দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

শীতের আগমনী বার্তাতেও রাজধানীর সবজিবাজারে স্বস্তি নেই

২ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ১৮০ স্কুল, ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮৮২

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল
রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। -ছবি: সংগৃহীত

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্ষোভ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় কালশী রোডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। রাস্তাজুড়ে শুধু একটি দাবিই শোনা গেছে—“রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি।”


সন্ধ্যার পর থেকেই ফুলকলি ও আধুনিক মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নারী, কিশোর, শিক্ষার্থী, অভিভাবক—সবাই যেন একই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের কারণে কালশী রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন অফিসফেরত মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে বিচারহীনতার অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেন, দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার পর নিয়মিত প্রতিবাদ হলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় অপরাধীরা ভয় পায় না। তাদের ভাষায়, “ঘটনা ঘটার পর কয়েকদিন আলোচনা হয়, তারপর সব থেমে যায়। কিন্তু পরিবারগুলোর জীবন আর আগের মতো থাকে না।”

একজন নারী বিক্ষোভকারী বলেন, “আজ রামিসা, কাল হয়তো অন্য কারও সন্তান। আমরা শুধু শোক প্রকাশ করতে চাই না, এবার বিচার দেখতে চাই।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে এখন অনেক অভিভাবক ভয় পাচ্ছেন।

বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে শিশু সুরক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

যেভাবে সামনে আসে রামিসার মৃত্যুর ঘটনা

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেননি। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া

রামিসা হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—“কেন বারবার শিশুদেরই এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে?”

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা সমাজে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মানুষের আবেগকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, কারণ এতে পরিবার ও সমাজের সবচেয়ে অসহায় অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নগর জীবনের বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি এবং অপরাধের পর দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি—এসব বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার পেছনে আলাদা বাস্তবতা থাকে, তবুও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মত তাদের।

আতঙ্কে অভিভাবকরা, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে

ঘটনার পর পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছেন। কেউ শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না, আবার কেউ স্কুলে আনা-নেওয়ার সময়ও বাড়তি নজর রাখছেন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “এখন আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। বাচ্চাদের নিয়ে সারাক্ষণ ভয় কাজ করছে।”

এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ অভিযোগ তুলেছেন, শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সচেতনতা ও নজরদারি ব্যবস্থা এখনও দুর্বল। তারা বলছেন, শুধু কোনো একটি ঘটনার পর অভিযান চালালে হবে না, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দরকার।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে ধীরে ধীরে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে এলাকাবাসী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাসে তারা থামতে চান না। তাদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত দৃশ্যমান হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা যখনই সামনে আসে, তখন কিছু সময়ের জন্য তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। কিন্তু রামিসার ঘটনায় মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি নয়; এটি নিরাপদ সমাজের দাবিও।

বিষয় : রামিসা হত্যা, পল্লবী হত্যাকাণ্ড কালশী সড়ক অবরোধ, জাস্টিস ফর রামিসা, শিশু হত্যা বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে কালশীতে সড়ক অবরোধ, থমকে যায় যান চলাচল

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্ষোভ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় কালশী রোডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। রাস্তাজুড়ে শুধু একটি দাবিই শোনা গেছে—“রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি।”


সন্ধ্যার পর থেকেই ফুলকলি ও আধুনিক মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নারী, কিশোর, শিক্ষার্থী, অভিভাবক—সবাই যেন একই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের কারণে কালশী রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন অফিসফেরত মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে বিচারহীনতার অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেন, দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার পর নিয়মিত প্রতিবাদ হলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় অপরাধীরা ভয় পায় না। তাদের ভাষায়, “ঘটনা ঘটার পর কয়েকদিন আলোচনা হয়, তারপর সব থেমে যায়। কিন্তু পরিবারগুলোর জীবন আর আগের মতো থাকে না।”

একজন নারী বিক্ষোভকারী বলেন, “আজ রামিসা, কাল হয়তো অন্য কারও সন্তান। আমরা শুধু শোক প্রকাশ করতে চাই না, এবার বিচার দেখতে চাই।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে এখন অনেক অভিভাবক ভয় পাচ্ছেন।

বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে শিশু সুরক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

যেভাবে সামনে আসে রামিসার মৃত্যুর ঘটনা

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেননি। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া

রামিসা হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—“কেন বারবার শিশুদেরই এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে?”

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা সমাজে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মানুষের আবেগকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, কারণ এতে পরিবার ও সমাজের সবচেয়ে অসহায় অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নগর জীবনের বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি এবং অপরাধের পর দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি—এসব বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার পেছনে আলাদা বাস্তবতা থাকে, তবুও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মত তাদের।

আতঙ্কে অভিভাবকরা, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে

ঘটনার পর পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছেন। কেউ শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না, আবার কেউ স্কুলে আনা-নেওয়ার সময়ও বাড়তি নজর রাখছেন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “এখন আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। বাচ্চাদের নিয়ে সারাক্ষণ ভয় কাজ করছে।”

এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ অভিযোগ তুলেছেন, শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সচেতনতা ও নজরদারি ব্যবস্থা এখনও দুর্বল। তারা বলছেন, শুধু কোনো একটি ঘটনার পর অভিযান চালালে হবে না, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দরকার।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে ধীরে ধীরে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে এলাকাবাসী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাসে তারা থামতে চান না। তাদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত দৃশ্যমান হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা যখনই সামনে আসে, তখন কিছু সময়ের জন্য তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। কিন্তু রামিসার ঘটনায় মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি নয়; এটি নিরাপদ সমাজের দাবিও।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর