দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৪ মে ২০২৬

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গণপিটুনির পর বাড়ির মালিকের ছেলে পুলিশের হেফাজতে

ফরিদপুরে বিআরটিসি বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫, মহাসড়কে হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা

হোয়াইট হাউসের কাছে ফের গুলি, পাল্টা গুলিতে নিহত বন্দুকধারী

বগুড়ায় ৩০০ ইয়াবাসহ আটক দুই পুলিশ সদস্য, ডিবির অভিযানে চাঞ্চল্য

গ্যাস সিলিন্ডারে লুকিয়ে গাঁজা পাচার, কুড়িগ্রামে পুলিশের হাতে আটক ২

কুষ্টিয়ায় ডাম্প ট্রাক-বাস সংঘর্ষে নিহত ৩, খাদে পড়ে আহত অন্তত ২০

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, সংঘর্ষে আহত ৬

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩
কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গুলির ঘটনার পর আতঙ্কিত মানুষজনের ছোটাছুটি। -ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় হঠাৎ করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। রোববার (২৪ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালত চত্বরে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ। ঘটনার পরপরই আদালত এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।


চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আদালতপাড়াজুড়ে তৈরি হয় ভীতিকর পরিস্থিতি। মুহূর্তেই ছোটাছুটি শুরু করেন উপস্থিত মানুষজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। যদিও পুলিশ এখনো পুরো ঘটনার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি, তবে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করার কথা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হাজিরা দিতে গিয়ে হামলার মুখে

আইনজীবী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সহযোগীও ছিলেন।

হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কয়েকজন দৌড়ে এসে গুলি ছোড়ে। এতে আদালত চত্বরে থাকা মানুষ আতঙ্কে আশপাশের ভবন ও কক্ষের ভেতরে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কেউ কেউ মাটিতে শুয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের মতো হয়ে ওঠে।

আদালতের পাশেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়

ঘটনাস্থলের খুব কাছেই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় অবস্থিত। ফলে গুলির ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিয়াউল হক নামে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। কেন এই হামলা হয়েছে এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিরোধ নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা?

ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ নাকি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, আদালত প্রাঙ্গণের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের ঘটনা শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় তৈরি করে। আদালত এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আসেন। সেই জায়গাতেই যদি অস্ত্রের মহড়া দেখা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থায় ধাক্কা লাগে।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আদালতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। এখানে গুলি চলার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।”

বাড়ছে প্রকাশ্য সহিংসতার ঝুঁকি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা, গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধের মানসিকতা এবং সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছেন। এতে তরুণদের একটি অংশও সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।


এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। আদালত, হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে কয়েকটি বিষয়

পুলিশ সূত্র বলছে, হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীরা আদালত এলাকায় কীভাবে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।

এদিকে, ঘটনার পর আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিষয় : কক্সবাজার আদালতে গুলি কক্সবাজার সংবাদ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আহত আদালত প্রাঙ্গণে হামলা, কক্সবাজার বিএনপি সংঘর্ষ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আহত ৩

কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় হঠাৎ করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। রোববার (২৪ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালত চত্বরে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ। ঘটনার পরপরই আদালত এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।


চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আদালতপাড়াজুড়ে তৈরি হয় ভীতিকর পরিস্থিতি। মুহূর্তেই ছোটাছুটি শুরু করেন উপস্থিত মানুষজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। যদিও পুলিশ এখনো পুরো ঘটনার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি, তবে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করার কথা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হাজিরা দিতে গিয়ে হামলার মুখে

আইনজীবী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সহযোগীও ছিলেন।

হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কয়েকজন দৌড়ে এসে গুলি ছোড়ে। এতে আদালত চত্বরে থাকা মানুষ আতঙ্কে আশপাশের ভবন ও কক্ষের ভেতরে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কেউ কেউ মাটিতে শুয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের মতো হয়ে ওঠে।

আদালতের পাশেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়

ঘটনাস্থলের খুব কাছেই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় অবস্থিত। ফলে গুলির ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিয়াউল হক নামে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। কেন এই হামলা হয়েছে এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিরোধ নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা?

ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ নাকি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, আদালত প্রাঙ্গণের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের ঘটনা শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় তৈরি করে। আদালত এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আসেন। সেই জায়গাতেই যদি অস্ত্রের মহড়া দেখা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থায় ধাক্কা লাগে।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আদালতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। এখানে গুলি চলার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।”

বাড়ছে প্রকাশ্য সহিংসতার ঝুঁকি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা, গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধের মানসিকতা এবং সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছেন। এতে তরুণদের একটি অংশও সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।


এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। আদালত, হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে কয়েকটি বিষয়

পুলিশ সূত্র বলছে, হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীরা আদালত এলাকায় কীভাবে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।

এদিকে, ঘটনার পর আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর