দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা

পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে বাথরুমে আটকে নৃশংসতা: লামিসার বাবার বুফাটা আর্তনাদ কিভাবে থাকবো কলিজার টুকরাকে ছাড়া | বিচার চাইলেন

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

গাজীপুরের কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী জুনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী

বেনাপোলে বিজিবির বড় অভিযান, ১২ লাখ টাকার মালামাল আটক

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাবিবার সফল অপারেশন, নতুন নাম রাখা হলো ‘জুবাইদা’

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প—নতুন সম্ভাবনার দিকে বাংলাদেশের আকাশপথ।-ছবি: সংগৃহীত

 প্রধান সংবাদ প্রতিবেদন

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে নতুন আগ্রহ, আলোচনায় আমিরাতের ডানাটা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডানাটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসতেই বিমান খাত ঘিরে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এইচ ই আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহামৌদি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে উঠে আসে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় ডানাটার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক পর্যায়ে এখন প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।

বৈঠকে জানানো হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এখনও চলমান। এর অংশ হিসেবে ওআরএটি (Operational Readiness and Airport Transfer) কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান,
“টার্মিনাল পুরোপুরি প্রস্তুত হলে এবং সব পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হলে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

অর্থাৎ এখনই কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন নয়, বরং বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছ

 দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

বৈঠকে শুধু বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিমান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


রাষ্ট্রদূত আলহামৌদি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিমান ও পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয়ও জানান তিনি।




 কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আগ্রহ

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়বে। ফলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বাড়তে পারে।

তবে এ ধরনের অংশীদারিত্বে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



 সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের বিমান খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল নির্মাণ—সব মিলিয়ে এ খাত দ্রুত আধুনিকতার দিকে এগোচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও সামনে আসে—বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ কতটা স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে?
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ এবং সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশীয় স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।


মানসিক ও সামাজিক দিক থেকে দেখা গেলে, এ ধরনের বড় প্রকল্প ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। যাত্রীসেবার উন্নতি, সময় বাঁচানো এবং ঝামেলাহীন ভ্রমণ—এসবই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল ডানাটা বাংলাদেশ বিমানবন্দর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ঢাকার বিমানবন্দর উন্নয়ন, বাংলাদেশ আমিরাত সম্পর্ক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে আমিরাতের ডানাটা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

 প্রধান সংবাদ প্রতিবেদন

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে নতুন আগ্রহ, আলোচনায় আমিরাতের ডানাটা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডানাটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসতেই বিমান খাত ঘিরে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এইচ ই আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহামৌদি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে উঠে আসে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় ডানাটার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক পর্যায়ে এখন প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।

বৈঠকে জানানো হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এখনও চলমান। এর অংশ হিসেবে ওআরএটি (Operational Readiness and Airport Transfer) কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান,
“টার্মিনাল পুরোপুরি প্রস্তুত হলে এবং সব পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হলে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

অর্থাৎ এখনই কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন নয়, বরং বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছ

 দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

বৈঠকে শুধু বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিমান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


রাষ্ট্রদূত আলহামৌদি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিমান ও পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয়ও জানান তিনি।




 কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আগ্রহ

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়বে। ফলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বাড়তে পারে।

তবে এ ধরনের অংশীদারিত্বে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



 সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের বিমান খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল নির্মাণ—সব মিলিয়ে এ খাত দ্রুত আধুনিকতার দিকে এগোচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও সামনে আসে—বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ কতটা স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে?
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ এবং সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশীয় স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।


মানসিক ও সামাজিক দিক থেকে দেখা গেলে, এ ধরনের বড় প্রকল্প ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। যাত্রীসেবার উন্নতি, সময় বাঁচানো এবং ঝামেলাহীন ভ্রমণ—এসবই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর