সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন অফিস—শুনতে অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে কাজ করে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিতর্ক। এবার অস্ট্রেলিয়ার এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটির ১৫টি প্রতিষ্ঠানে দুই বছর ধরে চালানো চার দিনের কর্মসপ্তাহ মডেলে দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা কমেনি। বরং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি ও ফলাফল আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টিই এই পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মীদের মানসিক চাপ কমানো, কর্মক্ষয় রোধ এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই মূলত এই মডেল চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী Nature Humanities and Social Sciences Communications-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গবেষণাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ‘১০০:৮০:১০০’ মডেল অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ কর্মীরা আগের মতোই শতভাগ বেতন পেয়েছেন, কিন্তু কাজ করেছেন সময়ের হিসেবে মাত্র ৮০ শতাংশ। তবে বিনিময়ে প্রত্যাশা ছিল আগের মতোই পূর্ণ উৎপাদনশীলতা।
সহজভাবে বললে, পাঁচ দিনের কাজ চার দিনে শেষ করতে হয়েছে কর্মীদের। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠান মিটিং কমিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রকাশনা, লজিস্টিকস, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাসহ নানা খাতের কোম্পানি ছিল। গবেষকদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল না কর্মীদের দিয়ে আরও বেশি কাজ আদায় করা; বরং তাদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমানো।
গবেষণায় অংশ নেওয়া একটি স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্মীদের অসুস্থতাজনিত ছুটি ও মানসিক চাপে ছুটি নেওয়ার হার কমেছে। একইসঙ্গে কর্মী চাকরি ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও আগের তুলনায় কমেছে।
অন্যদিকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নারী প্রধান নির্বাহী বলেন, কর্মীদের ভালো জীবনযাপনের কথা বলে অফিসে বিপরীত পরিবেশ তৈরি করা “ভণ্ডামির মতো” মনে হয়েছে তাঁর কাছে। তাই তারা বাস্তবেই কর্মীদের ব্যক্তিগত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর পর তাদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। বাকিরা বলেছে, উৎপাদনশীলতা আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনশীলতা কমার অভিযোগ করেনি।
সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই মডেলকে ১০-এর মধ্যে গড়ে ৮ দশমিক ৫ নম্বর দিয়েছে, যা গবেষকদের কাছেও “আশাব্যঞ্জক” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে কর্মপরিবেশ নিয়ে মানুষের ভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বাসা থেকে কাজ, হাইব্রিড অফিস এবং নমনীয় সময়সূচির মতো ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার পর এখন চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে।
বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে “ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স” এখন বড় একটি বিষয়। আগের প্রজন্ম যেখানে দীর্ঘ সময় অফিসে থাকাকে দায়িত্ববোধের অংশ মনে করত, এখনকার অনেক কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবার ও ব্যক্তিগত সময়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এমন বাস্তবতায় চার দিনের কর্মসপ্তাহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছেই নতুন সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা বাড়ার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এআই ব্যবহারে অনেক কাজ কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে একই কাজ করতে আগের মতো দীর্ঘ অফিস সময়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সম্প্রতি ওপেনএআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এআই থেকে উৎপাদনশীলতার যে বাড়তি সুবিধা তৈরি হচ্ছে, তার সুফল শুধু কোম্পানি নয়, কর্মীদের কাছেও পৌঁছানো উচিত।
যদিও সমালোচকদের একাংশ বলছেন, সব খাতে এই মডেল কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, জরুরি সেবা বা খুচরা ব্যবসার মতো জায়গায় কম সময় কাজের বাস্তবতা এখনও জটিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন কর্মক্ষয় বা ‘বার্নআউট’ বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অফিস, কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সবসময় “অনলাইনে” থাকার সংস্কৃতি কর্মীদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাটিও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, মানুষ যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় পায়, তখন তারা কাজে বেশি মনোযোগী ও সৃজনশীল হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘসময় কাজ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়ে—এমন ধারণা এখন অনেকটাই পুরোনো। বরং অতিরিক্ত কাজ মানুষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত ও অনুৎসাহী করে তোলে।
শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, যুক্তরাজ্য, আইসল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশেও চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং চাকরিতে সন্তুষ্টি বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি রাতারাতি সবার জন্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্কৃতি ও শিল্পখাতের ধরন ভিন্ন। তাই কোথাও সফল হওয়া মানেই সব জায়গায় একই ফল মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
তারপরও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক এই গবেষণা একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—কম সময় অফিস করলেই যে কাজের মান পড়ে যাবে, সেই পুরোনো ধারণা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন অফিস—শুনতে অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে কাজ করে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিতর্ক। এবার অস্ট্রেলিয়ার এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটির ১৫টি প্রতিষ্ঠানে দুই বছর ধরে চালানো চার দিনের কর্মসপ্তাহ মডেলে দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা কমেনি। বরং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি ও ফলাফল আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টিই এই পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মীদের মানসিক চাপ কমানো, কর্মক্ষয় রোধ এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই মূলত এই মডেল চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী Nature Humanities and Social Sciences Communications-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গবেষণাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ‘১০০:৮০:১০০’ মডেল অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ কর্মীরা আগের মতোই শতভাগ বেতন পেয়েছেন, কিন্তু কাজ করেছেন সময়ের হিসেবে মাত্র ৮০ শতাংশ। তবে বিনিময়ে প্রত্যাশা ছিল আগের মতোই পূর্ণ উৎপাদনশীলতা।
সহজভাবে বললে, পাঁচ দিনের কাজ চার দিনে শেষ করতে হয়েছে কর্মীদের। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠান মিটিং কমিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রকাশনা, লজিস্টিকস, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাসহ নানা খাতের কোম্পানি ছিল। গবেষকদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল না কর্মীদের দিয়ে আরও বেশি কাজ আদায় করা; বরং তাদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমানো।
গবেষণায় অংশ নেওয়া একটি স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্মীদের অসুস্থতাজনিত ছুটি ও মানসিক চাপে ছুটি নেওয়ার হার কমেছে। একইসঙ্গে কর্মী চাকরি ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও আগের তুলনায় কমেছে।
অন্যদিকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নারী প্রধান নির্বাহী বলেন, কর্মীদের ভালো জীবনযাপনের কথা বলে অফিসে বিপরীত পরিবেশ তৈরি করা “ভণ্ডামির মতো” মনে হয়েছে তাঁর কাছে। তাই তারা বাস্তবেই কর্মীদের ব্যক্তিগত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর পর তাদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। বাকিরা বলেছে, উৎপাদনশীলতা আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনশীলতা কমার অভিযোগ করেনি।
সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই মডেলকে ১০-এর মধ্যে গড়ে ৮ দশমিক ৫ নম্বর দিয়েছে, যা গবেষকদের কাছেও “আশাব্যঞ্জক” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে কর্মপরিবেশ নিয়ে মানুষের ভাবনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বাসা থেকে কাজ, হাইব্রিড অফিস এবং নমনীয় সময়সূচির মতো ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার পর এখন চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে।
বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে “ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স” এখন বড় একটি বিষয়। আগের প্রজন্ম যেখানে দীর্ঘ সময় অফিসে থাকাকে দায়িত্ববোধের অংশ মনে করত, এখনকার অনেক কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবার ও ব্যক্তিগত সময়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এমন বাস্তবতায় চার দিনের কর্মসপ্তাহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছেই নতুন সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা বাড়ার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এআই ব্যবহারে অনেক কাজ কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে একই কাজ করতে আগের মতো দীর্ঘ অফিস সময়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সম্প্রতি ওপেনএআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এআই থেকে উৎপাদনশীলতার যে বাড়তি সুবিধা তৈরি হচ্ছে, তার সুফল শুধু কোম্পানি নয়, কর্মীদের কাছেও পৌঁছানো উচিত।
যদিও সমালোচকদের একাংশ বলছেন, সব খাতে এই মডেল কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, জরুরি সেবা বা খুচরা ব্যবসার মতো জায়গায় কম সময় কাজের বাস্তবতা এখনও জটিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন কর্মক্ষয় বা ‘বার্নআউট’ বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অফিস, কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সবসময় “অনলাইনে” থাকার সংস্কৃতি কর্মীদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাটিও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, মানুষ যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় পায়, তখন তারা কাজে বেশি মনোযোগী ও সৃজনশীল হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘসময় কাজ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়ে—এমন ধারণা এখন অনেকটাই পুরোনো। বরং অতিরিক্ত কাজ মানুষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত ও অনুৎসাহী করে তোলে।
শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, যুক্তরাজ্য, আইসল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশেও চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং চাকরিতে সন্তুষ্টি বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি রাতারাতি সবার জন্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্কৃতি ও শিল্পখাতের ধরন ভিন্ন। তাই কোথাও সফল হওয়া মানেই সব জায়গায় একই ফল মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
তারপরও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক এই গবেষণা একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—কম সময় অফিস করলেই যে কাজের মান পড়ে যাবে, সেই পুরোনো ধারণা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন