দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

যশোরে বাসে অভিযান: প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক, চোরাচালান চক্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন

যশোরে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ঘিরে সীমান্ত চোরাচালান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।মহাসড়কে হঠাৎ অভিযান, বাসে তল্লাশিবুধবার বিকেলে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় একটি বিশেষ টহল দল।পরে সন্দেহজনক একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১) নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে লুকানো অবস্থায় প্রায় ৯০০ গ্রাম গোল্ড পেস্ট উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করা হয়।গোল্ড পেস্ট থেকে মিলল খাঁটি স্বর্ণবিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া শুধু স্বর্ণই নয়, অভিযানে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, আজারবাইজানের মানাত, ভারতীয় রুপি এবং বাংলাদেশি টাকাও ছিল।সব মিলিয়ে এসব স্বর্ণ ও মুদ্রার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে বিজিবি।পরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে উদ্ধার হওয়া গোল্ড পেস্ট আসলে খাঁটি স্বর্ণ। সাধারণত চোরাচালানের সময় স্বর্ণ গলিয়ে পেস্ট আকারে বহন করা হয়, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।আটক ব্যক্তির পরিচয় ও প্রাথমিক তথ্যবিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ওয়াজিদ আলী ভারতের মুম্বাইয়ের ভিওয়ান্দি থানে এলাকার বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে ভারত, মধ্যপ্রাচ্যসহ একাধিক দেশে যাতায়াত করেছেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি মুম্বাই থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা হয়ে সড়কপথে সাতক্ষীরা দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন।[TECHTARANGA-POST:1090]তবে তার এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।বিজিবির কঠোর অবস্থানযশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ, মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের নির্দেশনায় জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।”সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রবণতাবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যশোর, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব অঞ্চলে স্বর্ণ, মাদক ও বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচারের ঘটনা মাঝেমধ্যে সামনে আসে।স্থানীয়দের মতে, পাচারকারীরা যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত বাহন এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করে।কেন বাড়ছে স্বর্ণ চোরাচালানবিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং দুই দেশের মধ্যে কর ও আমদানি নীতির পার্থক্যের কারণে চোরাচালানের প্রবণতা তৈরি হয়।একজন অর্থনীতি বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্বর্ণ সহজে বহনযোগ্য এবং উচ্চমূল্যের হওয়ায় এটি চোরাচালানকারীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় পণ্য হয়ে উঠেছে।”তিনি আরও বলেন, গলানো স্বর্ণ বা গোল্ড পেস্ট ব্যবহার করা হলে তা শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হয়, যা পাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে নেয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাবর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও মাদক জব্দ হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, বিজিবির এই ধরনের তৎপরতা সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াএলাকাবাসী বিজিবির এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো গেলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অপরাধীরা আর সাহস পাবে না।”[TECHTARANGA-POST:1077]উপসংহার যশোরের এই অভিযান আবারও প্রমাণ করলো, চোরাচালানকারীরা যতই কৌশল ব্যবহার করুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়ানো সহজ নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় স্থায়ীভাবে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও জনসচেতনতা আরও বাড়ানো জরুরি।

যশোরে বাসে অভিযান: প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক, চোরাচালান চক্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন