দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

২৫ ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ, মামলা না করায় ওসিকে অযোগ্য বলল আদালত

হিজাব পরা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, স্কুল ইউনিফর্মে আলাদা ছাড়ের আবেদন খারিজ

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি, শুনানি ২৭ আগস্ট

কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে বিজিবির জোড়া অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, তিন নারীসহ আটক ৪

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ‘লেডি মীরজাফর’সহ আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ ঘটনায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার আবেদনে দাবি করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তাকে লক্ষ্য করে একটি আপত্তিকর ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন।

আবেদনপত্রে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই স্ট্যাটাসে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘লেডি মীরজাফর’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন বক্তব্য শুধু তাকে একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে অপমানিত করার বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ ও মর্যাদার প্রশ্নও জড়িত।

রুমিনের দাবি, এ ধরনের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগপত্রে রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজির কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিষ্টাচারবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

এ কারণেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযোগটি এখনো রুমিন ফারহানার আবেদনে উত্থাপিত বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে। ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বক্তব্য বা ওই ফেসবুক পোস্টের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এ তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কোনো বক্তব্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে পোস্টটির পূর্ণাঙ্গ কনটেক্সট, বক্তব্যের সত্যতা এবং প্রযোজ্য বিধি—সবকিছু পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি আইন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ তারা রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে কাজ করেন এবং তাদের পদটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ব্যক্তিগত মত প্রকাশের বড় মাধ্যম হলেও দায়িত্বশীল সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে পেশাগত আচরণবিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্তের বদলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।

অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: এই ঘটনার বড় দিক শুধু কে কাকে কী বলেছেন, সেটি নয়; বরং সরকারি দায়িত্ব পালনকারী একজন আইন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মন্তব্য করলে সেটি কোথায় ব্যক্তিগত মতামত থাকে আর কোথায় তার সরকারি পদমর্যাদার সঙ্গে জড়িয়ে যায়—সেই সীমারেখার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ১১ সেপ্টেম্বর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রুমিন ফারহানা।
  • পোস্টে ‘লেডি মীরজাফর’সহ আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে।
  • ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়েছেন রুমিন।
  • অভিযোগের বিষয়ে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বক্তব্য এই তথ্যের মধ্যে নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতবিরোধ এখন প্রায়ই ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে চলে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও আচরণের বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। একইভাবে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটিও যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত—এ পথই এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ।

বিষয় : রুমিন ফারহানা নজরুল ইসলাম ছোটন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস রুমিন ফারহানার চিঠি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ‘লেডি মীরজাফর’সহ আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ ঘটনায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার আবেদনে দাবি করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তাকে লক্ষ্য করে একটি আপত্তিকর ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন।

আবেদনপত্রে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই স্ট্যাটাসে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘লেডি মীরজাফর’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন বক্তব্য শুধু তাকে একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে অপমানিত করার বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ ও মর্যাদার প্রশ্নও জড়িত।

রুমিনের দাবি, এ ধরনের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগপত্রে রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজির কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিষ্টাচারবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

এ কারণেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযোগটি এখনো রুমিন ফারহানার আবেদনে উত্থাপিত বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে। ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বক্তব্য বা ওই ফেসবুক পোস্টের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এ তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কোনো বক্তব্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে পোস্টটির পূর্ণাঙ্গ কনটেক্সট, বক্তব্যের সত্যতা এবং প্রযোজ্য বিধি—সবকিছু পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি আইন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ তারা রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে কাজ করেন এবং তাদের পদটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ব্যক্তিগত মত প্রকাশের বড় মাধ্যম হলেও দায়িত্বশীল সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে পেশাগত আচরণবিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্তের বদলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।

অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: এই ঘটনার বড় দিক শুধু কে কাকে কী বলেছেন, সেটি নয়; বরং সরকারি দায়িত্ব পালনকারী একজন আইন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মন্তব্য করলে সেটি কোথায় ব্যক্তিগত মতামত থাকে আর কোথায় তার সরকারি পদমর্যাদার সঙ্গে জড়িয়ে যায়—সেই সীমারেখার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ১১ সেপ্টেম্বর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রুমিন ফারহানা।
  • পোস্টে ‘লেডি মীরজাফর’সহ আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে।
  • ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়েছেন রুমিন।
  • অভিযোগের বিষয়ে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বক্তব্য এই তথ্যের মধ্যে নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতবিরোধ এখন প্রায়ই ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে চলে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও আচরণের বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। একইভাবে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটিও যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত—এ পথই এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর