দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বিরাট কোহলি-ট্রাভিস হেড দ্বন্দ্বে উত্তাল আইপিএল, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকও করলেন না কোহলি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা | ICC Women’s T20 World Cup 2026

সিলেট টেস্টে শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের দ্বারপ্রান্তে, পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান

চার বিশ্বকাপের বিরল কীর্তিতে নেইমার, পেলে-রোনালদোদের অভিজাত তালিকায় নতুন নাম

সিলেট টেস্টে টস জিতে পাকিস্তানের বোলিং সিদ্ধান্ত, একাদশে বড় পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের জমকালো ফাইনাল, শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর ক্রীড়াঙ্গন

আজই কি শিরোপা উৎসব? কুমিল্লার মহারণে মুখোমুখি বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
প্রথম আসরে না থাকলেও দ্বিতীয় নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফিতে জায়গা পেতে পারে বাংলাদেশ নারী দল। -ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের ক্রিকেটে নতুন দরজা খুলছে? বাংলাদেশকে নিয়েই বড় পরিকল্পনায় আইসিসি

প্রথম আসরে জায়গা হয়নি বাংলাদেশের। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই টুর্নামেন্টেই এবার দেখা যেতে পারে টাইগ্রেসদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে—এমন খবর প্রকাশের পর দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরেই হতে পারে টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় সংস্করণ। আর সেখানে ৮ দলের বদলে ১০ দল নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজনের কথা ভাবছে আইসিসি। প্রস্তাবিত দলগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের সাম্প্রতিক এক অনলাইন বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।


বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য এটি শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

যে টুর্নামেন্টে প্রথমবার ছিল না বাংলাদেশ

২০২৫ সালে প্রথমবার আয়োজন করা হয়েছিল নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি। তখন অংশ নিয়েছিল শুধুই সহযোগী সদস্যভুক্ত আটটি দেশ। স্বাগতিক ছিল থাইল্যান্ড। এছাড়া খেলেছিল স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়া।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলকে রাখা হয়নি তখন। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রশ্নও উঠেছিল। কারণ, নারী ক্রিকেটে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অনেক শক্তিশালী।

তবে দ্বিতীয় আসরে সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলকে যুক্ত করার চিন্তা করছে আইসিসি। এর সঙ্গে থাকছে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাপুয়া নিউগিনি।

যদিও টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নারী ক্রিকেটে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব মানচিত্র

একসময় নারী ক্রিকেট মানেই ছিল হাতে গোনা কয়েকটি সিরিজ আর বিশ্বকাপ। কিন্তু গত কয়েক বছরে পুরো চিত্র বদলে গেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট, যুব বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে মেয়েদের ক্রিকেটে এখন ব্যস্ত সূচি।

বিশেষ করে ভারতের নারী প্রিমিয়ার লিগ (WPL) শুরুর পর বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটে বাণিজ্যিক আগ্রহও বেড়েছে। আইসিসিও এখন নারী ক্রিকেটকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। ইমার্জিং নেশনস ট্রফির মতো টুর্নামেন্টকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ক্রিকেট–সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় দলগুলোর বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য এমন টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার আগে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ সামলানোর সুযোগ পান না।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ সীমিত। ফলে নতুন এই টুর্নামেন্ট তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য হতে পারে বড় প্রস্তুতির জায়গা।

থাইল্যান্ড যেভাবে সবাইকে চমকে দিয়েছিল

প্রথম নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির ফলও ছিল বেশ নাটকীয়। থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস—চার দলের পয়েন্ট সমান হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক থাইল্যান্ড।


এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, নারী ক্রিকেটে এখন আর শুধু বড় দলগুলোর আধিপত্য নেই। ছোট বা সহযোগী দেশগুলোও দ্রুত এগিয়ে আসছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড ও আমিরাতের মতো দল গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতি করেছে।

এ কারণেই আইসিসি নারী ক্রিকেটকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ

নারী ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যে সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে ১২টি দল অংশ নেবে।

বাংলাদেশ পড়েছে কঠিন গ্রুপে। ‘এ’ গ্রুপে টাইগ্রেসদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে একই সময়ে চলবে ফুটবল বিশ্বকাপও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর দুই বিশ্বমঞ্চে ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন যেভাবে বাড়ছে, তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম থাকবে না বলেই মনে করছেন আয়োজকেরা।

বাংলাদেশে হতে পারে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ

নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি সুখবর ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্রিকেট মহলে। আগামী বছর নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা চলছে।

যদি সেটি বাস্তব হয়, তাহলে নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, অবকাঠামো, দর্শকসংস্কৃতি ও তরুণদের আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অন্তর্ভুক্তি?

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট গত কয়েক বছরে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক কাঠামোয় এখনো নিয়মিত বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ।


এ কারণেই ইমার্জিং নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জাতীয় দলের কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী বেঞ্চ গড়তে হলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। আর সেই জায়গাতেই এই ধরনের টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত আইসিসি আনুষ্ঠানিক সূচি বা ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

বিষয় : বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট ICC Emerging Nations Trophy Women T20 World Cup টাইগ্রেস ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

মেয়েদের ক্রিকেটে নতুন দরজা খুলছে? বাংলাদেশকে নিয়েই বড় পরিকল্পনায় আইসিসি

প্রথম আসরে জায়গা হয়নি বাংলাদেশের। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই টুর্নামেন্টেই এবার দেখা যেতে পারে টাইগ্রেসদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে—এমন খবর প্রকাশের পর দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরেই হতে পারে টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় সংস্করণ। আর সেখানে ৮ দলের বদলে ১০ দল নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজনের কথা ভাবছে আইসিসি। প্রস্তাবিত দলগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের সাম্প্রতিক এক অনলাইন বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।


বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য এটি শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

যে টুর্নামেন্টে প্রথমবার ছিল না বাংলাদেশ

২০২৫ সালে প্রথমবার আয়োজন করা হয়েছিল নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি। তখন অংশ নিয়েছিল শুধুই সহযোগী সদস্যভুক্ত আটটি দেশ। স্বাগতিক ছিল থাইল্যান্ড। এছাড়া খেলেছিল স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়া।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলকে রাখা হয়নি তখন। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রশ্নও উঠেছিল। কারণ, নারী ক্রিকেটে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অনেক শক্তিশালী।

তবে দ্বিতীয় আসরে সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলকে যুক্ত করার চিন্তা করছে আইসিসি। এর সঙ্গে থাকছে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাপুয়া নিউগিনি।

যদিও টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নারী ক্রিকেটে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব মানচিত্র

একসময় নারী ক্রিকেট মানেই ছিল হাতে গোনা কয়েকটি সিরিজ আর বিশ্বকাপ। কিন্তু গত কয়েক বছরে পুরো চিত্র বদলে গেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট, যুব বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে মেয়েদের ক্রিকেটে এখন ব্যস্ত সূচি।

বিশেষ করে ভারতের নারী প্রিমিয়ার লিগ (WPL) শুরুর পর বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটে বাণিজ্যিক আগ্রহও বেড়েছে। আইসিসিও এখন নারী ক্রিকেটকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। ইমার্জিং নেশনস ট্রফির মতো টুর্নামেন্টকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ক্রিকেট–সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় দলগুলোর বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য এমন টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার আগে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ সামলানোর সুযোগ পান না।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ সীমিত। ফলে নতুন এই টুর্নামেন্ট তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য হতে পারে বড় প্রস্তুতির জায়গা।

থাইল্যান্ড যেভাবে সবাইকে চমকে দিয়েছিল

প্রথম নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির ফলও ছিল বেশ নাটকীয়। থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস—চার দলের পয়েন্ট সমান হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক থাইল্যান্ড।


এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, নারী ক্রিকেটে এখন আর শুধু বড় দলগুলোর আধিপত্য নেই। ছোট বা সহযোগী দেশগুলোও দ্রুত এগিয়ে আসছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড ও আমিরাতের মতো দল গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতি করেছে।

এ কারণেই আইসিসি নারী ক্রিকেটকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ

নারী ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যে সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে ১২টি দল অংশ নেবে।

বাংলাদেশ পড়েছে কঠিন গ্রুপে। ‘এ’ গ্রুপে টাইগ্রেসদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে একই সময়ে চলবে ফুটবল বিশ্বকাপও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর দুই বিশ্বমঞ্চে ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন যেভাবে বাড়ছে, তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম থাকবে না বলেই মনে করছেন আয়োজকেরা।

বাংলাদেশে হতে পারে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ

নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি সুখবর ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্রিকেট মহলে। আগামী বছর নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা চলছে।

যদি সেটি বাস্তব হয়, তাহলে নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, অবকাঠামো, দর্শকসংস্কৃতি ও তরুণদের আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অন্তর্ভুক্তি?

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট গত কয়েক বছরে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক কাঠামোয় এখনো নিয়মিত বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ।


এ কারণেই ইমার্জিং নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জাতীয় দলের কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী বেঞ্চ গড়তে হলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। আর সেই জায়গাতেই এই ধরনের টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত আইসিসি আনুষ্ঠানিক সূচি বা ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর