৪৯ বিজিবির অভিযানে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল আটক
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আবারও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্সসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল আটক করেছে ৪৯ বিজিবি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সারাদিন বেনাপোল আইসিপি ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।কী কী উদ্ধার হয়েছে?বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানে ভারতীয় ৪৫টি শাড়ি, ১৭৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৩ প্যাকেট সন পাপড়ী এবং ২ প্যাকেট জর্দা আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মোট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা।[TECHTARANGA-POST:1445]আটককৃত পণ্যের বেশিরভাগই অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে দেশের ভেতরে আনার চেষ্টা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি বিজিবি।সীমান্তে বাড়ছে নজরদারিযশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোল সীমান্তকে ঘিরে বিভিন্ন পাচারচক্র সক্রিয় থাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের পণ্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়ার চেষ্টা চলে। মাঝে মধ্যেই বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক হলেও পাচারচক্র পুরোপুরি থেমে নেই।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি যত বাড়ছে, পাচারকারীরাও তত নতুন কৌশল নিচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।বিজিবির বক্তব্যএ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান পিএসসি সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, “যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”কেন থামছে না চোরাচালান?বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধ পণ্যের চাহিদা এবং দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে ভারতীয় কসমেটিক্স, শাড়ি ও ভোগ্যপণ্যের বাজার চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এসব পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।এছাড়া সীমান্ত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং কিছু অসাধু দালালচক্রের সহায়তায় পাচারকারীরা প্রায়ই নতুন রুট ব্যবহার করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1443]স্থানীয়দের প্রত্যাশাসীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আশা করছেন, বিজিবির চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে এবং চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের মতে, অবৈধ পণ্য দেশের অর্থনীতি ও বৈধ ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চোরাই পথে আসা পণ্যের কারণে স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।