রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে আশকোনা এলাকায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারত। হাজি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপে স্কুলের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় এমন ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে। তবে পুলিশের দ্রুত উপস্থিতি ও সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আশকোনা কমিউনিটি সেন্টার ও হাজি স্কুল এলাকার পাশে বিকেলের দিকে একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে এটি সাধারণ কোনো বস্তু মনে হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
এরপর স্থানীয়রা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পৌঁছানোর পরই দক্ষিণখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।”
খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দক্ষিণখান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই কামাল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও সেখানে যোগ দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই পুরো এলাকা নিরাপদ বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ সময় আশপাশের রাস্তায় যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে।
পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহজনক বস্তুটি পরীক্ষা করেন। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অপারেশন, যেখানে সামান্য ভুলও বড় বিস্ফোরণের কারণ হতে পারত। তবে দক্ষতা ও সমন্বয়ের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।”
ঘটনার সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক ছিল হাজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য চরম উদ্বেগ তৈরি হলেও পরে সবাই নিরাপদে থাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলের পাশে এমন ঘটনা ভয়াবহ ছিল। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ হতে পারত।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণখান থানা সূত্রে জানা যায়, কে বা কারা এই বস্তুটি রেখেছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী ছিল—তা উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব দিক বিবেচনা করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হওয়ায় এখানে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।
তারা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে এ ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদিও দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে আশকোনা এলাকায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারত। হাজি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপে স্কুলের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় এমন ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে। তবে পুলিশের দ্রুত উপস্থিতি ও সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আশকোনা কমিউনিটি সেন্টার ও হাজি স্কুল এলাকার পাশে বিকেলের দিকে একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে এটি সাধারণ কোনো বস্তু মনে হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
এরপর স্থানীয়রা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পৌঁছানোর পরই দক্ষিণখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।”
খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দক্ষিণখান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই কামাল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও সেখানে যোগ দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই পুরো এলাকা নিরাপদ বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ সময় আশপাশের রাস্তায় যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে।
পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহজনক বস্তুটি পরীক্ষা করেন। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অপারেশন, যেখানে সামান্য ভুলও বড় বিস্ফোরণের কারণ হতে পারত। তবে দক্ষতা ও সমন্বয়ের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।”
ঘটনার সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক ছিল হাজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য চরম উদ্বেগ তৈরি হলেও পরে সবাই নিরাপদে থাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলের পাশে এমন ঘটনা ভয়াবহ ছিল। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ হতে পারত।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণখান থানা সূত্রে জানা যায়, কে বা কারা এই বস্তুটি রেখেছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী ছিল—তা উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব দিক বিবেচনা করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হওয়ায় এখানে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।
তারা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে এ ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদিও দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন