দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

টেকনাফে ‘প্রশাসনের সোর্স’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, শাহাব উদ্দিনকে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের “সোর্স” পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং সেই প্রভাবের আড়ালে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা ও অস্ত্রসহ একাধিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি বারবার জামিনে বেরিয়ে আসছেন। এরপর আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে দাবি উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।[TECHTARANGA-POST:1393]সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগহোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাব উদ্দিনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক পাচারের সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, শুধু মাদক নয়, অস্ত্র কারবারের সঙ্গেও তার নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত।স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, টেকনাফ থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলোর অগ্রগতি বা আইনগত অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগএলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় বা “সোর্স” পরিচয় ব্যবহার করে শাহাব উদ্দিন এলাকায় এক ধরনের আধিপত্য তৈরি করেছেন। ফলে অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না।স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে সবাই সব জানে, কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না। কারণ অভিযোগ আছে, তিনি প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করেন। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে।”তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সম্পর্ক বা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্যও করেননি।এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও সামাজিক প্রভাবস্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার নতুন কিছু নয়। তবে কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদক কারবারের কারণে তরুণদের একটি অংশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। পরিবারে অস্থিরতা বাড়ছে, একই সঙ্গে এলাকায় অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নষ্ট করে না, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সীমান্ত এলাকায় এসব চক্র ভাঙা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।”স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নএলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বহুবার বিভিন্ন অভিযানে শাহাব উদ্দিনের নাম এলেও তাকে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।তাদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো ব্যক্তি সত্যিই প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সেটি আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।তদন্তের দাবি স্থানীয়দেরএলাকাবাসী ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।স্থানীয়দের মতে, টেকনাফের মতো সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র কারবার বন্ধ করতে হলে শুধু বাহক নয়, এর সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।একাধিক বাসিন্দা দাবি করেছেন, শাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। সেই বলয়ের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।[TECHTARANGA-POST:1394]এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহাব উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র কারবার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টেকনাফে ‘প্রশাসনের সোর্স’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, শাহাব উদ্দিনকে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন