল, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার এবং পণ্যের মোড়কবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা আরোপ করা হয়।

এর মধ্যে বাগেরহাটে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা এবং কুষ্টিয়ায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া যশোরে একটি বেকারিকে ৮ হাজার টাকা, সাতক্ষীরায় একটি ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা এবং নড়াইলে একটি কৃষি স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি কিংবা ভোক্তা অধিকারবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।

তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পান। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা বাড়ে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

বিষয় : ভোক্তা অধিকার অভিযান বাজার তদারকি বাংলাদেশ খুলনা সংবাদ জরিমানা অভিযান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ভেজাল খাদ্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনা বিভাগজুড়ে একযোগে পরিচালিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বুধবার (১০ জুন) এই অভিযান পরিচালিত হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি টিম একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির বাজারের মূল্যতালিকা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যাচাই করা হয়।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ভাউচার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।


হাসপাতাল ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের জরিমানা

খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে নগরীর খানজাহান আলী রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে যথাযথ সেবা প্রদান না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একইদিন সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত আরেক অভিযানে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়ল নানা অনিয়ম

খুলনার ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বাগেরহাট, নড়াইল, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার এবং পণ্যের মোড়কবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা আরোপ করা হয়।

এর মধ্যে বাগেরহাটে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা এবং কুষ্টিয়ায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া যশোরে একটি বেকারিকে ৮ হাজার টাকা, সাতক্ষীরায় একটি ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা এবং নড়াইলে একটি কৃষি স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি কিংবা ভোক্তা অধিকারবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।

তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পান। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা বাড়ে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর