দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৭ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস ২৫ মে থেকে, আজ শুরু টিকিট বিক্রি

ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস ২৫ মে থেকে, আজ শুরু টিকিট বিক্রি

ডিএনসির অস্ত্র প্রশিক্ষণে সেরা হলেন বগুড়ার ডিডি জিললুর রহমান

যশোরে ১২ লাখ টাকার জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ, চার ট্রাকে চলছিল ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের চেষ্টা

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ

নরসিংদীতে টিআরসি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন, পরবর্তী ধাপে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা

ব্রাজিল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: বাণিজ্য ও সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

নওগাঁয় গভীর রাতে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় অভিযান, নগদ টাকা ও প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ আটক ১৫

ভিসা জটিলতায় স্থবির বেনাপোল, যাত্রী কমে বিপাকে সীমান্ত অর্থনীতি

ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস ২৫ মে থেকে, আজ শুরু টিকিট বিক্রি

ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস ২৫ মে থেকে, আজ শুরু টিকিট বিক্রি
ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ কাউন্টারে বাড়ছে টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীদের ভিড়। -ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতি। আজ রোববার থেকেই বিভিন্ন বিলাসবহুল লঞ্চে কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস চালু হবে এবং যাত্রীর চাপ বাড়লে অতিরিক্ত লঞ্চও নামানো হতে পারে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ নৌপথে বাড়ি ফিরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এবারও সেই প্রস্তুতি শুরু করেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।

২৫ থেকে ২৭ মে থাকবে বাড়তি চাপ

অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ২৫, ২৬ ও ২৭ মে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ ও ২৭ মে যাত্রীচাপ সবচেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত লঞ্চ চালানো হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে লঞ্চ মালিকদেরও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদের সময় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কারণে ঢাকা-বরিশাল রুটে সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি চাপ তৈরি হয়। ফলে আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে।

আজ থেকেই কেবিন টিকিট বিক্রি

বরিশালের বিভিন্ন বুকিং কাউন্টার ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই সম্ভাব্য যাত্রীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম স্লিপ জমা দিয়ে রেখেছেন, যাতে টিকিট বিক্রি শুরু হলে দ্রুত কেবিন নিশ্চিত করা যায়।

এম ভি সুন্দরবন লঞ্চের বরিশাল বুকিং অফিসের কর্মী হৃদয় জানান, গত সপ্তাহ থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে প্রাথমিক বুকিং স্লিপ নেওয়া হচ্ছিল। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট দেওয়া শুরু হবে। বিশেষ করে ২৬ ও ২৭ মের টিকিটের জন্য চাপ বেশি।

অন্যদিকে সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষও ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাদের ২৪ ও ২৬ মে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। বুকিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের জন্য গুনতে হবে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

তবে সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শেষ মুহূর্তে টিকিট সংকট তৈরি হলে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠতে পারে। যদিও লঞ্চ মালিক সমিতি দাবি করেছে, এবার সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না।

ঝড়ের মৌসুমে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

বর্ষা ও কালবৈশাখীর সময় হওয়ায় নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। লঞ্চ মালিক সমিতিও জানিয়েছে, দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ছোট নৌকায় করে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি লঞ্চে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও জানান, নৌপথে বয়া, বাতি ও দিকনির্দেশনামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশালের পরিদর্শক জুলফিকার আলী বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবার হয়তো অতিরিক্ত ভিড় হবে না, তারপরও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে এবং যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও আছে।

তিনি বলেন, ২৫ থেকে ২৭ মে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। আবার ঈদের পরবর্তী তিন দিনেও ঘরমুখো মানুষ ঢাকায় ফেরার কারণে একই ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ডেকযাত্রীদের হয়রানি না করার আহ্বান

ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নৌযাত্রী অধিকারকর্মীরাও। নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের বরিশাল অঞ্চলের আহ্বায়ক আ. রশিদ নিলু বলেছেন, ঝড়ের মৌসুম বিবেচনায় রেখে লঞ্চ চালাতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ঈদের সময় অনেক ডেকযাত্রীকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কখনও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, কখনও জায়গা সংকট, আবার কখনও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় যাত্রা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যেন না ওঠে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডেকের যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঈদযাত্রা ঘিরে বাড়ছে ব্যস্ততা

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। সড়কপথে যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে অনেকে এখনও নৌপথকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন। বিশেষ করে রাতে যাত্রা করে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোয় লঞ্চযাত্রার প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

তবে প্রতি ঈদেই নিরাপত্তা, অতিরিক্ত যাত্রী এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অতিরিক্ত লঞ্চ চালু করলেই হবে না; নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি জরুরি। যাত্রীদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় লঞ্চে ওঠা থেকে বিরত থাকতে হবে।


এবার সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে লঞ্চ মালিক, প্রশাসন এবং যাত্রী—সব পক্ষের নজর এখন ঈদযাত্রা কীভাবে নির্বিঘ্ন রাখা যায়, সেদিকে।

বিষয় : ঈদযাত্রা, ঢাকা বরিশাল লঞ্চ, ঈদ স্পেশাল সার্ভিস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস ২৫ মে থেকে, আজ শুরু টিকিট বিক্রি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতি। আজ রোববার থেকেই বিভিন্ন বিলাসবহুল লঞ্চে কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস চালু হবে এবং যাত্রীর চাপ বাড়লে অতিরিক্ত লঞ্চও নামানো হতে পারে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ নৌপথে বাড়ি ফিরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এবারও সেই প্রস্তুতি শুরু করেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।

২৫ থেকে ২৭ মে থাকবে বাড়তি চাপ

অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ২৫, ২৬ ও ২৭ মে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ ও ২৭ মে যাত্রীচাপ সবচেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত লঞ্চ চালানো হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে লঞ্চ মালিকদেরও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদের সময় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কারণে ঢাকা-বরিশাল রুটে সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি চাপ তৈরি হয়। ফলে আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে।

আজ থেকেই কেবিন টিকিট বিক্রি

বরিশালের বিভিন্ন বুকিং কাউন্টার ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই সম্ভাব্য যাত্রীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম স্লিপ জমা দিয়ে রেখেছেন, যাতে টিকিট বিক্রি শুরু হলে দ্রুত কেবিন নিশ্চিত করা যায়।

এম ভি সুন্দরবন লঞ্চের বরিশাল বুকিং অফিসের কর্মী হৃদয় জানান, গত সপ্তাহ থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে প্রাথমিক বুকিং স্লিপ নেওয়া হচ্ছিল। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট দেওয়া শুরু হবে। বিশেষ করে ২৬ ও ২৭ মের টিকিটের জন্য চাপ বেশি।

অন্যদিকে সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষও ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাদের ২৪ ও ২৬ মে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। বুকিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের জন্য গুনতে হবে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

তবে সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শেষ মুহূর্তে টিকিট সংকট তৈরি হলে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠতে পারে। যদিও লঞ্চ মালিক সমিতি দাবি করেছে, এবার সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না।

ঝড়ের মৌসুমে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

বর্ষা ও কালবৈশাখীর সময় হওয়ায় নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। লঞ্চ মালিক সমিতিও জানিয়েছে, দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ছোট নৌকায় করে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি লঞ্চে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও জানান, নৌপথে বয়া, বাতি ও দিকনির্দেশনামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশালের পরিদর্শক জুলফিকার আলী বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবার হয়তো অতিরিক্ত ভিড় হবে না, তারপরও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে এবং যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও আছে।

তিনি বলেন, ২৫ থেকে ২৭ মে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। আবার ঈদের পরবর্তী তিন দিনেও ঘরমুখো মানুষ ঢাকায় ফেরার কারণে একই ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ডেকযাত্রীদের হয়রানি না করার আহ্বান

ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নৌযাত্রী অধিকারকর্মীরাও। নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের বরিশাল অঞ্চলের আহ্বায়ক আ. রশিদ নিলু বলেছেন, ঝড়ের মৌসুম বিবেচনায় রেখে লঞ্চ চালাতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ঈদের সময় অনেক ডেকযাত্রীকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কখনও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, কখনও জায়গা সংকট, আবার কখনও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় যাত্রা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যেন না ওঠে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডেকের যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঈদযাত্রা ঘিরে বাড়ছে ব্যস্ততা

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। সড়কপথে যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে অনেকে এখনও নৌপথকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন। বিশেষ করে রাতে যাত্রা করে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোয় লঞ্চযাত্রার প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

তবে প্রতি ঈদেই নিরাপত্তা, অতিরিক্ত যাত্রী এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অতিরিক্ত লঞ্চ চালু করলেই হবে না; নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি জরুরি। যাত্রীদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় লঞ্চে ওঠা থেকে বিরত থাকতে হবে।


এবার সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে লঞ্চ মালিক, প্রশাসন এবং যাত্রী—সব পক্ষের নজর এখন ঈদযাত্রা কীভাবে নির্বিঘ্ন রাখা যায়, সেদিকে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর