কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্যে একটি অভিযানে প্রাইভেটকারের ভেতর লুকানো অবস্থায় ইয়াবা উদ্ধার করে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ও রাতে উখিয়া ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাইভেটকারের স্টিয়ারিংয়ে লুকানো ছিল ইয়াবা
বিজিবি সূত্র জানায়, সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে পৌঁছালে সন্দেহের ভিত্তিতে গাড়িটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় কালো কসটেপে মোড়ানো প্যাকেট পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক মোঃ আব্দুল্লাহ (৩০) কে আটক করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কক্সবাজারে নেওয়ার কথা স্বীকারের দাবি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ইয়াবাগুলো টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করে কক্সবাজারে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তে আরেক অভিযানে উদ্ধার ২ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা
একই দিনে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাকেরের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়।
পরে রাত ৮টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেট ও নীল বায়ুরোধী মোড়কে রাখা ২৯টি কার্টন থেকে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান
বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার পর পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তে বাড়ছে মাদক পাচারের ঝুঁকি
সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত অভিযান চালিয়েও চোরাকারবারীরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়া সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চক্রগুলোর তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়। এ কারণে শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্যে একটি অভিযানে প্রাইভেটকারের ভেতর লুকানো অবস্থায় ইয়াবা উদ্ধার করে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ও রাতে উখিয়া ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাইভেটকারের স্টিয়ারিংয়ে লুকানো ছিল ইয়াবা
বিজিবি সূত্র জানায়, সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে পৌঁছালে সন্দেহের ভিত্তিতে গাড়িটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় কালো কসটেপে মোড়ানো প্যাকেট পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক মোঃ আব্দুল্লাহ (৩০) কে আটক করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কক্সবাজারে নেওয়ার কথা স্বীকারের দাবি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ইয়াবাগুলো টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করে কক্সবাজারে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তে আরেক অভিযানে উদ্ধার ২ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা
একই দিনে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাকেরের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়।
পরে রাত ৮টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেট ও নীল বায়ুরোধী মোড়কে রাখা ২৯টি কার্টন থেকে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান
বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার পর পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তে বাড়ছে মাদক পাচারের ঝুঁকি
সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত অভিযান চালিয়েও চোরাকারবারীরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়া সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চক্রগুলোর তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়। এ কারণে শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন