শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং তিনি সেটি গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হয়েছে। পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়া থাকে। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদ শূন্য হলে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক প্রস্তুতি নিয়ে শপথ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন।
স্বাভাবিক নিয়মে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে এরপর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও তিনি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করেননি। বরং নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রপতির পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে বহাল রাখা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যেই একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বিএনপির সহযোগিতার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন সবার দৃষ্টি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং তিনি সেটি গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হয়েছে। পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়া থাকে। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদ শূন্য হলে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক প্রস্তুতি নিয়ে শপথ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন।
স্বাভাবিক নিয়মে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে এরপর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও তিনি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করেননি। বরং নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রপতির পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে বহাল রাখা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যেই একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বিএনপির সহযোগিতার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন সবার দৃষ্টি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে।

আপনার মতামত লিখুন