দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ ঘোষণা, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উন্মুক্ত ২৬ ব্লক

অস্ট্রেলিয়ায় চার দিনের কর্মসপ্তাহে মিলল ইতিবাচক ফল, উৎপাদনশীলতা কমেনি কোনো প্রতিষ্ঠানে

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শাকিল হোসেনের ফাঁসির রায়

সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার বিচার শেষের আশ্বাস, ধর্ষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গণপিটুনির পর বাড়ির মালিকের ছেলে পুলিশের হেফাজতে

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩
মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গভীর রাতে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চালায় ফায়ার সার্ভিস। -ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আবারও রক্ত ঝরল। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে গেল দুটি আলাদা সড়ক দুর্ঘটনা। একটিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক ট্রাকচালক, অন্যটিতে আহত হয়েছেন তিন যাত্রী। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে পড়ে ব্যস্ত এই এক্সপ্রেসওয়ে।


রোববার রাত দেড়টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে উপজেলার দোগাছি ও সমষপুর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে একই রাতে একই সড়কে পরপর দুটি দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মুখোমুখি সংঘর্ষ, প্রাণ গেল চালকের

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টার দিকে শ্রীনগরের দোগাছি সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুতগতিতে আসা মালবোঝাই দুটি ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

খবর পেয়ে রাত পৌনে ২টার দিকে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক মো. হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. হোসেন চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মো. টাবুর ছেলে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে থানার হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সংঘর্ষের পর দুটি ট্রাকই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চালককে বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ওই অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

কয়েক ঘণ্টা পর আরেক দুর্ঘটনা

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর যাত্রীছাউনির সামনে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাত ৩টার দিকে বাস ও প্রাইভেট কারসহ তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত তিনজন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়ার শেরপুর এলাকার মোহাম্মদ তৌফিক সিদ্দিক, ফরিদপুরের ভাঙ্গার সিনতিয়া এবং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হামিদা। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।


তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত গতি, চালকদের ক্লান্তি কিংবা সড়কে অসতর্কতা—কোন বিষয়টি দায়ী, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাতের এক্সপ্রেসওয়ে কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ?

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মহাসড়ক। দিনে-রাতে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই পথে। কিন্তু প্রায়ই এই সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। বিশেষ করে গভীর রাতে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, রাতের বেলায় অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানেন না। আবার দীর্ঘ সময় টানা গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্তি থেকেও দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে চালকের সহকারী বা হেলপার দিয়েও গাড়ি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মী বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাস্তব প্রয়োগও জরুরি। এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়মিত নজরদারি, স্পিড মনিটরিং এবং বিশ্রাম ব্যবস্থার অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ যানজট

দুটি দুর্ঘটনার পর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দোগাছি এলাকায় মালবোঝাই ট্রাক দুটি সড়কের বড় অংশজুড়ে আটকে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার ও যান সরানোর কাজ চালান। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই তাঁদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমষপুরের দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাড়ছে উদ্বেগ, চাই কার্যকর উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সড়কে দীর্ঘ সময় কাজ করা চালকদের মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং ক্লান্তিও দুর্ঘটনার পেছনে বড় কারণ হতে পারে। অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যেও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ থাকে, যা চালকদের ওপর প্রভাব ফেলে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালকদের দায়ী করলেই হবে না। প্রয়োজন সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। একই সঙ্গে চালকদের বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

মুন্সিগঞ্জের এই দুই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানো কত সহজে কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ, বদলে দিতে পারে বহু মানুষের জীবন।

বিষয় : চট্টগ্রাম সড়ক দুর্ঘটনা, মুন্সিগঞ্জ দুর্ঘটনা,মুন্সিগঞ্জ দুর্ঘটনা, ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাকচালক নিহত এক্সপ্রেসওয়ে নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আবারও রক্ত ঝরল। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে গেল দুটি আলাদা সড়ক দুর্ঘটনা। একটিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক ট্রাকচালক, অন্যটিতে আহত হয়েছেন তিন যাত্রী। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে পড়ে ব্যস্ত এই এক্সপ্রেসওয়ে।


রোববার রাত দেড়টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে উপজেলার দোগাছি ও সমষপুর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে একই রাতে একই সড়কে পরপর দুটি দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মুখোমুখি সংঘর্ষ, প্রাণ গেল চালকের

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টার দিকে শ্রীনগরের দোগাছি সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুতগতিতে আসা মালবোঝাই দুটি ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

খবর পেয়ে রাত পৌনে ২টার দিকে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক মো. হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. হোসেন চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মো. টাবুর ছেলে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে থানার হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সংঘর্ষের পর দুটি ট্রাকই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চালককে বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ওই অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

কয়েক ঘণ্টা পর আরেক দুর্ঘটনা

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর যাত্রীছাউনির সামনে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাত ৩টার দিকে বাস ও প্রাইভেট কারসহ তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত তিনজন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়ার শেরপুর এলাকার মোহাম্মদ তৌফিক সিদ্দিক, ফরিদপুরের ভাঙ্গার সিনতিয়া এবং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হামিদা। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।


তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত গতি, চালকদের ক্লান্তি কিংবা সড়কে অসতর্কতা—কোন বিষয়টি দায়ী, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাতের এক্সপ্রেসওয়ে কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ?

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মহাসড়ক। দিনে-রাতে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই পথে। কিন্তু প্রায়ই এই সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। বিশেষ করে গভীর রাতে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, রাতের বেলায় অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানেন না। আবার দীর্ঘ সময় টানা গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্তি থেকেও দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে চালকের সহকারী বা হেলপার দিয়েও গাড়ি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মী বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাস্তব প্রয়োগও জরুরি। এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়মিত নজরদারি, স্পিড মনিটরিং এবং বিশ্রাম ব্যবস্থার অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ যানজট

দুটি দুর্ঘটনার পর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দোগাছি এলাকায় মালবোঝাই ট্রাক দুটি সড়কের বড় অংশজুড়ে আটকে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার ও যান সরানোর কাজ চালান। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই তাঁদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমষপুরের দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাড়ছে উদ্বেগ, চাই কার্যকর উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সড়কে দীর্ঘ সময় কাজ করা চালকদের মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং ক্লান্তিও দুর্ঘটনার পেছনে বড় কারণ হতে পারে। অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যেও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ থাকে, যা চালকদের ওপর প্রভাব ফেলে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালকদের দায়ী করলেই হবে না। প্রয়োজন সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। একই সঙ্গে চালকদের বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

মুন্সিগঞ্জের এই দুই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানো কত সহজে কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ, বদলে দিতে পারে বহু মানুষের জীবন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর