কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় অভিনব কৌশলে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে গাঁজা পাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক পাচারে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার খালি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে মাদক লুকিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস।
তালতলায় গ্যাস সিলিন্ডারে মিলল গাঁজা
পুলিশ সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কচাকাটা থানাধীন তালতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে তল্লাশি করা হয়।
পরে তার জিম্মায় থাকা একটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করে পুলিশের সন্দেহ হয়। সিলিন্ডারটি বিশেষভাবে কেটে ভেতরে তল্লাশি চালানো হলে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুজন মিয়া (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি কচাকাটা থানার শোভার কুঠি এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাদকগুলো রাজধানী ঢাকায় পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। তবে এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার
একই দিনে কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে নৌকাযোগে আসা এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
এ সময় তার কাছ থেকে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনায় মোন্নাফ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বালারহাট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোন্নাফ জানিয়েছেন, তিনি কথিত মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ভাষার পক্ষে নিয়মিত মাদক পরিবহনের কাজ করতেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীমান্তপথে বাড়ছে মাদক পাচারের ঝুঁকি
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। নানা সময় বিভিন্ন কৌশলে মাদক পরিবহনের অভিযোগ উঠলেও এবার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করার ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদক কারবারিরা এখন নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কখনো খাদ্যপণ্য, কখনো যানবাহনের গোপন অংশ, আবার কখনো গৃহস্থালি জিনিসের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে হবে। কারণ অনেক সময় সাধারণ পরিবহন বা বহনের আড়ালেই বড় চক্র সক্রিয় থাকে।
পুলিশের বক্তব্য
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলবে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে যারা মাদক পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে গাঁজা ও ইয়াবার প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান নয়, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক চক্রের অর্থের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং সীমান্ত রুটগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় অভিনব কৌশলে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে গাঁজা পাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক পাচারে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার খালি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে মাদক লুকিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস।
তালতলায় গ্যাস সিলিন্ডারে মিলল গাঁজা
পুলিশ সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কচাকাটা থানাধীন তালতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে তল্লাশি করা হয়।
পরে তার জিম্মায় থাকা একটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করে পুলিশের সন্দেহ হয়। সিলিন্ডারটি বিশেষভাবে কেটে ভেতরে তল্লাশি চালানো হলে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুজন মিয়া (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি কচাকাটা থানার শোভার কুঠি এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাদকগুলো রাজধানী ঢাকায় পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। তবে এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার
একই দিনে কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে নৌকাযোগে আসা এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
এ সময় তার কাছ থেকে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনায় মোন্নাফ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বালারহাট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোন্নাফ জানিয়েছেন, তিনি কথিত মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ভাষার পক্ষে নিয়মিত মাদক পরিবহনের কাজ করতেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীমান্তপথে বাড়ছে মাদক পাচারের ঝুঁকি
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। নানা সময় বিভিন্ন কৌশলে মাদক পরিবহনের অভিযোগ উঠলেও এবার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করার ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদক কারবারিরা এখন নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কখনো খাদ্যপণ্য, কখনো যানবাহনের গোপন অংশ, আবার কখনো গৃহস্থালি জিনিসের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে হবে। কারণ অনেক সময় সাধারণ পরিবহন বা বহনের আড়ালেই বড় চক্র সক্রিয় থাকে।
পুলিশের বক্তব্য
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলবে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে যারা মাদক পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে গাঁজা ও ইয়াবার প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান নয়, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক চক্রের অর্থের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং সীমান্ত রুটগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন