দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দ, নিয়োগ দেওয়া হবে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দ, নিয়োগ দেওয়া হবে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে, সামান্য জ্বরেও বাড়ছে শকে যাওয়ার ঝুঁকি

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছাড়াল, দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জনস্বাস্থ্যবিদদের

হামের উপসর্গে একদিনে ১১ শিশুর মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ

রামেকে ৪ দিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১০৭

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইন

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৯২

হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: একদিনে ১,২২৯ নতুন সন্দেহভাজন রোগী

হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: একদিনে ১,২২৯ নতুন সন্দেহভাজন রোগী
-ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১,২২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।  বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে ১২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২৭ হাজার ১৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। সংখ্যাটি বিশেষজ্ঞদের কাছে চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়া সাধারণ ঘটনা নয়।

এছাড়া এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৮৯২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকিদের চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে।

মৃত্যুর দিক থেকেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তির নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ৩৮ জন মারা গেছেন। আর একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের হাম প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করে থাকে। এর ফলে অতীতে কয়েকবার হাম সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবের কারণে আবার সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম সন্দেহ হলেই দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হলে সংক্রমণ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে হাম পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং টিকা

বিষয় : হাম পরিস্থিতি রোগী উদ্বেগজনক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: একদিনে ১,২২৯ নতুন সন্দেহভাজন রোগী

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১,২২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।  বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে ১২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২৭ হাজার ১৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। সংখ্যাটি বিশেষজ্ঞদের কাছে চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়া সাধারণ ঘটনা নয়।

এছাড়া এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৮৯২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকিদের চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে।

মৃত্যুর দিক থেকেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তির নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ৩৮ জন মারা গেছেন। আর একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের হাম প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করে থাকে। এর ফলে অতীতে কয়েকবার হাম সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবের কারণে আবার সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম সন্দেহ হলেই দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হলে সংক্রমণ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে হাম পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং টিকা


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর