রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের কালশী এলাকায় সন্ধ্যার পর হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন বস্তির বাসিন্দারা। মুহূর্তেই কয়েকটি টিনশেড ঘর আগুনে পুড়তে শুরু করলে চারদিকে ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। খবর পেয়ে একের পর এক ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পানির সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের বিস্তৃতি ঠেকাতে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর দাহ্য বস্তু ও ঘনবসতির কারণে আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরের ভেতর থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের বের করে আনতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেকে পানির বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তাতে তেমন কাজ হয়নি।
এক নারী বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে চলে এসেছি।”
তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
প্রথমে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। এরপর আরও দুটি ইউনিট যোগ দিলে মোট সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংকীর্ণ রাস্তা ও ঘনবসতির কারণেও কাজ করতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস লিকেজ, সরু গলি এবং দাহ্য নির্মাণসামগ্রী—সব মিলিয়ে এসব এলাকা সবসময় বড় ঝুঁকিতে থাকে।
বিশেষ করে টিন, প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি ঘরগুলোতে আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এলোমেলো তারের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আগুন নেভানো নয়, ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি। নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও অনেক দুর্বল। বস্তিগুলোতে জরুরি পানির লাইন, প্রশস্ত প্রবেশপথ এবং সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো না গেলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চললেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মধ্যে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে। কেউ কেউ আশপাশের আত্মীয়ের বাসায় চলে গেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বস্তি এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে আগুনের ভিডিও ও ছবি। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কেন এখনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্ত করে কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এরপরই জানা যাবে আগুনের পেছনে কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসাবধানতা নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের কালশী এলাকায় সন্ধ্যার পর হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন বস্তির বাসিন্দারা। মুহূর্তেই কয়েকটি টিনশেড ঘর আগুনে পুড়তে শুরু করলে চারদিকে ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। খবর পেয়ে একের পর এক ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পানির সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের বিস্তৃতি ঠেকাতে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর দাহ্য বস্তু ও ঘনবসতির কারণে আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরের ভেতর থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের বের করে আনতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেকে পানির বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তাতে তেমন কাজ হয়নি।
এক নারী বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে চলে এসেছি।”
তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
প্রথমে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। এরপর আরও দুটি ইউনিট যোগ দিলে মোট সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংকীর্ণ রাস্তা ও ঘনবসতির কারণেও কাজ করতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস লিকেজ, সরু গলি এবং দাহ্য নির্মাণসামগ্রী—সব মিলিয়ে এসব এলাকা সবসময় বড় ঝুঁকিতে থাকে।
বিশেষ করে টিন, প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি ঘরগুলোতে আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এলোমেলো তারের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আগুন নেভানো নয়, ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি। নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও অনেক দুর্বল। বস্তিগুলোতে জরুরি পানির লাইন, প্রশস্ত প্রবেশপথ এবং সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো না গেলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চললেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মধ্যে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে। কেউ কেউ আশপাশের আত্মীয়ের বাসায় চলে গেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বস্তি এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে আগুনের ভিডিও ও ছবি। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কেন এখনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্ত করে কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এরপরই জানা যাবে আগুনের পেছনে কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসাবধানতা নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন