দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামে ৬০০ শিশুর মৃত্যু: খালি হচ্ছে মায়ের কোল, থামছে না সংক্রমণ

দেশে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু; আক্রান্ত প্রায় ৬৮ হাজার

হাম প্রতিরোধে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা, অর্জনের হার ১২২ শতাংশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢামেক শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট চরমে, এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ শিশু

বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫১২

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৮৩ রোগী

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ, আরও ৬ শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ ১,৪০৮ জনের

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু
হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধ হারল দেড় বছরের শিশু তাইবা। -ছবি: সংগৃহীত

হাম থেকে ফিরেও রক্ষা হলো না, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই শেষে নিভে গেল দেড় বছরের তাইবার জীবন

দেড় বছরের ছোট্ট তাইবা একবার মৃত্যুকে হারিয়ে ঘরে ফিরেছিল। হামের চিকিৎসা শেষে পরিবার ভেবেছিল বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে আবার জ্বর, তারপর ডেঙ্গু শনাক্ত—শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থেমে গেল শিশুটির জীবনযুদ্ধ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন নিস্তব্ধ কুষ্টিয়ার কৃষক জাহিদুল ইসলামের পরিবার।


কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর একমাত্র সন্তান ছিল তাইবা। মেয়ের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শুরু করে রাজশাহী পর্যন্ত ছুটেছেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুস্থ সন্তানকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

হাম থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছিল ঘরে

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে তাইবার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি উঠলে চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করেন। স্থানীয় হাসপাতালে প্রায় ১২ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হয় এবং পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

স্বজনরা তখন স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হাম থেকে সেরে ওঠার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয় শিশুটি। শুরুতে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

রাজশাহীতে শুরু হয় নতুন লড়াই

গত ২৯ মে রাতে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাইবাকে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরদিন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

চিকিৎসার একপর্যায়ে ৩১ মে করা পরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর আইসিইউতে ডেঙ্গুর জটিলতা মাথায় রেখে চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা।

কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারও তখন নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ টেকেনি।


ওয়ার্ডে নেওয়ার পর আবার জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন আবার তাকে আইসিইউতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর লাইফ সাপোর্টসহ সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বাবার অভিযোগ, হাসপাতালের ব্যাখ্যা

মেয়ের মৃত্যুর পর শোকাহত বাবা জাহিদুল ইসলাম চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগের দিন একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে সেখানে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জাহিদুল বলেন, “আমার একটাই সন্তান ছিল। ওর জন্য যা যা সম্ভব করেছি। ভালো চিকিৎসার আশায় রাজশাহীতে এনেছিলাম। কিন্তু মেয়েকে আর ফিরিয়ে নিতে পারলাম না।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আইসিইউতে ভর্তির পর করা পরীক্ষায় তাইবার শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি এবং প্লাটিলেট কম পাওয়া যায়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করলে ফল পজিটিভ আসে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাঁর ভাষ্য, শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল বলেই তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে কেন হঠাৎ আবার অবনতি হলো, সেটি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি চিকিৎসাগতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

‘গরম রক্ত’ জোগাড়ে রাতভর দৌড়ঝাঁপ

তাইবাকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়েননি বাবা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়েছে তাঁকে। পরিবার জানায়, তাইবার রক্তের গ্রুপ মা-বাবার কারও সঙ্গে মেলেনি। সাধারণ নিয়মে রক্ত বদলের সুযোগ থাকলেও শিশুটির ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি।


চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, সংরক্ষিত রক্ত নয়, রক্তদাতার কাছ থেকে সংগ্রহের পরপরই রক্ত দিতে হবে। পরে জাহিদুলের এক ভাই রক্ত দেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়ে গিয়েছিল।

কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এমন ঘটনা?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, হাম থেকে সেরে ওঠা শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্যান্য সংক্রমণ সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নেই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর জটিলতা দ্রুত তৈরি হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন।

তাইবার মৃত্যু সেই উদ্বেগকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে হাম, অন্যদিকে ডেঙ্গুর মতো সংক্রমণ—দুইয়ের চাপ ছোট শিশুদের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার একটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তাধীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পৃথক তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

একটি পরিবারের কাছে তাইবা ছিল পুরো পৃথিবী। সেই পৃথিবী আজ শূন্য। আর তার গল্প মনে করিয়ে দেয়—শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

বিষয় : তাইবার মৃত্যু, শিশু ডেঙ্গু, হাম ও ডেঙ্গু, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়ার শিশু মৃত্যু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

হাম থেকে ফিরেও রক্ষা হলো না, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই শেষে নিভে গেল দেড় বছরের তাইবার জীবন

দেড় বছরের ছোট্ট তাইবা একবার মৃত্যুকে হারিয়ে ঘরে ফিরেছিল। হামের চিকিৎসা শেষে পরিবার ভেবেছিল বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে আবার জ্বর, তারপর ডেঙ্গু শনাক্ত—শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থেমে গেল শিশুটির জীবনযুদ্ধ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন নিস্তব্ধ কুষ্টিয়ার কৃষক জাহিদুল ইসলামের পরিবার।


কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর একমাত্র সন্তান ছিল তাইবা। মেয়ের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শুরু করে রাজশাহী পর্যন্ত ছুটেছেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুস্থ সন্তানকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

হাম থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছিল ঘরে

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে তাইবার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি উঠলে চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করেন। স্থানীয় হাসপাতালে প্রায় ১২ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হয় এবং পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

স্বজনরা তখন স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হাম থেকে সেরে ওঠার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয় শিশুটি। শুরুতে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

রাজশাহীতে শুরু হয় নতুন লড়াই

গত ২৯ মে রাতে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাইবাকে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরদিন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

চিকিৎসার একপর্যায়ে ৩১ মে করা পরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর আইসিইউতে ডেঙ্গুর জটিলতা মাথায় রেখে চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা।

কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারও তখন নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ টেকেনি।


ওয়ার্ডে নেওয়ার পর আবার জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন আবার তাকে আইসিইউতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর লাইফ সাপোর্টসহ সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বাবার অভিযোগ, হাসপাতালের ব্যাখ্যা

মেয়ের মৃত্যুর পর শোকাহত বাবা জাহিদুল ইসলাম চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগের দিন একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে সেখানে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জাহিদুল বলেন, “আমার একটাই সন্তান ছিল। ওর জন্য যা যা সম্ভব করেছি। ভালো চিকিৎসার আশায় রাজশাহীতে এনেছিলাম। কিন্তু মেয়েকে আর ফিরিয়ে নিতে পারলাম না।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আইসিইউতে ভর্তির পর করা পরীক্ষায় তাইবার শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি এবং প্লাটিলেট কম পাওয়া যায়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করলে ফল পজিটিভ আসে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাঁর ভাষ্য, শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল বলেই তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে কেন হঠাৎ আবার অবনতি হলো, সেটি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি চিকিৎসাগতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

‘গরম রক্ত’ জোগাড়ে রাতভর দৌড়ঝাঁপ

তাইবাকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়েননি বাবা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়েছে তাঁকে। পরিবার জানায়, তাইবার রক্তের গ্রুপ মা-বাবার কারও সঙ্গে মেলেনি। সাধারণ নিয়মে রক্ত বদলের সুযোগ থাকলেও শিশুটির ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি।


চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, সংরক্ষিত রক্ত নয়, রক্তদাতার কাছ থেকে সংগ্রহের পরপরই রক্ত দিতে হবে। পরে জাহিদুলের এক ভাই রক্ত দেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়ে গিয়েছিল।

কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এমন ঘটনা?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, হাম থেকে সেরে ওঠা শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্যান্য সংক্রমণ সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নেই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর জটিলতা দ্রুত তৈরি হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন।

তাইবার মৃত্যু সেই উদ্বেগকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে হাম, অন্যদিকে ডেঙ্গুর মতো সংক্রমণ—দুইয়ের চাপ ছোট শিশুদের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার একটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তাধীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পৃথক তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

একটি পরিবারের কাছে তাইবা ছিল পুরো পৃথিবী। সেই পৃথিবী আজ শূন্য। আর তার গল্প মনে করিয়ে দেয়—শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর