দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

নিয়ামতপুরে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য ৪০ লাখ টাকা

নিয়ামতপুরে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য ৪০ লাখ টাকা

রামপুরায় ১৪৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা স্থবির ছিল যান চলাচল

প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও থামছে না ড্রেজিংয়ের অভিযোগ, আতঙ্কে শাহপুর-রতনপুরের বাসিন্দারা

আয়ের পথ খুলতে মানবিক উদ্যোগ, বিধবা বিনা খাতুন পেলেন ছাগল; স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে নতুন আলো

চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে উত্তেজনা, এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চালক-মালিকদের হাতাহাতি

বিএমডিএর ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত, উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা

মায়ের লাশ দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তরুণী রেশমা বেগমের

রামপুরায় ১৪৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা স্থবির ছিল যান চলাচল

রামপুরায় ১৪৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা স্থবির ছিল যান চলাচল
ছাঁটাই ও বকেয়া বেতনের অভিযোগে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা। -ছবি: সংগৃহীত

রামপুরায় শ্রমিক বিক্ষোভে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক, ছাঁটাই ও বেতন বকেয়ার অভিযোগ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেই চাকরি হারানোর খবর। সঙ্গে বকেয়া বেতন না পাওয়ার অভিযোগ। ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা থেকে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়কে নেমে এলেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার দুপুরে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় কয়েক ঘণ্টার সড়ক অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে যান চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।


শ্রমিকদের দাবি, ‘টেক্সাস ড্রেসেস গার্মেন্টস’ নামে একটি পোশাক কারখানা কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ১৪৭ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। শুধু তাই নয়, গত মাসের বেতনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দাবির ভিত্তিতেই তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

ছুটি শেষে এসে দেখলেন কারখানা বন্ধ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির পর তারা নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দিতে কারখানায় আসেন। কিন্তু সেখানে এসে তারা জানতে পারেন কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক অনিমা অভিযোগ করেন, ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আগে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে অনেক পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

তার দাবি, ঈদের আগে বোনাস দেওয়া হলেও গত মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সংসার চালানো এবং পরিবার নিয়ে টিকে থাকা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।

অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

সোমবার সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। এতে রামপুরা থেকে মালিবাগগামী লেনে যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ যানজটের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ কেউ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও আশপাশের এলাকাতেও চাপ তৈরি হয়।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরে কয়েক ঘণ্টার যানজটের প্রভাব আশপাশের বিভিন্ন সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও শ্রমিকদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার সামনে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এমনকি তাদের ওপর মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, ঘটনার ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে।


ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী রামপুরা থানার এসআই সাইফুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কাজ করেছে।

তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা ছিল যে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করলে ভাঙচুর বা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে। সেই কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী বলছে পুলিশ প্রশাসন?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, ছাঁটাই হওয়া ১৪৭ শ্রমিকের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন।

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা শ্রম অধিদপ্তরে যাচ্ছেন এবং সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন বাড়ছে এমন শ্রমিক অসন্তোষ?

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক খাতে ছাঁটাই, বকেয়া বেতন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব প্রায়ই বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দেয়। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে শ্রমিকরা আগে থেকে জানেন না, তখন অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবের পর বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অনেক শ্রমিকের পরিবার সম্পূর্ণভাবে মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চাকরি হারানোর খবর শুধু একজন শ্রমিক নয়, একটি পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর যোগাযোগ থাকলে অনেক সংকট শুরুতেই সমাধান করা সম্ভব। অন্যথায় ক্ষোভ সড়কে নেমে আসতে পারে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নগর ব্যবস্থাপনার ওপরও।


এখন শ্রমিকদের দাবি, চাকরি পুনর্বহাল ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

বিষয় : ঢাকা যানজট, রামপুরা অবরোধ, গার্মেন্টস শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৪৭ শ্রমিক ছাঁটাই, বকেয়া বেতন, পোশাক শিল্প খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


রামপুরায় ১৪৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা স্থবির ছিল যান চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

রামপুরায় শ্রমিক বিক্ষোভে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক, ছাঁটাই ও বেতন বকেয়ার অভিযোগ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেই চাকরি হারানোর খবর। সঙ্গে বকেয়া বেতন না পাওয়ার অভিযোগ। ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা থেকে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়কে নেমে এলেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার দুপুরে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় কয়েক ঘণ্টার সড়ক অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে যান চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।


শ্রমিকদের দাবি, ‘টেক্সাস ড্রেসেস গার্মেন্টস’ নামে একটি পোশাক কারখানা কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ১৪৭ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। শুধু তাই নয়, গত মাসের বেতনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দাবির ভিত্তিতেই তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

ছুটি শেষে এসে দেখলেন কারখানা বন্ধ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির পর তারা নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দিতে কারখানায় আসেন। কিন্তু সেখানে এসে তারা জানতে পারেন কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক অনিমা অভিযোগ করেন, ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আগে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে অনেক পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

তার দাবি, ঈদের আগে বোনাস দেওয়া হলেও গত মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সংসার চালানো এবং পরিবার নিয়ে টিকে থাকা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।

অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

সোমবার সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। এতে রামপুরা থেকে মালিবাগগামী লেনে যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ যানজটের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ কেউ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও আশপাশের এলাকাতেও চাপ তৈরি হয়।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরে কয়েক ঘণ্টার যানজটের প্রভাব আশপাশের বিভিন্ন সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও শ্রমিকদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার সামনে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এমনকি তাদের ওপর মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, ঘটনার ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে।


ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী রামপুরা থানার এসআই সাইফুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কাজ করেছে।

তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা ছিল যে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করলে ভাঙচুর বা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে। সেই কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী বলছে পুলিশ প্রশাসন?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, ছাঁটাই হওয়া ১৪৭ শ্রমিকের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন।

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা শ্রম অধিদপ্তরে যাচ্ছেন এবং সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন বাড়ছে এমন শ্রমিক অসন্তোষ?

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক খাতে ছাঁটাই, বকেয়া বেতন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব প্রায়ই বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দেয়। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে শ্রমিকরা আগে থেকে জানেন না, তখন অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবের পর বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অনেক শ্রমিকের পরিবার সম্পূর্ণভাবে মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চাকরি হারানোর খবর শুধু একজন শ্রমিক নয়, একটি পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর যোগাযোগ থাকলে অনেক সংকট শুরুতেই সমাধান করা সম্ভব। অন্যথায় ক্ষোভ সড়কে নেমে আসতে পারে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নগর ব্যবস্থাপনার ওপরও।


এখন শ্রমিকদের দাবি, চাকরি পুনর্বহাল ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর