ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শাহপুর ও রতনপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজিংকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় যেমন ড্রেজিং কার্যক্রম চলে, তেমনি রাতের অন্ধকারেও বালু উত্তোলনের কাজ অব্যাহত থাকে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য ও কৃষি উৎপাদন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, অভিযোগের পর স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু সেই পরিদর্শনের পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করছেন।
কয়েকজন কৃষক জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা ঘুরে যাওয়ার পর তারা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই আবার ড্রেজারের শব্দ শোনা যায়। এতে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরও কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না?
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই ড্রেজিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলছে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সংবাদ প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন এলাকার কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, নদী ও আশপাশের জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাটির স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, বছরের পর বছর ধরে যে জমিতে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন করেছেন, সেই জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভাঙন বাড়লে বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে ড্রেজিং হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে ভাঙন, ভূমিক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি করতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ কৃষিনির্ভর। যদি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের আয়, খাদ্য উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর। অন্যদিকে জমি নিয়ে বিরোধ, সামাজিক বিভাজন এবং আইনি জটিলতাও বাড়তে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যখন মানুষ নিজের বসতভিটা বা জীবিকার উৎস হারানোর আশঙ্কায় থাকে, তখন তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান না। তাদের একমাত্র দাবি হলো কৃষিজমি, পরিবেশ এবং বসতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ।
শাহপুর ও রতনপুর এলাকায় বালু উত্তোলন নিয়ে ওঠা অভিযোগ এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ ঘটনায় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শাহপুর ও রতনপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজিংকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় যেমন ড্রেজিং কার্যক্রম চলে, তেমনি রাতের অন্ধকারেও বালু উত্তোলনের কাজ অব্যাহত থাকে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য ও কৃষি উৎপাদন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, অভিযোগের পর স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু সেই পরিদর্শনের পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করছেন।
কয়েকজন কৃষক জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা ঘুরে যাওয়ার পর তারা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই আবার ড্রেজারের শব্দ শোনা যায়। এতে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরও কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না?
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই ড্রেজিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলছে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সংবাদ প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন এলাকার কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, নদী ও আশপাশের জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাটির স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, বছরের পর বছর ধরে যে জমিতে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন করেছেন, সেই জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভাঙন বাড়লে বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে ড্রেজিং হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে ভাঙন, ভূমিক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি করতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ কৃষিনির্ভর। যদি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের আয়, খাদ্য উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর। অন্যদিকে জমি নিয়ে বিরোধ, সামাজিক বিভাজন এবং আইনি জটিলতাও বাড়তে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যখন মানুষ নিজের বসতভিটা বা জীবিকার উৎস হারানোর আশঙ্কায় থাকে, তখন তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—
এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান না। তাদের একমাত্র দাবি হলো কৃষিজমি, পরিবেশ এবং বসতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ।
শাহপুর ও রতনপুর এলাকায় বালু উত্তোলন নিয়ে ওঠা অভিযোগ এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ ঘটনায় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন