পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ জন হজযাত্রী। এখন পর্যন্ত ১৮৯টি ফ্লাইটে তারা দেশ ছেড়েছেন। তবে আনন্দের এই যাত্রার মধ্যেই উদ্বেগের খবরও এসেছে—সৌদিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। চলতি বছরের হজ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত সময় পার করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ১৮৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৯৫টি ফ্লাইট। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ২৫টি ফ্লাইট।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমোদন রয়েছে। তাদের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন।
হজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ সময়ের চাপ সামাল দিতে এবার ফ্লাইট সূচি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা রাখা হয়েছে। অনেক যাত্রী বয়সে প্রবীণ হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও বিমানবন্দরে সহায়তা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় মারা গেছেন। তবে তাদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
হজ মৌসুমে প্রতিবছরই অতিরিক্ত গরম, শারীরিক ক্লান্তি, দীর্ঘ যাত্রা ও বয়সজনিত জটিলতার কারণে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় প্রবীণ যাত্রীদের ঝুঁকি বেশি থাকে বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।
এবারও সৌদি আরবে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে হজযাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্বোধন করা হয় হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবগামী হজ ফ্লাইট আজ পর্যন্ত চলবে। এরপর হজ পালন শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ৩০ মে থেকে। ফিরতি কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের ফ্লাইট তথ্য, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবছর হজ মৌসুম এলেই হজযাত্রীদের ভোগান্তি, আবাসন সংকট, খাবারের মান, লাগেজ জটিলতা কিংবা এজেন্সি নিয়ে অভিযোগ সামনে আসে। তবে এবার এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগে থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মুসলমানদের আবেগ, বিশ্বাস এবং জীবনের বড় স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এই যাত্রায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও অনেক পরিবারের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে হজে যাওয়ায় ব্যবস্থাপনায় সামান্য সমন্বয়হীনতাও বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। এজন্য শুধু ফ্লাইট পরিচালনা নয়, যাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং সৌদিতে অবস্থানকালীন সহায়তা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সৌদি আরবে বাড়ছে হজযাত্রীদের চাপ। বাংলাদেশ থেকেও শেষ মুহূর্তে যাত্রা করা যাত্রীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বক্ষণিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সহায়তায় মেডিকেল টিম, হজ অফিস ও বিভিন্ন সাপোর্ট টিম কাজ করছে।
এদিকে স্বজনদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয়জনদের জন্য দোয়া চাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রথম হজযাত্রার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন আবেগঘন পোস্টে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহের মধ্যেও পরিবারগুলোর মধ্যে কাজ করছে এক ধরনের উদ্বেগ আর প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ জন হজযাত্রী। এখন পর্যন্ত ১৮৯টি ফ্লাইটে তারা দেশ ছেড়েছেন। তবে আনন্দের এই যাত্রার মধ্যেই উদ্বেগের খবরও এসেছে—সৌদিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। চলতি বছরের হজ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত সময় পার করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ১৮৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৯৫টি ফ্লাইট। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ২৫টি ফ্লাইট।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমোদন রয়েছে। তাদের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন।
হজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ সময়ের চাপ সামাল দিতে এবার ফ্লাইট সূচি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা রাখা হয়েছে। অনেক যাত্রী বয়সে প্রবীণ হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও বিমানবন্দরে সহায়তা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় মারা গেছেন। তবে তাদের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
হজ মৌসুমে প্রতিবছরই অতিরিক্ত গরম, শারীরিক ক্লান্তি, দীর্ঘ যাত্রা ও বয়সজনিত জটিলতার কারণে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় প্রবীণ যাত্রীদের ঝুঁকি বেশি থাকে বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।
এবারও সৌদি আরবে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে হজযাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্বোধন করা হয় হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবগামী হজ ফ্লাইট আজ পর্যন্ত চলবে। এরপর হজ পালন শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ৩০ মে থেকে। ফিরতি কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের ফ্লাইট তথ্য, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবছর হজ মৌসুম এলেই হজযাত্রীদের ভোগান্তি, আবাসন সংকট, খাবারের মান, লাগেজ জটিলতা কিংবা এজেন্সি নিয়ে অভিযোগ সামনে আসে। তবে এবার এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগে থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মুসলমানদের আবেগ, বিশ্বাস এবং জীবনের বড় স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এই যাত্রায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও অনেক পরিবারের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে হজে যাওয়ায় ব্যবস্থাপনায় সামান্য সমন্বয়হীনতাও বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। এজন্য শুধু ফ্লাইট পরিচালনা নয়, যাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং সৌদিতে অবস্থানকালীন সহায়তা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সৌদি আরবে বাড়ছে হজযাত্রীদের চাপ। বাংলাদেশ থেকেও শেষ মুহূর্তে যাত্রা করা যাত্রীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বক্ষণিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সহায়তায় মেডিকেল টিম, হজ অফিস ও বিভিন্ন সাপোর্ট টিম কাজ করছে।
এদিকে স্বজনদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয়জনদের জন্য দোয়া চাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রথম হজযাত্রার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন আবেগঘন পোস্টে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহের মধ্যেও পরিবারগুলোর মধ্যে কাজ করছে এক ধরনের উদ্বেগ আর প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন