দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার

মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার

১০৬ বছরের ইতিহাসে ইতি, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিটেনের প্রাচীন রোলার কোস্টার

মানবসেবায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ব্রিটেনের রাজার আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যারিস্টার তুষার

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের অভিযোগ: আইন কী বলছে, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

স্কুল ড্রেস পরে মডেল মসজিদে টিকটক, বকশীগঞ্জের এক ছাত্রীকে

মডেল মসজিদে টিকটক ভিডিও: ভাইরাল ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে ইউএনও’র নির্দেশ

এআই প্রযুক্তির স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন আনলো ওয়ালটন, যুক্ত হলো স্টিম ও ওয়াশার-ড্রায়ার সুবিধা

মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার

মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার
মণিরামপুরে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

যশোরের মণিরামপুরে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে সরাসরি ধান কিনতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ধান সংগ্রহের এই উদ্যোগকে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরে অনেক কৃষক বাজারের দামের অনিশ্চয়তা থেকেও কিছুটা মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আশরাফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বিথী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, চালকল মালিক, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে সফল করতে কৃষকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ

উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রতি কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলায় মোট ২ হাজার ২৯৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় তারা খুশি। বাজারে অনেক সময় ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত মূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে কিছু কৃষকের দাবি, নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে বেশি সংখ্যক কৃষক উপকৃত হতে পারবেন। এছাড়া ধান গ্রহণের সময় যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

কৃষি ও খাদ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কিছুটা কমে আসে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি সরকারও নির্ধারিত মজুত নিশ্চিত করতে পারে।

প্রশাসনের নজরদারির আশ্বাস

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েই ধান সংগ্রহ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।


উপজেলা খাদ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ পলাশ আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রান্তিক কৃষক খলিলুর রহমান, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন, সাংবাদিক শাহিনুর রহমান পান্না, চালকল মালিক ও চাতাল ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন এবং আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

বর্তমানে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিষয় : কৃষকের ন্যায্যমূল্য সরকারি খাদ্য গুদাম ধান সংগ্রহ অভিযান ২০২৬ মণিরামপুর বোরো ধান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


মণিরামপুরে শুরু হলো বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

যশোরের মণিরামপুরে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে সরাসরি ধান কিনতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ধান সংগ্রহের এই উদ্যোগকে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরে অনেক কৃষক বাজারের দামের অনিশ্চয়তা থেকেও কিছুটা মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আশরাফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বিথী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, চালকল মালিক, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে সফল করতে কৃষকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ

উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রতি কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলায় মোট ২ হাজার ২৯৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় তারা খুশি। বাজারে অনেক সময় ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত মূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে কিছু কৃষকের দাবি, নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে বেশি সংখ্যক কৃষক উপকৃত হতে পারবেন। এছাড়া ধান গ্রহণের সময় যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

কৃষি ও খাদ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কিছুটা কমে আসে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি সরকারও নির্ধারিত মজুত নিশ্চিত করতে পারে।

প্রশাসনের নজরদারির আশ্বাস

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েই ধান সংগ্রহ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।


উপজেলা খাদ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ পলাশ আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রান্তিক কৃষক খলিলুর রহমান, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন, সাংবাদিক শাহিনুর রহমান পান্না, চালকল মালিক ও চাতাল ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন এবং আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

বর্তমানে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর