মৃত্যুর পরও শেষ হয়নি আতঙ্ক। সদ্য দাফন করা কবর ঘিরে রাতভর লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন ছেলে, ভাই-ভাতিজাসহ স্বজন ও গ্রামবাসী। কবরের চারপাশে জ্বালানো হয়েছে আলো। এমন হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে।
সম্প্রতি বজ্রপাতে নিহত হন এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অতীতে কবর থেকে মরদেহ চুরির অভিযোগ এবং বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে অপতৎপরতার গুঞ্জনের কারণে তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই দাফনের পর থেকেই পালাক্রমে কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতে কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ শোনার পর থেকেই তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কবরের চারপাশে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাতে লাঠি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে স্বজনরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—কোনো দুর্বৃত্ত যেন কবরের ক্ষতি করতে না পারে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এনায়েতপুর গ্রামেই নয়, নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে অনেক পরিবার একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।
তাদের মতে, অতীতের কিছু ঘটনার পর থেকেই এমন ভয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিত তথ্য সবসময় পাওয়া যায় না, তবুও গ্রামাঞ্চলে এ নিয়ে উদ্বেগ ও গুঞ্জন দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর পর কয়েকটি পরিবার কবর পাহারা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
তবে এই সংখ্যা এবং কবর পাহারার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল বলছে, যদি সত্যিই কবর থেকে লাশ চুরি বা এ ধরনের কোনো অপরাধচক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা মনে করেন, কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত মানুষের মধ্যে বিদ্যমান আতঙ্ক দূর করতে সহায়ক হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোকের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এবং গুজব বা পূর্বের ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে দমন করা যেমন জরুরি, তেমনি যাচাই না হওয়া তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, স্বজনরা শোক পালনের পরিবর্তে রাত জেগে কবর পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি কেবল একটি পরিবারের মানসিক চাপের চিত্র নয়, বরং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগেরও প্রতিফলন।
গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ মনে করেন, কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং যেকোনো লাশ চুরির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হলে মানুষের মধ্যে এমন আতঙ্ক কমবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে গুজব ছড়িয়ে না দেওয়ার বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
মৃত্যুর পরও শেষ হয়নি আতঙ্ক। সদ্য দাফন করা কবর ঘিরে রাতভর লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন ছেলে, ভাই-ভাতিজাসহ স্বজন ও গ্রামবাসী। কবরের চারপাশে জ্বালানো হয়েছে আলো। এমন হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে।
সম্প্রতি বজ্রপাতে নিহত হন এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অতীতে কবর থেকে মরদেহ চুরির অভিযোগ এবং বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে অপতৎপরতার গুঞ্জনের কারণে তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই দাফনের পর থেকেই পালাক্রমে কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতে কবর থেকে লাশ চুরির অভিযোগ শোনার পর থেকেই তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কবরের চারপাশে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাতে লাঠি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে স্বজনরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—কোনো দুর্বৃত্ত যেন কবরের ক্ষতি করতে না পারে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এনায়েতপুর গ্রামেই নয়, নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে অনেক পরিবার একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।
তাদের মতে, অতীতের কিছু ঘটনার পর থেকেই এমন ভয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিত তথ্য সবসময় পাওয়া যায় না, তবুও গ্রামাঞ্চলে এ নিয়ে উদ্বেগ ও গুঞ্জন দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নওগাঁ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর পর কয়েকটি পরিবার কবর পাহারা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
তবে এই সংখ্যা এবং কবর পাহারার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল বলছে, যদি সত্যিই কবর থেকে লাশ চুরি বা এ ধরনের কোনো অপরাধচক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা মনে করেন, কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত মানুষের মধ্যে বিদ্যমান আতঙ্ক দূর করতে সহায়ক হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোকের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এবং গুজব বা পূর্বের ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে দমন করা যেমন জরুরি, তেমনি যাচাই না হওয়া তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, স্বজনরা শোক পালনের পরিবর্তে রাত জেগে কবর পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি কেবল একটি পরিবারের মানসিক চাপের চিত্র নয়, বরং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগেরও প্রতিফলন।
গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ মনে করেন, কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবং যেকোনো লাশ চুরির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হলে মানুষের মধ্যে এমন আতঙ্ক কমবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে গুজব ছড়িয়ে না দেওয়ার বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন