বিএমডিএর ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত, কৃষি উন্নয়নে জোরালো কর্মপরিকল্পনার আলোচনা
উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংস্থার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টায় রাজশাহীতে বিএমডিএর বোর্ড কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিএমডিএর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, কৃষি সহায়তা কর্মসূচি এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে কৃষিবান্ধব উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ফিরোজ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আরমান হায়দার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উপকরণ) জসিম উদ্দিন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম অংশ নেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা (পিপিএম), বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম এবং নির্বাহী পরিচালক ও সদস্য সচিব আবু সাঈদ কামরুজ্জামান (এনডিসি)। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরাও সভায় যোগ দেন।
সভার শুরুতে বিএমডিএ জামে মসজিদের পেশ ইমাম এস এম রফিকুল ইসলাম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।
সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব সেচ ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, কৃষকদের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে পারলে কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই বিএমডিএর বিভিন্ন উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সেচব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার এবং কৃষি অবকাঠামোর উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। বিএমডিএ দীর্ঘদিন ধরে এসব খাতে কাজ করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের পরিচালনা বোর্ড সভা নীতিনির্ধারণ, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভা শেষে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিএমডিএর বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংস্থাটি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকরা সরাসরি এর সুফল পাবেন।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
বিএমডিএর ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত, কৃষি উন্নয়নে জোরালো কর্মপরিকল্পনার আলোচনা
উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংস্থার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টায় রাজশাহীতে বিএমডিএর বোর্ড কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিএমডিএর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, কৃষি সহায়তা কর্মসূচি এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে কৃষিবান্ধব উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ফিরোজ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আরমান হায়দার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উপকরণ) জসিম উদ্দিন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম অংশ নেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা (পিপিএম), বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম এবং নির্বাহী পরিচালক ও সদস্য সচিব আবু সাঈদ কামরুজ্জামান (এনডিসি)। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরাও সভায় যোগ দেন।
সভার শুরুতে বিএমডিএ জামে মসজিদের পেশ ইমাম এস এম রফিকুল ইসলাম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।
সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব সেচ ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, কৃষকদের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে পারলে কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই বিএমডিএর বিভিন্ন উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সেচব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার এবং কৃষি অবকাঠামোর উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। বিএমডিএ দীর্ঘদিন ধরে এসব খাতে কাজ করে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের পরিচালনা বোর্ড সভা নীতিনির্ধারণ, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভা শেষে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিএমডিএর বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংস্থাটি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকরা সরাসরি এর সুফল পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন