দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামে ৬০০ শিশুর মৃত্যু: খালি হচ্ছে মায়ের কোল, থামছে না সংক্রমণ

দেশে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু; আক্রান্ত প্রায় ৬৮ হাজার

হাম প্রতিরোধে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা, অর্জনের হার ১২২ শতাংশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢামেক শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট চরমে, এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ শিশু

বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫১২

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৮৩ রোগী

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জনস্বাস্থ্যে। -ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একদিনেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।


রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

একদিনে সাত মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন, চট্টগ্রামে একজন, ময়মনসিংহে একজন এবং খুলনায় একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকায় দুজন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৯ জনে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছেন ৯১ জন। ফলে দেশে হামের কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর এই সংখ্যা কেবল একটি রোগের বিস্তার নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জেরও ইঙ্গিত বহন করে।

আক্রান্তের সংখ্যা কী বলছে?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে ৬৬ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ১২ জন।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখাচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার সুযোগ, রিপোর্টিং ব্যবস্থা কিংবা দ্রুত শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনো চলমান রয়েছে।


কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

হাম সাধারণত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে অনিয়মিত অংশগ্রহণ, কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।


তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত ও চিকিৎসাবিষয়ক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবার ও সমাজে এর প্রভাব

হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার শুধু স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নয়, এটি পরিবার ও সমাজের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কর্মজীবী মানুষের কাজ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও এতে ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য বা গুজব অনেক সময় টিকাদান নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য রোগও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিয়মিত টিকাদান এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

প্রশাসনের অবস্থান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশের হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে। তবে নতুন এই মৃত্যুগুলোর বিষয়ে পৃথক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

বিষয় : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সংবাদ হাম, measles outbreak Bangladesh, হামের উপসর্গ,

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একদিনেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।


রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

একদিনে সাত মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন, চট্টগ্রামে একজন, ময়মনসিংহে একজন এবং খুলনায় একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকায় দুজন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৯ জনে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছেন ৯১ জন। ফলে দেশে হামের কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর এই সংখ্যা কেবল একটি রোগের বিস্তার নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জেরও ইঙ্গিত বহন করে।

আক্রান্তের সংখ্যা কী বলছে?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে ৬৬ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ১২ জন।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখাচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার সুযোগ, রিপোর্টিং ব্যবস্থা কিংবা দ্রুত শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনো চলমান রয়েছে।


কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

হাম সাধারণত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে অনিয়মিত অংশগ্রহণ, কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।


তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত ও চিকিৎসাবিষয়ক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবার ও সমাজে এর প্রভাব

হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার শুধু স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নয়, এটি পরিবার ও সমাজের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কর্মজীবী মানুষের কাজ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও এতে ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য বা গুজব অনেক সময় টিকাদান নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য রোগও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিয়মিত টিকাদান এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

প্রশাসনের অবস্থান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশের হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে। তবে নতুন এই মৃত্যুগুলোর বিষয়ে পৃথক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর