দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

লৌহজংয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর পুলিশ

লৌহজংয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর পুলিশ

ফরিদপুরে ১১ দিন পর মিলল মা-মেয়ের মরদেহ, কুকুরের টেনে বের করা পা দেখে প্রকাশ্যে আসে হত্যার রহস্য

মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার

১০৬ বছরের ইতিহাসে ইতি, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিটেনের প্রাচীন রোলার কোস্টার

মানবসেবায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ব্রিটেনের রাজার আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যারিস্টার তুষার

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের অভিযোগ: আইন কী বলছে, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

স্কুল ড্রেস পরে মডেল মসজিদে টিকটক, বকশীগঞ্জের এক ছাত্রীকে

লৌহজংয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর পুলিশ

লৌহজংয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর পুলিশ
লৌহজংয়ে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবাসহ আটক যুবক। -ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লৌহজং থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সাতঘড়িয়া এলাকায় শাহজাহান খন্দকারের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।


আটক ব্যক্তি হলেন মো. ইমন হোসেন (২৫)। তার বাবার নাম শাহ আলম শেখ এবং মায়ের নাম ইয়াসমিন আক্তার। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মেঘুলা এলাকায়। এছাড়া তিনি রাজধানীর শাহআলী থানার মিরপুর-১ নম্বর এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

স্থানীয় পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে। অভিযানের সময় রাস্তার পাশে অবস্থানরত এক যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে তার কাছে থাকা একটি প্যাকেট তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজে মাদক সংগ্রহ করতে পারছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তারা প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।


মাদক বিস্তারে সামাজিক প্রভাব

মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন মন্তব্য করেছেন সচেতন মহলের অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবার মতো মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যাও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মাদকের প্রবেশ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগে শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বিভিন্ন উপজেলাতেও মাদক ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার ও সামাজিক সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের বক্তব্য

লৌহজং থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কোনো মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়।


পুলিশ আরও বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও জানিয়েছে তারা।

তদন্তের পর মিলবে আরও তথ্য

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইয়াবাগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্য কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে আটক যুবককে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে।

বিষয় : লৌহজংয়ে ইয়াবা উদ্ধার, মুন্সীগঞ্জ মাদক অভিযান, ইমন হোসেন গ্রেফতার,

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


লৌহজংয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লৌহজং থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সাতঘড়িয়া এলাকায় শাহজাহান খন্দকারের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।


আটক ব্যক্তি হলেন মো. ইমন হোসেন (২৫)। তার বাবার নাম শাহ আলম শেখ এবং মায়ের নাম ইয়াসমিন আক্তার। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মেঘুলা এলাকায়। এছাড়া তিনি রাজধানীর শাহআলী থানার মিরপুর-১ নম্বর এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

স্থানীয় পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে। অভিযানের সময় রাস্তার পাশে অবস্থানরত এক যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে তার কাছে থাকা একটি প্যাকেট তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজে মাদক সংগ্রহ করতে পারছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তারা প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।


মাদক বিস্তারে সামাজিক প্রভাব

মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন মন্তব্য করেছেন সচেতন মহলের অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবার মতো মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যাও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মাদকের প্রবেশ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগে শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বিভিন্ন উপজেলাতেও মাদক ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার ও সামাজিক সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের বক্তব্য

লৌহজং থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কোনো মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়।


পুলিশ আরও বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও জানিয়েছে তারা।

তদন্তের পর মিলবে আরও তথ্য

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইয়াবাগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অন্য কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে আটক যুবককে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর