দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বেনাপোলে একের পর এক অভিযান, এবার ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামালসহ আটক যুবক!

বেনাপোলে একের পর এক অভিযান, এবার ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামালসহ আটক যুবক!

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার দুই শিক্ষক!

ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন আনছে ইসি: থাকছে না পোস্টার, দলীয় প্রতীক ও ইভিএম

শোকাহত রামিসার পরিবারের পাশে তারেক রহমান, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস

রামিসা হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বড় মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা

৪৯ বিজিবির অভিযানে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল আটক

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা

বেনাপোলে একের পর এক অভিযান, এবার ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামালসহ আটক যুবক!

বেনাপোলে একের পর এক অভিযান, এবার ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামালসহ আটক যুবক!
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে জব্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য।

বেনাপোল সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ, আটক ১

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, যা সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে আনার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২২ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫ টাকা।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি হলেন যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে বদরুজ্জামান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।



কী কী মালামাল জব্দ করা হয়েছে?

বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে ভারতীয় ৭৫টি শাড়ি, একটি কম্বল, ১৩ কেজি জিরা, ৯৯ কেজি ফুসকা, ১৫ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৫ প্যাকেট সন পাপড়ি, ১০৮টি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, ৪৫টি আমের চাটনি, ৪ হাজার ১৮৭টি চকলেট এবং ২ হাজার ২১২টি কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সাধারণত সীমান্তবর্তী এলাকায় ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে আনা হয়। পরে বিভিন্ন বাজার ও দোকানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র থাকে না, ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে নজরদারি

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের কারণে এসব তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।


সীমান্ত এলাকায় কেন বাড়ছে চোরাচালান?

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ছোট-বড় চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, পোশাক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের চাহিদাকে কেন্দ্র করে এসব অবৈধ ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

অনেক সময় কম দামে পণ্য পাওয়ার লোভে সাধারণ মানুষও এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে বাজারে অবৈধ পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়, যা চোরাকারবারিদের আরও সক্রিয় করে তোলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চোরাচালান শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি দেশের বৈধ ব্যবসা ও স্থানীয় উৎপাদকদের জন্যও বড় ক্ষতির কারণ। কারণ অবৈধ পথে আনা পণ্যে কর বা শুল্ক না থাকায় বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।


স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বেনাপোল সীমান্তের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, সম্প্রতি বিজিবির টহল ও অভিযান আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য আনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এখনও বিভিন্ন কৌশলে চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, সীমান্ত এলাকার তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ অনেক সময় দ্রুত আয়ের আশায় কিছু মানুষ এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।



আইনি প্রক্রিয়া চলমান

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ হওয়া মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে সীমান্তজুড়ে চলমান অভিযানের কারণে চোরাচালান চক্রের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় জনসচেতনতা ও তথ্য সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : বিজিবি অভিযান বেনাপোল সীমান্ত যশোর সংবাদ চোরাচালান মালামাল সীমান্তে আটক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বেনাপোলে একের পর এক অভিযান, এবার ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামালসহ আটক যুবক!

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

বেনাপোল সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ, আটক ১

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, যা সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে আনার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২২ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫ টাকা।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি হলেন যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে বদরুজ্জামান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।



কী কী মালামাল জব্দ করা হয়েছে?

বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে ভারতীয় ৭৫টি শাড়ি, একটি কম্বল, ১৩ কেজি জিরা, ৯৯ কেজি ফুসকা, ১৫ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৫ প্যাকেট সন পাপড়ি, ১০৮টি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, ৪৫টি আমের চাটনি, ৪ হাজার ১৮৭টি চকলেট এবং ২ হাজার ২১২টি কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সাধারণত সীমান্তবর্তী এলাকায় ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে আনা হয়। পরে বিভিন্ন বাজার ও দোকানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র থাকে না, ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে নজরদারি

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের কারণে এসব তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।


সীমান্ত এলাকায় কেন বাড়ছে চোরাচালান?

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ছোট-বড় চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, পোশাক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের চাহিদাকে কেন্দ্র করে এসব অবৈধ ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

অনেক সময় কম দামে পণ্য পাওয়ার লোভে সাধারণ মানুষও এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে বাজারে অবৈধ পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়, যা চোরাকারবারিদের আরও সক্রিয় করে তোলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চোরাচালান শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি দেশের বৈধ ব্যবসা ও স্থানীয় উৎপাদকদের জন্যও বড় ক্ষতির কারণ। কারণ অবৈধ পথে আনা পণ্যে কর বা শুল্ক না থাকায় বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।


স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বেনাপোল সীমান্তের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, সম্প্রতি বিজিবির টহল ও অভিযান আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য আনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এখনও বিভিন্ন কৌশলে চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, সীমান্ত এলাকার তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ অনেক সময় দ্রুত আয়ের আশায় কিছু মানুষ এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।



আইনি প্রক্রিয়া চলমান

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ হওয়া মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে সীমান্তজুড়ে চলমান অভিযানের কারণে চোরাচালান চক্রের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় জনসচেতনতা ও তথ্য সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর