ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন সুতিয়াখালী এলাকায় জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে অভিযুক্তরা প্রায়ই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাত এবং একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সুতিয়াখালী এলাকার লালু সরকার বাড়ির পাশে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় অভিযুক্তরা কিল, ঘুষি, লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ভুক্তভোগী নারীকে গুরুতরভাবে আহত করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী ও সন্তানও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে আরও বড় ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন— মোস্তাকিম ও সাব্বির, পিতা সুজন মিয়া।
অভিযোগে বলা হয়, তারা এলাকায় প্রভাবশালী ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় সালিশ বা মাতব্বরদের সিদ্ধান্তও তারা মানে না।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব অনেক সময় সহিংস রূপ নেয়। তবে সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয়রা।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন সুতিয়াখালী এলাকায় জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে অভিযুক্তরা প্রায়ই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাত এবং একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সুতিয়াখালী এলাকার লালু সরকার বাড়ির পাশে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় অভিযুক্তরা কিল, ঘুষি, লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ভুক্তভোগী নারীকে গুরুতরভাবে আহত করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী ও সন্তানও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে আরও বড় ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন— মোস্তাকিম ও সাব্বির, পিতা সুজন মিয়া।
অভিযোগে বলা হয়, তারা এলাকায় প্রভাবশালী ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় সালিশ বা মাতব্বরদের সিদ্ধান্তও তারা মানে না।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব অনেক সময় সহিংস রূপ নেয়। তবে সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সব মিলিয়ে ময়মনসিংহের এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন