দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সব মিলিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ৮২৬ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় আরও ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৯০৫ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮৫।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনও হাসপাতালে যাচ্ছেন না অথবা পরীক্ষার আওতায় আসছেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আড়াই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ হাজার ৯২৬ জন।
তবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর চাপ দ্রুত বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা বাড়ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মারা গেছেন ৪৭৭ জন। এছাড়া পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন আরও ৮৮ জন।
সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করার কথা বলছে, তবে অনেক এলাকাতেই টিকাদান কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছু এলাকায় অভিভাবকদের অসচেতনতা, টিকা নিয়ে ভুল ধারণা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাকেও সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত টিকাদানে কিছুটা ভাটা পড়েছে। করোনাকাল পরবর্তী সময়ে অনেক শিশু সময়মতো টিকা নিতে পারেনি। ফলে বড় একটি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
এছাড়া জনবহুল এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না; পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনও পূর্ণ টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশুর শরীরে জ্বরের সঙ্গে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
তারা আরও বলছেন, অনেক পরিবার এখনও হামকে সাধারণ জ্বর মনে করে বাসায় চিকিৎসা করাচ্ছে। এতে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটি বলছে, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।
এছাড়া আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সব মিলিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ৮২৬ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় আরও ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৯০৫ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮৫।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনও হাসপাতালে যাচ্ছেন না অথবা পরীক্ষার আওতায় আসছেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আড়াই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ হাজার ৯২৬ জন।
তবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর চাপ দ্রুত বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা বাড়ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মারা গেছেন ৪৭৭ জন। এছাড়া পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন আরও ৮৮ জন।
সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করার কথা বলছে, তবে অনেক এলাকাতেই টিকাদান কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছু এলাকায় অভিভাবকদের অসচেতনতা, টিকা নিয়ে ভুল ধারণা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাকেও সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত টিকাদানে কিছুটা ভাটা পড়েছে। করোনাকাল পরবর্তী সময়ে অনেক শিশু সময়মতো টিকা নিতে পারেনি। ফলে বড় একটি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
এছাড়া জনবহুল এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না; পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনও পূর্ণ টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিশুর শরীরে জ্বরের সঙ্গে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
তারা আরও বলছেন, অনেক পরিবার এখনও হামকে সাধারণ জ্বর মনে করে বাসায় চিকিৎসা করাচ্ছে। এতে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটি বলছে, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।
এছাড়া আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন