পবিত্র ঈদুল আযহার দিনেও যশোর সীমান্তে থামেনি চোরাচালান কার্যক্রম। সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকজাতীয় সিরাপ, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, চকলেট ও কসমেটিক্সসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে ৪৯ বিজিবি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর মাসিলা, বেনাপোল বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির দাবি, এসব মালামাল সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
অভিযানে যা যা উদ্ধার
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানে ভারতীয় ২৫ বোতল ESCUF সিরাপ, ৪৫ বোতল WINCEREX কফ সিরাপ, একটি বাটন মোবাইল ফোন, ১৩২৩টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ৪৮টি খাদ্যসামগ্রী, ৬৬৮টি চকলেট, ১০ প্যাকেট পাতার বিড়ি, আধা কেজি কিসমিস এবং ৭৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট চালানের আড়ালে বড় চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় নজরদারি ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের চেষ্টা বাড়ে।
আটক ব্যক্তির পরিচয়
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তি হলেন যশোর জেলার চৌগাছা থানার গদাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম মন্ডল (৪০)। তিনি মৃত সৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
পরে আটক ব্যক্তিকে চৌগাছা থানায় মামলা দায়েরের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালানের ঝুঁকি
বেনাপোল ও আশপাশের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। নানা সময় ভারতীয় পণ্য, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ ওষুধ পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ওষুধ এবং নেশাজাতীয় সিরাপ তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা বলছেন, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে হবে। কারণ অনেক সময় ছোট পরিবহন বা সাধারণ পণ্যের আড়ালে বড় চক্র কাজ করে।
বিজিবির বক্তব্য
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ওষুধ ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রবেশ বাড়লে তরুণ সমাজ ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান নয়, চোরাচালানের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক ও আর্থিক উৎস চিহ্নিত করাও জরুরি। না হলে সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আযহার দিনেও যশোর সীমান্তে থামেনি চোরাচালান কার্যক্রম। সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকজাতীয় সিরাপ, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, চকলেট ও কসমেটিক্সসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে ৪৯ বিজিবি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর মাসিলা, বেনাপোল বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির দাবি, এসব মালামাল সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
অভিযানে যা যা উদ্ধার
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানে ভারতীয় ২৫ বোতল ESCUF সিরাপ, ৪৫ বোতল WINCEREX কফ সিরাপ, একটি বাটন মোবাইল ফোন, ১৩২৩টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ৪৮টি খাদ্যসামগ্রী, ৬৬৮টি চকলেট, ১০ প্যাকেট পাতার বিড়ি, আধা কেজি কিসমিস এবং ৭৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট চালানের আড়ালে বড় চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় নজরদারি ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের চেষ্টা বাড়ে।
আটক ব্যক্তির পরিচয়
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তি হলেন যশোর জেলার চৌগাছা থানার গদাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম মন্ডল (৪০)। তিনি মৃত সৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
পরে আটক ব্যক্তিকে চৌগাছা থানায় মামলা দায়েরের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালানের ঝুঁকি
বেনাপোল ও আশপাশের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। নানা সময় ভারতীয় পণ্য, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ ওষুধ পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ওষুধ এবং নেশাজাতীয় সিরাপ তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা বলছেন, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে হবে। কারণ অনেক সময় ছোট পরিবহন বা সাধারণ পণ্যের আড়ালে বড় চক্র কাজ করে।
বিজিবির বক্তব্য
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ওষুধ ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রবেশ বাড়লে তরুণ সমাজ ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান নয়, চোরাচালানের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক ও আর্থিক উৎস চিহ্নিত করাও জরুরি। না হলে সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

আপনার মতামত লিখুন