মাদকবিরোধী অভিযানে দক্ষতা বাড়াতে পরিচালিত বিশেষ অস্ত্র প্রশিক্ষণে ‘বেস্ট ট্রেইনি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বগুড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) জিললুর রহমান। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ৩৫ দিনের আর্মস ট্রেনিং কোর্সের চতুর্থ ব্যাচে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।
শনিবার আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির কমান্ড্যান্ট বাসুদেব বণিকসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ডিএনসির মোট ৫৭৯ কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সারদা পুলিশ একাডেমিতে পর্যায়ক্রমে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
চতুর্থ ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে উপপরিদর্শক থেকে উপপরিচালক পদমর্যাদার ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে অস্ত্র চালনা, নিরাপত্তা কৌশল, অভিযানের সময় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৬০ কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বাকি কর্মকর্তাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জিললুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ডিএনসির কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বড় ভূমিকা রাখবে। অভিযানের সময় ঝুঁকি মোকাবিলায়ও এটি সহায়ক হবে।”
তাঁর এই অর্জনে সহকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বগুড়া ডিএনসি কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণে তাঁর পারফরম্যান্স শুরু থেকেই ভালো ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযানে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরছিলেন। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে অনেক সময় হামলা, প্রতিরোধ কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মুখোমুখি হতে হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের টেন্ডার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হতে পারে।
ডিএনসি কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক মহলে যেমন ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে, তেমনি কিছু মহলে সতর্কতার কথাও বলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি হলেও অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর জবাবদিহি এবং নিয়মতান্ত্রিক নজরদারি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে অস্ত্র থাকলে তার ব্যবহার নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ফলে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবাধিকার, আইনি সীমা এবং দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
ডিএনসি ও পুলিশ একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, চলমান এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ব্যাচে কর্মকর্তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার আগে প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক মানদণ্ড হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম যুক্ত হলে মাঠপর্যায়ে অভিযানের কার্যকারিতা বাড়বে। তবে পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
মাদকবিরোধী অভিযানে দক্ষতা বাড়াতে পরিচালিত বিশেষ অস্ত্র প্রশিক্ষণে ‘বেস্ট ট্রেইনি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বগুড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) জিললুর রহমান। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ৩৫ দিনের আর্মস ট্রেনিং কোর্সের চতুর্থ ব্যাচে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।
শনিবার আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির কমান্ড্যান্ট বাসুদেব বণিকসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ডিএনসির মোট ৫৭৯ কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সারদা পুলিশ একাডেমিতে পর্যায়ক্রমে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
চতুর্থ ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে উপপরিদর্শক থেকে উপপরিচালক পদমর্যাদার ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে অস্ত্র চালনা, নিরাপত্তা কৌশল, অভিযানের সময় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৬০ কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বাকি কর্মকর্তাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জিললুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ডিএনসির কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বড় ভূমিকা রাখবে। অভিযানের সময় ঝুঁকি মোকাবিলায়ও এটি সহায়ক হবে।”
তাঁর এই অর্জনে সহকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বগুড়া ডিএনসি কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণে তাঁর পারফরম্যান্স শুরু থেকেই ভালো ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযানে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরছিলেন। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে অনেক সময় হামলা, প্রতিরোধ কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মুখোমুখি হতে হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের টেন্ডার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হতে পারে।
ডিএনসি কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক মহলে যেমন ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে, তেমনি কিছু মহলে সতর্কতার কথাও বলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি হলেও অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর জবাবদিহি এবং নিয়মতান্ত্রিক নজরদারি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে অস্ত্র থাকলে তার ব্যবহার নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ফলে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবাধিকার, আইনি সীমা এবং দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
ডিএনসি ও পুলিশ একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, চলমান এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ব্যাচে কর্মকর্তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার আগে প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক মানদণ্ড হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম যুক্ত হলে মাঠপর্যায়ে অভিযানের কার্যকারিতা বাড়বে। তবে পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন