দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ১,০০৯

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৫১৬

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,০২৬ জন

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামে ৬০০ শিশুর মৃত্যু: খালি হচ্ছে মায়ের কোল, থামছে না সংক্রমণ

চিকিৎসার চেয়ে ভোগান্তিই বেশি? মুগদা মেডিকেলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাপটে অতিষ্ঠ রোগীরা

চিকিৎসার চেয়ে ভোগান্তিই বেশি? মুগদা মেডিকেলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাপটে অতিষ্ঠ রোগীরা
-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল Mugda Medical College Hospital-এ চিকিৎসা নিতে এসে নতুন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন সাধারণ রোগীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রতিদিনই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে সকাল থেকেই ভিড় করে থাকেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। শুধু তাই নয়, রোগী চিকিৎসা শেষে বের হওয়ার পর প্রেসক্রিপশন দেখতে চাওয়া, মোবাইলে ছবি তোলা কিংবা ঘিরে ধরার মতো ঘটনাও ঘটছে প্রকাশ্যে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।


রোগীর চেয়ে প্রতিনিধি বেশি!

হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই চোখে পড়ে অস্বাভাবিক ভিড়। তবে সেই ভিড়ের বড় অংশই রোগী নয়, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি—এমন অভিযোগ বহু ভুক্তভোগীর।

প্রত্যেক চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি অবস্থান করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কয়েকজন। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—দুপুর ২টার পর প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে অভিযোগ উঠেছে, সকাল ৮টা থেকেই তারা হাসপাতালে প্রবেশ করছেন। অনেক সময় রোগী দেখার মাঝেই চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়ছেন। এতে চিকিৎসকদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

একজন রোগীর স্বজন বলেন, “ডাক্তার দেখাতে এসে মনে হয় যেন ওষুধ কোম্পানির অফিসে ঢুকেছি। চারদিকে শুধু প্রতিনিধি আর প্রতিনিধি।”

প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি!

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগীদের প্রেসক্রিপশন ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর করিডর বা হাসপাতালের গেটের সামনে কয়েকজন প্রতিনিধি রোগীদের ঘিরে ধরেন।

কেউ কেউ রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক রোগী এতে অপমানিত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক রোগীদের জন্য বিষয়টি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠছে। কয়েকজন রোগী জানান, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে এসে এমন আচরণ মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

এক ভুক্তভোগী বলেন, “ডাক্তার কী ওষুধ লিখেছেন, সেটা কেন একজন বাইরের লোক এসে দেখবে? এটা তো ব্যক্তিগত বিষয়।”

আরেকজন বলেন, “কয়েকজন একসঙ্গে ঘিরে ধরলে ভয় লাগে। মনে হয় জোর করেই প্রেসক্রিপশন নিতে চায়।”

নিয়ম আছে, প্রয়োগ নেই?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রমের ওপর নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। মূল উদ্দেশ্য হলো—চিকিৎসা সেবা যেন ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই অভিযোগ। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই অনেক সময় এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি করেছেন রোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতিনিধিদের যোগসাজশও থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে Dr. Md. Nurul Islam জানান, প্রতিনিধিদের প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করা থাকলেও অনেকেই নানা কৌশলে হাসপাতালে ঢুকে পড়েন।

তার ভাষায়, “কখনো রোগীর স্বজন পরিচয়ে, আবার কখনো অন্যভাবে তারা হাসপাতালে প্রবেশ করেন। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে আটক করা হলেও পরে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন রোগীরা। তাদের দাবি, যদি নিয়ম থেকেই থাকে, তাহলে সেটি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় রোগীদের দুর্ভোগ কমবে না।

কেন বাড়ছে এই প্রভাব?

স্বাস্থ্য খাতে ওষুধ কোম্পানির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও নতুন ওষুধ সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের একটি ভূমিকা থাকলেও সেটি যেন রোগীদের ভোগান্তির কারণ না হয়—নীতিমালার মূল বক্তব্য এমনই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকায় অনেক সময় প্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। ফলে তারা হাসপাতালভিত্তিক প্রচারণায় আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন।

কিন্তু এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ রোগীদের ওপর। চিকিৎসকের সময় কমে যায়, পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয় এবং রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

রোগীর গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসক্রিপশন বা রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। রোগীর অনুমতি ছাড়া তা সংগ্রহ করা বা ছবি তোলা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশেষ করে নারী রোগী কিংবা জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ফলে শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমাধান কী?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে কেবল অভিযান চালালেই হবে না, নিয়মের কঠোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং Directorate General of Health Services-কে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এছাড়া হাসপাতালে ডিজিটাল প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আলাদা ভিজিটর পাস এবং প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট সময় কঠোরভাবে অনুসরণ করার দাবি উঠেছে।

রোগীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ জোর করে প্রেসক্রিপশন নিতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসংহার

রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালটিতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যদি বাড়তি হয়রানির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেটি পুরো স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার জন্যই প্রশ্ন তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই সাধারণ মানুষ, যারা সরকারি হাসপাতালের ওপরই ভরসা করে চিকিৎসা নিতে আসেন।

বিষয় : চিকিৎসা হয়রানি নিয়ন্ত্রণহীন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চিকিৎসার চেয়ে ভোগান্তিই বেশি? মুগদা মেডিকেলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাপটে অতিষ্ঠ রোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল Mugda Medical College Hospital-এ চিকিৎসা নিতে এসে নতুন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন সাধারণ রোগীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রতিদিনই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে সকাল থেকেই ভিড় করে থাকেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। শুধু তাই নয়, রোগী চিকিৎসা শেষে বের হওয়ার পর প্রেসক্রিপশন দেখতে চাওয়া, মোবাইলে ছবি তোলা কিংবা ঘিরে ধরার মতো ঘটনাও ঘটছে প্রকাশ্যে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।


রোগীর চেয়ে প্রতিনিধি বেশি!

হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই চোখে পড়ে অস্বাভাবিক ভিড়। তবে সেই ভিড়ের বড় অংশই রোগী নয়, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি—এমন অভিযোগ বহু ভুক্তভোগীর।

প্রত্যেক চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি অবস্থান করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কয়েকজন। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—দুপুর ২টার পর প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে অভিযোগ উঠেছে, সকাল ৮টা থেকেই তারা হাসপাতালে প্রবেশ করছেন। অনেক সময় রোগী দেখার মাঝেই চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়ছেন। এতে চিকিৎসকদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

একজন রোগীর স্বজন বলেন, “ডাক্তার দেখাতে এসে মনে হয় যেন ওষুধ কোম্পানির অফিসে ঢুকেছি। চারদিকে শুধু প্রতিনিধি আর প্রতিনিধি।”

প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি!

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগীদের প্রেসক্রিপশন ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর করিডর বা হাসপাতালের গেটের সামনে কয়েকজন প্রতিনিধি রোগীদের ঘিরে ধরেন।

কেউ কেউ রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক রোগী এতে অপমানিত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক রোগীদের জন্য বিষয়টি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠছে। কয়েকজন রোগী জানান, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে এসে এমন আচরণ মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

এক ভুক্তভোগী বলেন, “ডাক্তার কী ওষুধ লিখেছেন, সেটা কেন একজন বাইরের লোক এসে দেখবে? এটা তো ব্যক্তিগত বিষয়।”

আরেকজন বলেন, “কয়েকজন একসঙ্গে ঘিরে ধরলে ভয় লাগে। মনে হয় জোর করেই প্রেসক্রিপশন নিতে চায়।”

নিয়ম আছে, প্রয়োগ নেই?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রমের ওপর নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। মূল উদ্দেশ্য হলো—চিকিৎসা সেবা যেন ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই অভিযোগ। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই অনেক সময় এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি করেছেন রোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতিনিধিদের যোগসাজশও থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে Dr. Md. Nurul Islam জানান, প্রতিনিধিদের প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করা থাকলেও অনেকেই নানা কৌশলে হাসপাতালে ঢুকে পড়েন।

তার ভাষায়, “কখনো রোগীর স্বজন পরিচয়ে, আবার কখনো অন্যভাবে তারা হাসপাতালে প্রবেশ করেন। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে আটক করা হলেও পরে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন রোগীরা। তাদের দাবি, যদি নিয়ম থেকেই থাকে, তাহলে সেটি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় রোগীদের দুর্ভোগ কমবে না।

কেন বাড়ছে এই প্রভাব?

স্বাস্থ্য খাতে ওষুধ কোম্পানির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও নতুন ওষুধ সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের একটি ভূমিকা থাকলেও সেটি যেন রোগীদের ভোগান্তির কারণ না হয়—নীতিমালার মূল বক্তব্য এমনই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকায় অনেক সময় প্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। ফলে তারা হাসপাতালভিত্তিক প্রচারণায় আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন।

কিন্তু এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ রোগীদের ওপর। চিকিৎসকের সময় কমে যায়, পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয় এবং রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

রোগীর গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসক্রিপশন বা রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। রোগীর অনুমতি ছাড়া তা সংগ্রহ করা বা ছবি তোলা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশেষ করে নারী রোগী কিংবা জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ফলে শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমাধান কী?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে কেবল অভিযান চালালেই হবে না, নিয়মের কঠোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং Directorate General of Health Services-কে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এছাড়া হাসপাতালে ডিজিটাল প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আলাদা ভিজিটর পাস এবং প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট সময় কঠোরভাবে অনুসরণ করার দাবি উঠেছে।

রোগীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ জোর করে প্রেসক্রিপশন নিতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসংহার

রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালটিতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যদি বাড়তি হয়রানির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেটি পুরো স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার জন্যই প্রশ্ন তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই সাধারণ মানুষ, যারা সরকারি হাসপাতালের ওপরই ভরসা করে চিকিৎসা নিতে আসেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর