দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

নীলফামারীতে ট্রাক-মিথিলা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহতের আশঙ্কা আরও

হাবিপ্রবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: ৩১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, বন্ধ সব আবাসিক হল

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য, মানিকগঞ্জে গ্রেপ্তার প্রতারক মামুন

যমুনার ভাঙন রোধে টাঙ্গাইলে ৫০ কোটি টাকার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু আগামী অর্থবছরে

নওগাঁর মহাদেবপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নিহতের অভিযোগ, পলাতক স্বামী-শ্বশুর

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলি, সেনা অভিযানে অস্ত্র ও শতাধিক গুলি উদ্ধার

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের পর মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মসজিদসংলগ্ন এলাকা। -ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি।


শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর থানার সামনে অবস্থান নেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপি কর্মী আসিফ, জাহিদ, আল আমিন, সাগর, এনামুল কবীর ও মুদাচ্ছের। স্থানীয়ভাবে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


নামাজ শেষে কী ঘটেছিল?

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুমার নামাজ শেষে পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই পেছনের দিক থেকে কয়েকটি ডিম ছুড়ে মারা হয়। এরপরই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ।

এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, শুধু ডিম নিক্ষেপ নয়, পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে তাদের কর্মীদের আহত করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছেন, প্রথমে বিষয়টি “হঠাৎ উত্তেজনা” হিসেবেই দেখা গেলেও পরে তা রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আশপাশের দোকানপাটেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


ছাত্রদলের পাল্টা বক্তব্য

অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে গিয়েছিলেন।

তার দাবি, সেখানে উপস্থিত “বিক্ষুব্ধ জনতা” ক্ষোভ থেকে ডিম নিক্ষেপ করেছে। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

সাহেদের ভাষ্য, “আমি সেখানে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ছাত্রদলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ী করা হচ্ছে।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ বলছেন, মাঠের রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।


‘পরিকল্পিত হামলা’ দাবি পাটওয়ারীর

হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কিছু প্রভাবশালী মহলের মদতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তার ভাষায়, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


থানার সামনে বিক্ষোভ, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

ঘটনার পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

এ সময় তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “যদি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়।”


কেন বাড়ছে এমন সংঘাত?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সহনশীলতার ঘাটতি দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মতভেদ এখন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মাঠের সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হেয় করার প্রবণতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন—এসব কারণে ছোট ঘটনাও দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এখন অনেকের কাছে ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা দখল করেছে। ফলে প্রতিপক্ষের বক্তব্যকে মতভেদ হিসেবে না দেখে “আক্রমণ” হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে সামান্য উসকানিও বড় ধরনের সংঘর্ষ ডেকে আনছে।

এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব পড়ে।


তদন্তের দাবি, নজর প্রশাসনের দিকে

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই যদি ঘটনা চাপা পড়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঝিনাইদহজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ঘটনা। ডিম নিক্ষেপ দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক মিনিটের উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে।

বিষয় : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঝিনাইদহ হামলা, এনসিপি সংবাদ ছাত্রদল সংঘর্ষ, রাজনৈতিক হামলা বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি।


শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর থানার সামনে অবস্থান নেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপি কর্মী আসিফ, জাহিদ, আল আমিন, সাগর, এনামুল কবীর ও মুদাচ্ছের। স্থানীয়ভাবে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


নামাজ শেষে কী ঘটেছিল?

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুমার নামাজ শেষে পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই পেছনের দিক থেকে কয়েকটি ডিম ছুড়ে মারা হয়। এরপরই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ।

এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, শুধু ডিম নিক্ষেপ নয়, পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে তাদের কর্মীদের আহত করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছেন, প্রথমে বিষয়টি “হঠাৎ উত্তেজনা” হিসেবেই দেখা গেলেও পরে তা রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আশপাশের দোকানপাটেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


ছাত্রদলের পাল্টা বক্তব্য

অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে গিয়েছিলেন।

তার দাবি, সেখানে উপস্থিত “বিক্ষুব্ধ জনতা” ক্ষোভ থেকে ডিম নিক্ষেপ করেছে। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

সাহেদের ভাষ্য, “আমি সেখানে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ছাত্রদলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ী করা হচ্ছে।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ বলছেন, মাঠের রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।


‘পরিকল্পিত হামলা’ দাবি পাটওয়ারীর

হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কিছু প্রভাবশালী মহলের মদতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তার ভাষায়, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


থানার সামনে বিক্ষোভ, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

ঘটনার পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

এ সময় তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “যদি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়।”


কেন বাড়ছে এমন সংঘাত?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সহনশীলতার ঘাটতি দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মতভেদ এখন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মাঠের সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হেয় করার প্রবণতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন—এসব কারণে ছোট ঘটনাও দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এখন অনেকের কাছে ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা দখল করেছে। ফলে প্রতিপক্ষের বক্তব্যকে মতভেদ হিসেবে না দেখে “আক্রমণ” হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে সামান্য উসকানিও বড় ধরনের সংঘর্ষ ডেকে আনছে।

এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব পড়ে।


তদন্তের দাবি, নজর প্রশাসনের দিকে

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই যদি ঘটনা চাপা পড়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঝিনাইদহজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ঘটনা। ডিম নিক্ষেপ দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক মিনিটের উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর