তিন সপ্তাহের ঘন প্রশিক্ষণ শেষে নতুন এক ব্যাচ তরুণ ব্যাংকার এখন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
এনআরবিসি ব্যাংকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের (এমটিও) এই প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে এক আনুষ্ঠানিক সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
ঢাকায় আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে তিন সপ্তাহব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এনআরবিসি ব্যাংকের মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (এইচআরটিডিসি) এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এমটিওদের আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স এবং করপোরেট সংস্কৃতি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল—তাদের শুধু কাজের দক্ষতা নয়, বরং পেশাগত মানসিকতা তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পুরো পরিবেশে ছিল এক ধরনের উৎসবমুখরতা ও নতুন শুরুর উত্তেজনা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে টিকে থাকতে হলে শুধু দক্ষতা যথেষ্ট নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও সততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন,
“শুধু পেশাগত জ্ঞান থাকলেই চলবে না। গ্রাহকের প্রতি সম্মান, সেবা দেওয়ার মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এসব মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে ব্যাংকারদের নতুন দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতের ব্যাংকারদের এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
এই তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণ ব্যাংকারদের বিভিন্ন বাস্তবমুখী বিষয় শেখানো হয়। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব কাজের পরিবেশে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশিক্ষণে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তার মধ্যে ছিল—
প্রশিক্ষকরা জানান, অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে সব সেশনেই অংশ নেন এবং বাস্তবভিত্তিক কেস স্টাডির মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করেন।
ব্যাংকিং খাত এখন দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু ঐতিহ্যগত দক্ষতা নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন এমটিওদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে তরুণ জনবল এখন একটি বড় সম্পদ। তবে এই জনবলকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
দেশের আর্থিক খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবা এখন শুধু শাখা নির্ভর নয়, বরং মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং এআই-ভিত্তিক সেবার দিকে ঝুঁকছে।
এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির অংশ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলা না গেলে ব্যাংকিং সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখা যায়, নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণরা প্রথম দিকের প্রশিক্ষণ থেকেই তাদের কর্মসংস্কৃতি তৈরি করে। তাই এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ আচরণ ও সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি ব্যাংকের জন্য নয়, বরং পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এমটিওরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাস্তব কাজের পরিবেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ায় তারা এখন দায়িত্ব নিতে আরও প্রস্তুত।
তারা মনে করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ তাদের ক্যারিয়ার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গ্রাহকসেবার ওপর দেওয়া গুরুত্ব তাদের ভবিষ্যৎ কাজকে সহজ করবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং, এআই-ভিত্তিক সেবা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
তিন সপ্তাহের ঘন প্রশিক্ষণ শেষে নতুন এক ব্যাচ তরুণ ব্যাংকার এখন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
এনআরবিসি ব্যাংকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের (এমটিও) এই প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে এক আনুষ্ঠানিক সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
ঢাকায় আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে তিন সপ্তাহব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এনআরবিসি ব্যাংকের মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (এইচআরটিডিসি) এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এমটিওদের আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স এবং করপোরেট সংস্কৃতি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল—তাদের শুধু কাজের দক্ষতা নয়, বরং পেশাগত মানসিকতা তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পুরো পরিবেশে ছিল এক ধরনের উৎসবমুখরতা ও নতুন শুরুর উত্তেজনা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে টিকে থাকতে হলে শুধু দক্ষতা যথেষ্ট নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও সততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন,
“শুধু পেশাগত জ্ঞান থাকলেই চলবে না। গ্রাহকের প্রতি সম্মান, সেবা দেওয়ার মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এসব মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে ব্যাংকারদের নতুন দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতের ব্যাংকারদের এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
এই তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণ ব্যাংকারদের বিভিন্ন বাস্তবমুখী বিষয় শেখানো হয়। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব কাজের পরিবেশে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশিক্ষণে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তার মধ্যে ছিল—
প্রশিক্ষকরা জানান, অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে সব সেশনেই অংশ নেন এবং বাস্তবভিত্তিক কেস স্টাডির মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করেন।
ব্যাংকিং খাত এখন দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু ঐতিহ্যগত দক্ষতা নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন এমটিওদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে তরুণ জনবল এখন একটি বড় সম্পদ। তবে এই জনবলকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
দেশের আর্থিক খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবা এখন শুধু শাখা নির্ভর নয়, বরং মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং এআই-ভিত্তিক সেবার দিকে ঝুঁকছে।
এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির অংশ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলা না গেলে ব্যাংকিং সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখা যায়, নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণরা প্রথম দিকের প্রশিক্ষণ থেকেই তাদের কর্মসংস্কৃতি তৈরি করে। তাই এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ আচরণ ও সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি ব্যাংকের জন্য নয়, বরং পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এমটিওরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাস্তব কাজের পরিবেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ায় তারা এখন দায়িত্ব নিতে আরও প্রস্তুত।
তারা মনে করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ তাদের ক্যারিয়ার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গ্রাহকসেবার ওপর দেওয়া গুরুত্ব তাদের ভবিষ্যৎ কাজকে সহজ করবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং, এআই-ভিত্তিক সেবা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন