দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ

মণিরামপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৬ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ, আটক ১

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য

নওগাঁয় গভীর রাতে মহাসড়ক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম

কটিয়াদীতে বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

খিলক্ষেতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

৪৫ বছর পরও স্মরণে জিয়া: রাজধানীতে দুঃস্থদের পাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সিরাপ ও বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য।

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব মালামালের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (৩ জুন) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। সীমান্তপথে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সীমান্তজুড়ে বিশেষ নজরদারি

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, যশোর ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহলদল, বেনাপোল বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ, ১৬টি শাড়ি, একটি কম্বল, ৭টি জর্দা, ১০ প্যাকেট ফুসকা, ১২০টি চকলেট এবং ৩৪০টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।


তবে এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা মালামাল ফেলে দ্রুত সরে পড়ে।

তিন লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা। সীমান্তপথে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

বিশেষ করে নেশাজাতীয় সিরাপ ও বিদেশি কসমেটিকস পণ্যের চাহিদা থাকায় চোরাকারবারিরা এসব পণ্য সীমান্ত দিয়ে আনার চেষ্টা করে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য।

মাদক ও চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

তিনি জানান, সীমান্তে সক্রিয় পাচারচক্রকে আইনের আওতায় আনতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।


সীমান্তে চোরাচালান কেন থামছে না?

সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় মুনাফার লোভে বিভিন্ন চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেকারত্ব, সহজে অর্থ আয়ের প্রলোভন এবং অবৈধ বাণিজ্যের নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে চোরাচালান ও মাদক পাচারের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : বিজিবি অভিযান বেনাপোল সীমান্ত চোরাচালান পণ্য জব্দ নেশাজাতীয় সিরাপ আটক যশোর সীমান্ত সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব মালামালের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (৩ জুন) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। সীমান্তপথে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সীমান্তজুড়ে বিশেষ নজরদারি

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, যশোর ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহলদল, বেনাপোল বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ, ১৬টি শাড়ি, একটি কম্বল, ৭টি জর্দা, ১০ প্যাকেট ফুসকা, ১২০টি চকলেট এবং ৩৪০টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।


তবে এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা মালামাল ফেলে দ্রুত সরে পড়ে।

তিন লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা। সীমান্তপথে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

বিশেষ করে নেশাজাতীয় সিরাপ ও বিদেশি কসমেটিকস পণ্যের চাহিদা থাকায় চোরাকারবারিরা এসব পণ্য সীমান্ত দিয়ে আনার চেষ্টা করে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য।

মাদক ও চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

তিনি জানান, সীমান্তে সক্রিয় পাচারচক্রকে আইনের আওতায় আনতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।


সীমান্তে চোরাচালান কেন থামছে না?

সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় মুনাফার লোভে বিভিন্ন চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেকারত্ব, সহজে অর্থ আয়ের প্রলোভন এবং অবৈধ বাণিজ্যের নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে চোরাচালান ও মাদক পাচারের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর