দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান

চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে উত্তেজনা, এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চালক-মালিকদের হাতাহাতি

বিএমডিএর ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত, উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা

মায়ের লাশ দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তরুণী রেশমা বেগমের

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রী স্বপ্নার যাবজ্জীবন

বেনাপোলে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যাচেষ্টা: দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই, আতঙ্কে পরিবার

পঞ্চগড় সীমান্তে ৩৮ ঘণ্টা ধরে আটকা ১০ জন, তৃষ্ণায় কাঁদছে তিন শিশু

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন, ৫ দিন পর লাপাত্তা প্রেমিক; চাঞ্চল্য পাবনায়

চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান

চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা থেকে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে সরিয়ে দেওয়া হয় দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান। -ছবি: সংগৃহীত

 পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।


নগরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, ভাসমান দোকান এবং সড়কের একাংশে ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে আন্দরকিল্লা, সিরাজউদ্দৌল্লা রোড এবং দেওয়ান বাজার এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। স্থানীয়দের দাবি, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

কোথায় চালানো হলো অভিযান?

চসিকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এরিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা ব্যবহার করে অসংখ্য ভাসমান দোকান 

রোববার বিকেলে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা

অভিযানের সময় শুধু ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেই থেমে থাকেনি কর্তৃপক্ষ। ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে দোকানের মালামাল এবং নির্মাণসামগ্রী রাখার মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জরিমানাও করা হয়।


তবে বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানার পরিমাণ বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পথচারীদের স্বস্তি, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

অভিযানের পর ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় অনেক পথচারী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, নগরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।

অন্যদিকে, ভাসমান দোকানের সঙ্গে জড়িত অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জীবিকার বিষয়টি সামনে আনছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। যদিও এ বিষয়ে অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন বারবার ফিরে আসে ফুটপাত দখলের সমস্যা?

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত দখল শুধু আইনশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গেও জড়িত। বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ কাজের সন্ধানে আসেন। তাদের একটি অংশ স্বল্প পুঁজিতে ফুটপাতভিত্তিক ব্যবসাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।

তবে যখন এই ব্যবসা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তা নগর জীবনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত তদারকি, নির্দিষ্ট হকার জোন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে উচ্ছেদের পরও একই সমস্যা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা কী?

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু কিছু সময় পর আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখলের অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, চলমান অভিযান কতটা স্থায়ী ফল দেবে।


নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ নয়, দখলমুক্ত এলাকা যাতে পুনরায় দখল না হয় সে জন্য নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের সড়ক ও ফুটপাত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য। তাই এসব জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা বা ব্যবসা পরিচালনা করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান, চট্টগ্রাম নিউজ, ভাসমান দোকান উচ্ছেদ, চসিক অভিযান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


চট্টগ্রামে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ করা হলো দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

 পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।


নগরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, ভাসমান দোকান এবং সড়কের একাংশে ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে আন্দরকিল্লা, সিরাজউদ্দৌল্লা রোড এবং দেওয়ান বাজার এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। স্থানীয়দের দাবি, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

কোথায় চালানো হলো অভিযান?

চসিকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এরিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা ব্যবহার করে অসংখ্য ভাসমান দোকান 

রোববার বিকেলে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

চারজনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা

অভিযানের সময় শুধু ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেই থেমে থাকেনি কর্তৃপক্ষ। ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে দোকানের মালামাল এবং নির্মাণসামগ্রী রাখার মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জরিমানাও করা হয়।


তবে বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানার পরিমাণ বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পথচারীদের স্বস্তি, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

অভিযানের পর ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় অনেক পথচারী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, নগরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।

অন্যদিকে, ভাসমান দোকানের সঙ্গে জড়িত অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জীবিকার বিষয়টি সামনে আনছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। যদিও এ বিষয়ে অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন বারবার ফিরে আসে ফুটপাত দখলের সমস্যা?

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত দখল শুধু আইনশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গেও জড়িত। বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ কাজের সন্ধানে আসেন। তাদের একটি অংশ স্বল্প পুঁজিতে ফুটপাতভিত্তিক ব্যবসাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।

তবে যখন এই ব্যবসা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তা নগর জীবনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত তদারকি, নির্দিষ্ট হকার জোন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে উচ্ছেদের পরও একই সমস্যা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা কী?

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু কিছু সময় পর আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখলের অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, চলমান অভিযান কতটা স্থায়ী ফল দেবে।


নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ নয়, দখলমুক্ত এলাকা যাতে পুনরায় দখল না হয় সে জন্য নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের সড়ক ও ফুটপাত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য। তাই এসব জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা বা ব্যবসা পরিচালনা করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর