রাজধানীর উত্তরায় বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সাংবাদিক। দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছে। পুলিশ বলছে, বাসটি শনাক্ত করে চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত-এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখে ফেরার পথেই শেষ যাত্রা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন তারা। খেলা শেষে ভোরে বাসায় ফেরার পথে জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির বাস তাদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া
নিহত রবিউল আলম রাজু উত্তরা প্রেসক্লাবের আপ্যায়ন সম্পাদক এবং সাকিবুল হাসান অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমেও তারা সক্রিয় ছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে যায়। বাসটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতদের মরদেহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিদিন রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের সময় দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ব্যস্ত নগরীতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে, দুর্ঘটনার পর অনেক চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তদন্ত জটিল হয় এবং বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা জরুরি।
এই দুর্ঘটনা শুধু দুটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি দেখিয়ে দিল যে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাতেও ভোরের সময় পথচারীদের নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার পর শুরু হলেও, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী উদ্যোগের অভাব বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন; হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে যায়।
পুলিশ বাস শনাক্ত ও চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করা হয়, কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নাগরিকদের প্রত্যাশা, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেবে।
এদিকে নিহত দুই সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সহকর্মী, সাংবাদিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সাংবাদিক। দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছে। পুলিশ বলছে, বাসটি শনাক্ত করে চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত-এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখে ফেরার পথেই শেষ যাত্রা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন তারা। খেলা শেষে ভোরে বাসায় ফেরার পথে জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির বাস তাদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া
নিহত রবিউল আলম রাজু উত্তরা প্রেসক্লাবের আপ্যায়ন সম্পাদক এবং সাকিবুল হাসান অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমেও তারা সক্রিয় ছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে যায়। বাসটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতদের মরদেহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিদিন রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের সময় দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ব্যস্ত নগরীতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে, দুর্ঘটনার পর অনেক চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তদন্ত জটিল হয় এবং বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা জরুরি।
এই দুর্ঘটনা শুধু দুটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি দেখিয়ে দিল যে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাতেও ভোরের সময় পথচারীদের নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার পর শুরু হলেও, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী উদ্যোগের অভাব বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন; হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে যায়।
পুলিশ বাস শনাক্ত ও চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করা হয়, কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নাগরিকদের প্রত্যাশা, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেবে।
এদিকে নিহত দুই সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সহকর্মী, সাংবাদিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন