দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য

নওগাঁয় গভীর রাতে মহাসড়ক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম

কটিয়াদীতে বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

খিলক্ষেতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ

৪৫ বছর পরও স্মরণে জিয়া: রাজধানীতে দুঃস্থদের পাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা

দিনাজপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত, লাখো মুসল্লির তাকবিরে মুখর গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাজুড়ে কোরবানি, কসাই সংকট কমায় স্বস্তি নগরবাসীর

সেনানিবাসে আবেগঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বললেন— ‘সবাই দায়িত্ব পালন করলে গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য
আদালতে হাজিরা শেষে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের ঘিরে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক।

রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল আদালত প্রাঙ্গণে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নতুন কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে হাজির করার সময় তিনি দাবি করেন, তিনি ধর্ষণ কিংবা হত্যার সঙ্গে জড়িত নন; বরং কেবল লাশ গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে তিনি “ডলার” নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।

তবে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি, আসামির পূর্ববর্তী বক্তব্য এবং আইনজীবীদের মন্তব্যের কারণে নতুন এই দাবিগুলো নিয়ে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে কী বললেন আসামি?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে নেওয়ার সময় সোহেল উচ্চস্বরে দাবি করেন যে তিনি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “ডলার” নামে একজন ব্যক্তি মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


তবে সোহেলের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও “ডলার” নামের কোনো ব্যক্তির বিষয়ে তিনি আগে তাকে কিছু জানাননি।

আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ফরেনসিক ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, তদন্তের বিভিন্ন দিক আদালতে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী শুনানিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে?

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোহেল শিশুটিকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শিশুটি চিৎকার করলে তাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ঘটনার পর প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি এবং মামলাটি বিচারাধীন।

আদালতে আবেগঘন পরিস্থিতি

শুনানির সময় অপর এক আসামি স্বপ্না কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজের নির্দোষতার দাবি জানান। এ সময় সোহেলও তার স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন জানিয়েছেন।

তবে আদালত এখনও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

নতুন দাবি নিয়ে প্রশ্ন

আইনজীবী ও মামলাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, সোহেলের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং গ্রেপ্তারের পর তার পূর্ববর্তী অবস্থানের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।

কারণ, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক পর্যায়ে আদালতে হাজির করার সময় তিনি প্রকাশ্যে এমন কোনো দাবি করেননি বলে জানা যায়। অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গেও তার বর্তমান বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে।

এ কারণে “ডলার” নামে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার অস্তিত্ব, পরিচয় ও সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচিত ও সংবেদনশীল মামলাগুলোতে বিচারপ্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ হতে পারে। কারণ আদালতকে সাক্ষ্য, ফরেনসিক তথ্য, জবানবন্দি, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।


তারা বলছেন, কোনো আসামির দাবি বা অস্বীকারই চূড়ান্ত নয়; একইভাবে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও আদালতের বিচারে যাচাইয়ের বিষয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই মামলার প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

অপেক্ষা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের

শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার দ্রুত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।

সবশেষে, মামলাটি এখনও বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

বিষয় : রামিসা হত্যা মামলা বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ মিরপুর শিশু হত্যা আদালতে আসামির দাবি আলোচিত হত্যা মামলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি রামিসা হত্যা মামলার আসামির, নতুন অভিযোগে চাঞ্চল্য

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল আদালত প্রাঙ্গণে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নতুন কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে হাজির করার সময় তিনি দাবি করেন, তিনি ধর্ষণ কিংবা হত্যার সঙ্গে জড়িত নন; বরং কেবল লাশ গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে তিনি “ডলার” নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।

তবে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি, আসামির পূর্ববর্তী বক্তব্য এবং আইনজীবীদের মন্তব্যের কারণে নতুন এই দাবিগুলো নিয়ে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে কী বললেন আসামি?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে নেওয়ার সময় সোহেল উচ্চস্বরে দাবি করেন যে তিনি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “ডলার” নামে একজন ব্যক্তি মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


তবে সোহেলের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও “ডলার” নামের কোনো ব্যক্তির বিষয়ে তিনি আগে তাকে কিছু জানাননি।

আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ফরেনসিক ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। তিনি দাবি করেন, তদন্তের বিভিন্ন দিক আদালতে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী শুনানিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে?

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোহেল শিশুটিকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শিশুটি চিৎকার করলে তাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ঘটনার পর প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি এবং মামলাটি বিচারাধীন।

আদালতে আবেগঘন পরিস্থিতি

শুনানির সময় অপর এক আসামি স্বপ্না কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজের নির্দোষতার দাবি জানান। এ সময় সোহেলও তার স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন জানিয়েছেন।

তবে আদালত এখনও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

নতুন দাবি নিয়ে প্রশ্ন

আইনজীবী ও মামলাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, সোহেলের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং গ্রেপ্তারের পর তার পূর্ববর্তী অবস্থানের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।

কারণ, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক পর্যায়ে আদালতে হাজির করার সময় তিনি প্রকাশ্যে এমন কোনো দাবি করেননি বলে জানা যায়। অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গেও তার বর্তমান বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে।

এ কারণে “ডলার” নামে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার অস্তিত্ব, পরিচয় ও সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচিত ও সংবেদনশীল মামলাগুলোতে বিচারপ্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ হতে পারে। কারণ আদালতকে সাক্ষ্য, ফরেনসিক তথ্য, জবানবন্দি, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।


তারা বলছেন, কোনো আসামির দাবি বা অস্বীকারই চূড়ান্ত নয়; একইভাবে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও আদালতের বিচারে যাচাইয়ের বিষয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই মামলার প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

অপেক্ষা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের

শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার দ্রুত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।

সবশেষে, মামলাটি এখনও বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর