দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ১,০০৯

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৫১৬

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,০২৬ জন

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা তুলে ধরতে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন জোরদার করছে MHTC।

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে আরও সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)।
‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের আওতায় শুধু ঢাকায় নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সরাসরি মালয়েশিয়ার চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে MHTC।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

এই বৈঠককে দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে MHTC।

সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।

অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

  • Alpha IVF Specialist Center

  • IHH Healthcare Malaysia

  • KL Fertility and Gynecology Centre

  • Sunway Medical Centre

  • KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital

প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষতা তুলে ধরবে।

এর ফলে বাংলাদেশি রোগী ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশকে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছে MHTC।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৮০০-এর বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রায় ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (RM) রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি রোগীদের একটি অংশের কাছে মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে পরিচিত গন্তব্য। নতুন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ আরও বাড়াতে চাইছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত।

ঢাকায় বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশ নিচ্ছে MHTC।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রতিনিধিদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে উদ্যোগটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রাজধানীর বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বাড়বে এবং ঢাকার বাইরের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে।

বাংলাদেশের রোগীরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশ বেছে নেন। এই বাজারে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। ফলে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ শুধু একটি প্রচারণা নয়, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তবে রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে চিকিৎসার মান, মোট খরচ, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, হাসপাতালের স্বীকৃতি এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা। বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু প্রচারণা বা হাসপাতালের ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর না করে এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্যও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা যোগাযোগের আরেকটি দিক রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের অভিজ্ঞতা, ব্যয় ও কোন ধরনের চিকিৎসার জন্য তারা বাইরে যাচ্ছেন—এসব তথ্য দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও চাহিদার জায়গাগুলো বুঝতেও সহায়ক হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • বাংলাদেশি রোগীদের লক্ষ্য করে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন জোরদার করছে MHTC।

  • মালয়েশিয়ার পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশি রোগী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে।

  • মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার ৮০০-এর বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে MHTC।

  • ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশ নিচ্ছে MHTC।

  • প্রথমবার চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগী ও পরিবারের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, হাসপাতালের নির্ভরযোগ্যতা, সম্ভাব্য ব্যয় এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সেবার ওপর। একই সঙ্গে কোন চিকিৎসা দেশে সম্ভব আর কোন ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়া বাস্তবসম্মত—সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা জরুরি।

মূল পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশমুখী চিকিৎসা বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক হাসপাতালগুলোর প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু রোগী আকর্ষণের প্রচারণা নয়; বাংলাদেশকে তাদের স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ বাজার হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টাও।

বিষয় : মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার বিদেশে চিকিৎসা বাংলাদেশি রোগী Malaysia Healthcare Week

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে আরও সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)।
‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের আওতায় শুধু ঢাকায় নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সরাসরি মালয়েশিয়ার চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে MHTC।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

এই বৈঠককে দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে MHTC।

সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।

অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

  • Alpha IVF Specialist Center

  • IHH Healthcare Malaysia

  • KL Fertility and Gynecology Centre

  • Sunway Medical Centre

  • KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital

প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষতা তুলে ধরবে।

এর ফলে বাংলাদেশি রোগী ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশকে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছে MHTC।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৮০০-এর বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রায় ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (RM) রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি রোগীদের একটি অংশের কাছে মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে পরিচিত গন্তব্য। নতুন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ আরও বাড়াতে চাইছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত।

ঢাকায় বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশ নিচ্ছে MHTC।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রতিনিধিদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে উদ্যোগটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রাজধানীর বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বাড়বে এবং ঢাকার বাইরের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে।

বাংলাদেশের রোগীরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশ বেছে নেন। এই বাজারে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। ফলে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ শুধু একটি প্রচারণা নয়, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তবে রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে চিকিৎসার মান, মোট খরচ, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, হাসপাতালের স্বীকৃতি এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা। বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু প্রচারণা বা হাসপাতালের ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর না করে এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্যও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা যোগাযোগের আরেকটি দিক রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের অভিজ্ঞতা, ব্যয় ও কোন ধরনের চিকিৎসার জন্য তারা বাইরে যাচ্ছেন—এসব তথ্য দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও চাহিদার জায়গাগুলো বুঝতেও সহায়ক হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • বাংলাদেশি রোগীদের লক্ষ্য করে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন জোরদার করছে MHTC।

  • মালয়েশিয়ার পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশি রোগী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে।

  • মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার ৮০০-এর বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে MHTC।

  • ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশ নিচ্ছে MHTC।

  • প্রথমবার চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগী ও পরিবারের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, হাসপাতালের নির্ভরযোগ্যতা, সম্ভাব্য ব্যয় এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সেবার ওপর। একই সঙ্গে কোন চিকিৎসা দেশে সম্ভব আর কোন ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়া বাস্তবসম্মত—সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা জরুরি।

মূল পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশমুখী চিকিৎসা বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক হাসপাতালগুলোর প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু রোগী আকর্ষণের প্রচারণা নয়; বাংলাদেশকে তাদের স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ বাজার হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টাও।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর