দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইনান্সিং স্কিমে যুক্ত হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

এনআরবিসি ব্যাংকের এমটিওদের ৩ সপ্তাহের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

দেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা ও চিত্র প্রদর্শনী

পিআরআই সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় বাড়ালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে

বাংলাদেশের চা শিল্পে সংকট ও সম্ভাবনা: সমন্বিত উদ্যোগে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন রক সল্ট আটকে দেওয়া হলো

রাজধানীর উচ্ছেদ হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর উচ্ছেদ হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী
-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, উচ্ছেদ করা হকারদের এমন জায়গায় বসানো উচিত যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা চালাতে পারবেন। শুধু জায়গা দিলেই হবে না, সেই স্থান যেন ব্যবসার জন্য উপযোগী হয় এবং মানুষ সহজে সেখানে যেতে পারে—এ বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত হকার উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে মিরপুর-১, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন এবং গুলিস্তান এলাকা উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের পাশে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হকাররা। উচ্ছেদের ফলে হঠাৎ করেই তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকার বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি তাদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকার আওতায় আনা হবে। এজন্য নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রত্যেক হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এতে করে কে কোথায় ব্যবসা করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজে ক্লাস শুরু এবং ছুটির সময় সড়কে অতিরিক্ত যানজট তৈরি হয়। এর একটি বড় কারণ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এলোমেলো গাড়ি পার্কিং। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব মাঠের একটি অংশ পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসকসহ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবারও হকাররা একই জায়গায় ফিরে আসেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে পুনর্বাসনের অভাব এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকা উল্লেখ করা হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজধানীর অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাত হিসেবে হকারদের ভূমিকা। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য তারা কম দামে পণ্য সরবরাহ করেন। ফলে হকার উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ওপরও প্রভাব পড়ে। তাই এখন সরকারের এই পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে অনেকেই ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে বাস্তবায়নই এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকগুলোই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকারের এই নতুন নির্দেশনা একদিকে যেমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়, অন্যদিকে রাজধানীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনারও একটি সুযোগ তৈরি করে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং এতে হকারদের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর হকারদের

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬


রাজধানীর উচ্ছেদ হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, উচ্ছেদ করা হকারদের এমন জায়গায় বসানো উচিত যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা চালাতে পারবেন। শুধু জায়গা দিলেই হবে না, সেই স্থান যেন ব্যবসার জন্য উপযোগী হয় এবং মানুষ সহজে সেখানে যেতে পারে—এ বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত হকার উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে মিরপুর-১, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন এবং গুলিস্তান এলাকা উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের পাশে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হকাররা। উচ্ছেদের ফলে হঠাৎ করেই তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকার বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি তাদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকার আওতায় আনা হবে। এজন্য নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রত্যেক হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এতে করে কে কোথায় ব্যবসা করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজে ক্লাস শুরু এবং ছুটির সময় সড়কে অতিরিক্ত যানজট তৈরি হয়। এর একটি বড় কারণ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এলোমেলো গাড়ি পার্কিং। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব মাঠের একটি অংশ পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসকসহ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবারও হকাররা একই জায়গায় ফিরে আসেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে পুনর্বাসনের অভাব এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকা উল্লেখ করা হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজধানীর অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাত হিসেবে হকারদের ভূমিকা। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য তারা কম দামে পণ্য সরবরাহ করেন। ফলে হকার উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ওপরও প্রভাব পড়ে। তাই এখন সরকারের এই পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে অনেকেই ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে বাস্তবায়নই এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকগুলোই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকারের এই নতুন নির্দেশনা একদিকে যেমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়, অন্যদিকে রাজধানীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনারও একটি সুযোগ তৈরি করে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং এতে হকারদের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর